Bartaman Logo
১১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আজ তাহেরপুরে অভিষেকের সভা

আজ, শুক্রবার তাহেরপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা ঘিরে দক্ষিণ নদীয়ার তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ তুঙ্গে।

আজ তাহেরপুরে অভিষেকের সভা
  • ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: আজ, শুক্রবার তাহেরপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা ঘিরে দক্ষিণ নদীয়ার তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ তুঙ্গে। সভাকে ঘিরে জেলাজুড়ে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ ও উত্তাপ বাড়ছে। শাসকদলের দাবি, এই জনসভা ঘিরে যে প্রস্তুতি এবং আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা বিগত দিনের যেকোনও কর্মসূচিকে ছাপিয়ে যাবে। তৃণমূল সূত্রে খবর, লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই বিস্তৃত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ব্লক ও অঞ্চল থেকে কর্মী-সমর্থকদের আনতে প্রায় ১২০০টি বাস ভাড়া নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ছোট গাড়ি, ম্যাটাডর, অটো ও টোটো মিলিয়ে কয়েক হাজার যানবাহনে দলীয় কর্মী-সমর্থকরা আসবেন। আর এদিনের সভা থেকে মতুয়াদের উদ্দেশে কী বার্তা দেন সেদিকেও নজর থাকবে সকলের। যদিও বিজেপির দাবি, দক্ষিণ নদীয়ার ভোটাররা ইতিমধ্যেই তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছে। আগামী নির্বাচনেও তারই পুনরাবৃত্তি হবে।

Advertisement


দক্ষিণ নদীয়া ছাড়াও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের উপস্থিতির উপরও জোর দিচ্ছে তৃণমূল। অনেক এলাকায় রেল যোগাযোগ সুবিধাজনক হওয়ায় ট্রেনপথে বিপুল সংখ্যক মানুষ সভাস্থলের দিকে রওনা দেবেন বলে অনুমান। তাহেরপুর স্টেশন থেকে সভাস্থলে পৌঁছে দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত টোটো ও অটো পরিষেবার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বুথভিত্তিক সংগঠনকে সক্রিয় করে প্রত্যেক বুথ থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মী-সমর্থক নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য ধার্য করা হয়েছে। বিশেষ করে মহিলা ও মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোটারদের উপস্থিতি বাড়াতে আলাদা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। 
তাহেরপুরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকেও গুরুত্ব দিচ্ছে শাসকদল। যে পুরসভা এলাকায় সভা হচ্ছে, তা বর্তমানে বামফ্রন্টের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রাজ্যে একমাত্র বাম পরিচালিত পুরসভা হল তাহেরপুর। ফলে এই এলাকায় বড় জমায়েত করে শক্তি প্রদর্শন করাকে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে এই সভায় নজিরবিহীন জনসমাগম হবে। সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্বাচনে দক্ষিণ নদীয়ায় পিছিয়ে পড়ার পর এই কর্মসূচিকে সামনে রেখে সংগঠনকে নবউদ্দীপনায় উজ্জীবিত করার চেষ্টা চলছে। সভার আগে সাংগঠনিক জেলাজুড়ে দেওয়াল লিখন, পথসভা ও প্রচার-অভিযান চলেছে।


রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় জানান, জেলাজুড়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহ স্পষ্ট। তাঁর দাবি, ট্রেন ও সড়কপথ, উভয় পথেই বিস্তর মানুষ তাহেরপুরের সভায় উপস্থিত থাকবেন। অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে এই দাবিকে খারিজ করা হয়েছে। নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার বিজেপি মুখপাত্র সোমনাথ করের বক্তব্য, শাসকদল বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে না পেরে কল্পনায় ভাসছে। তাঁর দাবি, দক্ষিণ নদীয়ার ভোটাররা ইতিমধ্যেই তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আগামী নির্বাচনে সেই বার্তাই আরও জোরালো হবে।
সব মিলিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সভাকে ঘিরে দুই শিবিরেই রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রস্তুতির পাশাপাশি জনসমাগম কেমন হয়, সেই দিকেই এখন নজর জেলাবাসীর।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ