Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রবি ঠাকুরের হাতে উদ্বোধন, জট কাটছে সেই বাসন্তী কটন মিলের

১৯৩৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। দুর্গাপুজোর আগেই পানিহাটির বুকে নেমে এসেছিল উৎসবের আবহ। বাসন্তী কটন মিলের উদ্বোধন হয় সেদিন। উদ্বোধক ছিলেন স্বয়ং বিশ্বকবি।

রবি ঠাকুরের হাতে উদ্বোধন, জট কাটছে সেই বাসন্তী কটন মিলের
  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ১৯৩৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। দুর্গাপুজোর আগেই পানিহাটির বুকে নেমে এসেছিল উৎসবের আবহ। বাসন্তী কটন মিলের উদ্বোধন হয় সেদিন। উদ্বোধক ছিলেন স্বয়ং বিশ্বকবি। অতিথিদের আসন ছিল আক্ষরিক অর্থেই তারকাখচিত। আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, ডাঃ নীলরতন সরকার প্রমুখ। যাঁর নামে এই কটন মিল, তিনি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের স্ত্রী বাসন্তীদেবী। সেদিন উদ্বোধনী ভাষণে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, ‘তাহারা যেন লক্ষ্মীদেবীর এমন একটি পূজাবেদী নির্মাণ করতে পারেন, যেখানে তাদের অর্জিত অর্থ জাতীয় অর্থ বলিয়া বিবেচিত হইবে। এবং তাহারা যেন ওই অর্থ দ্বারা অন্তত কিয়ৎ পরিমাণে নিরক্ষরতা, অস্বাস্থ্য ও নিরানন্দ দূর করতে পারেন’ (তথ্যসূত্র- ইতিহাসবিদ শেখর শেঠের বই)। এহেন ঐতিহাসিক সুতোকলের সুদিন বহু আগেই গত হয়েছিল। ধুঁকতে থাকা কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় ১৯৮৭ সালের মে মাসে। এরপর শুরু হয় নানা জটিলতা। শ্রমিকরা তাঁদের ন্যায্য পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার দাবিতে সরব হন। জমির মালিকানার হাতবদল হয় একাঝিকবার। বিভিন্ন পক্ষ সুবিচার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়। অবশেষে হাইকোর্টের নির্দেশে শ্রমিকদের পাওনাগণ্ডা মিটিয়ে কারখানার জমি হাতে পেতে উদ্যোগী হয়েছে বর্তমান মালিকপক্ষ। ইতিমধ্যে তারা আদালতের নির্দেশমতো ‘এসকো অ্যাকাউন্ট’-এ প্রায় ১৩ কোটি টাকা জমা করেছে। প্রায় ৫০০ শ্রমিক বা তাঁদের আইনি উত্তরাধিকারী টাকা পেয়ে গিয়েছেন। কিন্তু কটন মিল ও দু’টি শ্রমিক আবাসন মিলিয়ে প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে আগামী দিনে কী হতে চলেছে—তা নিয়েই জোর চর্চা চলছে পানিহাটিজুড়ে। ইতিপূর্বে পানিহাটির মানুষ বঙ্গশ্রী কটন মিল বা বঙ্গোদয় কটন মিলের পরিণতি দেখেছে। এক সময়ে যেসব কারখানায় হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করতেন, এখন সেখানে অভিজাত আবাসন! এক্ষেত্রেও কি কারখানার বিশাল জমিতে মাথা তুলবে বহুতল? উৎসবের আবহেও এই প্রশ্নে জল্পনা বাড়ছে পানিহাটি-সোদপুরে। 

Advertisement

হাইকোর্ট নির্দেশে জানিয়েছে, চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কারখানার শ্রমিকদের মোট পাওনা ১২ কোটি ৯৮ লক্ষ ৩৬ হাজার ৯০ টাকা মিটিয়ে দিতে হবে। কারখানার শ্রমিক কিংবা তাঁদের নমিনি বা আইনি উত্তরাধিকারীদের টাকা দিতে হবে। তাঁদের চিহ্নিতকরণ এবং টাকা বণ্টনের জন্য দুই শ্রমিক সংগঠন থেকে দু’জন প্রতিনিধি ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। সেখানে আইএনটিইউসি অনুমোদিত বাসন্তী কটন মিলের কর্মচারী সমিতির সভাপতি হিসেবে রয়েছেন নির্মল ঘোষ। আছেন সিটু অনুমোদিত বাসন্তী কটন মিল মজদুর ইউনিয়নের সম্পাদক অসীমকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কমিটির কাজকর্ম নজরে রাখা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার জন্য হাইকোর্ট একজনকে নিয়োগ করেছে। বি টি রোডের উপর কারখানার প্রায় ৩৯ বিঘা জমি, মহেশ ব্যানার্জি রোড ও তারাপুকুরিয়াতে মোট ১১ বিঘা জমির উপর দু’টি শ্রমিক কোয়ার্টার রয়েছে। শ্রমিক কিংবা তাঁদের পরিবার জমি ছেড়ে দিলে মালিক সংস্থাই তাঁদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করে দেবে। তার বাইরে কেউ কোয়ার্টার দখল করে থাকলে আইনি পদক্ষেপ করতে পারবে সংস্থা। সুদ সহ বকেয়া প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকাও দেওয়া হবে শ্রমিকদের। অসীমকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘১৯৮৭ সালে কারখানা বন্ধ হওয়ার সময় হাজার দুয়েক শ্রমিক ছিলেন। বকেয়া পেতে এখনও পর্যন্ত প্রায় এক হাজার আবেদন জমা পড়েছে। অনেকেই টাকা পেয়ে গিয়েছেন। শিল্পের জমিতে শিল্প হোক, আমরা এটাই চাই।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ