Bartaman Logo
১৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নিষ্ক্রিয় ‘এমবিসি’, ঝুলে ২৫০টির বেশি বিল্ডিংয়ের অনুমোদন, হচ্ছে আর্থিক ক্ষতি অসন্তুষ্ট পুরদপ্তর

শহরে কোনো বড়ো নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে মিউনিপ্যাল বিল্ডিং কমিটির (এমবিসি) বৈঠক বাধ্যতামূলক

নিষ্ক্রিয় ‘এমবিসি’, ঝুলে ২৫০টির বেশি বিল্ডিংয়ের অনুমোদন, হচ্ছে আর্থিক ক্ষতি  অসন্তুষ্ট পুরদপ্তর
  • ১৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরে কোনো বড়ো নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে মিউনিপ্যাল বিল্ডিং কমিটির (এমবিসি) বৈঠক বাধ্যতামূলক। কিন্তু কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, নির্বাচনি আচরণবিধি লাগু থাকার সময় থেকেই এমবিসির বৈঠক বন্ধ। ভোটপর্ব মিটলেই এই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পালাবদলের পর পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়া, পরবর্তী সময়ে তারাতলায় গোডাউন বিপর্যয়ের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। শহরের বিভিন্ন নির্মীয়মাণ ভবনের ‘সেফটি অডিট’ চলছিল এতদিন। এমবিসি বৈঠক না করার জন্য পুর কর্তৃপক্ষ এই ‘অজুহাত’ দিচ্ছিল বলে অভিযোগ। বর্তমানে সেই জটিলতাও কেটেছে। কিন্তু তারপরও পুর কমিশনার এমবিসি বৈঠক নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য করছেন না বলে খবর। ফলে প্রচুর আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে পুরসভার। বড়ো বড়ো নির্মাণের  অনুমোদন দেওয়া যাচ্ছে না। এ সংক্রান্ত ২৫০টির বেশি ফাইল পড়ে রয়েছে। এই অবস্থায় এমবিসি বৈঠক না হওয়ায় পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরও পুরসভার ভূমিকায় অসন্তুষ্ট বলে খবর।

Advertisement

নিয়ম হল, এমবিসির চেয়ারম্যান হিসাবে থাকেন পুর কমিশনার। মূলত সাত কাঠা বা তার বেশি কিংবা ৫০০০ বর্গফুট বা তার বেশি আয়তনের যেকোনো ‘নন-রেসিডেন্সিয়াল’ বিল্ডিংয়ের নকশা অনুমোদনের জন্য এমবিসি করাতে হয়। ‘কমার্শিয়াল’ ক্ষেত্রে সমস্ত ধরনের নির্মাণেই এমবিসি হয়। কমিটি অনুমোদন দেওয়ার পর তাতে স্বাক্ষর করেন মেয়র। তারপর তা মেয়র পরিষদে সিলমোহর পড়ে। কিন্তু গত কয়েক মাস এমবিসির বৈঠকই না হওয়ায় গোটা প্রক্রিয়া থমকে আছে। ফলে গত বছরের তুলনায় এ বছর এই সময়কালে (জুলাই-আগস্ট) কলকাতা পুরসভার আয় অনেকটাই কম হয়েছে। সূত্রের খবর, এভাবে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ‘আটকে’ রয়েছে বিভিন্ন নির্মাণের ফি বাবদ। নকশায় অনুমোদন দেওয়ার পর পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের খাতে আসার কথা ছিল এই পরিমাণ টাকা। বিভিন্ন আবাসন নির্মাণকারী সংগঠনের তরফেও এমবিসি বৈঠক দ্রুত করার জন্য পুরসভাকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে খবর। শহরের এক প্রথম সারির আর্কিটেক্ট বলেন, ‘আমার নিজস্ব পাঁচটি বড়ো প্রজেক্ট আটকে পড়ে রয়েছে। এগুলি থেকে পুরসভার অন্তত সাড়ে ৫ কোটি থেকে ৬ কোটি টাকা রেভিনিউ পেত।’ 
সূত্রের খবর, সম্প্রতি পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত মুখ্যসচিব খলিল আহমেদ এই প্রসঙ্গ তোলেন। বিল্ডিং বিভাগের ডিজির কাছে তিনি পরিস্থিতি জানতে চান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও। তাঁরা পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডেকে এমবিসি করার বিষয়ে সদর্থক ভূমিকা নিতে বলেছেন বলে খবর। পুরসভার ভূমিকায় অসন্তোষ জানিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু অভিযোগ, তারপরেও এক সপ্তাহ কেটে গিয়েছে। এমবিসি কমিটি বা তার বৈঠক নিয়ে কোনো নির্দেশিকা জারি হয়নি। এ প্রসঙ্গে পুরসভার এক শীর্ষকর্তা বলেন, ‘কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা থাকায় এমবিসির বৈঠক করা যাচ্ছে না। সামাধানের চেষ্টা চলছে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ