স্পেন- ১ : উরুগুয়ে-০
স্পেন- ১ : উরুগুয়ে-০
রঞ্জন চৌধুরি: বল পজেশন ৬৮ শতাংশ। কিন্তু গোলমুখী শট মাত্র ৫টি! উরুগুয়েকে হারিয়ে গ্রুপ শীর্ষে থেকে ইয়ামালরা নক-আউটে পৌঁছালেও স্কোরিং দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে জাল কাঁপাতে ব্যর্থ স্পেনের আপফ্রন্ট। দুর্বল সৌদি আরবকে ৪ গোলের মালা পরালেও এদিন ফের হাঁসফাঁস করল ফুয়েন্তের আপফ্রন্ট। পরের ম্যাচের আগে এই রোগ না সারালে সমস্যা বাড়বে।
প্রথমার্ধকে দু’ভাগে ভাগ করা যায়। ডিহাইড্রেশন ব্রেক পর্যন্ত নিজেদের গুটিয়ে রাখল উরুগুয়ে। কোচ বিয়েলসা ৪-১-২-৩ ফর্মেশনে দল সাজিয়েছিলেন। কিন্তু এই পর্বে রক্ষণে ছ’জন ফুটবলার নেমে এল। ক্লোজ মার্কিং ও রক্ষণের প্রাচীরে ধাক্কা খেল পেড্রি, রড্রিরা। তাই চাপ থাকলেও সেভাবে সিটার তৈরি হয়নি। কিন্তু শেষ কোয়ার্টারে নুনেজ, ভালভার্দে, উগার্তেরা তেড়েফুঁড়ে আক্রমণে উঠল। ব্যক্তিগত মত, সুয়ারেজ বা কাভানির মাপের স্ট্রাইকার থাকলে স্প্যানিশ রক্ষণের পরীক্ষা নিতে পারত বিয়েলসার দল। যাই হোক, ম্যাচের ৪২ মিনিটে প্রতীক্ষিত লিড পায় ফুয়েন্তে ব্রিগেড। এক্ষেত্রে চমৎকার টার্ন করে চকিত শট নিয়েছিল অ্যালেক্স বায়েনা। উরুগুয়ের গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরার হাতে লেগে বল জালে জড়ায় (১-০)। কিন্তু ওর মতো অভিজ্ঞ গোলকিপারের কাছে এমন গোল হজম মোটেও প্রত্যাশিত নয়। বিরক্ত বিয়েলসা বিরতির পর তাকে তুলেও নিলেন।
দ্বিতীয়ার্ধে উরুগুয়ের টাফ ফুটবলের সামনে কিছুটা বিভ্রান্ত ২০১০ সালের কাপজয়ীরা। ইয়ামালকে রুখতে কিছু ক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগ করল উরুগুয়ে রক্ষণ। হয়তো নক-আউটের কথা ভেবেই ৭৫ মিনিটে ইয়ামালকে তুলে নিলেন ফুয়েন্তে। পরিবর্ত নিকো উইলিয়ামস কিংবা ফেরান তোরেসও গোলের ঠিকানা পেতে ব্যর্থ। যাই হোক, এদিন স্পেন উতরে গেলেও বিদায় নিল উরুগুয়ে। সংযোজিত সময়ে লাল কার্ড দেখানো হয় অগাস্টিনকে। লাতিন আমেরিকার জায়ান্ট তারা। দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের (১৯৩০, ১৯৫০) এমন পরিণতি দেখে অনেকেই অবাক। হেভিওয়েট স্পেনকে টেক্কা দিতে টাফ ফুটবল ও ক্লোজ মার্কিংয়ের রাস্তা নিয়েছিল উরুগুয়ে। সাবলীল ফুটবল একেবারেই খেলতে পারেনি স্পেন। মার্সেলো বিয়েলসার এই স্ট্র্যাটেজি নিশ্চয়ই অন্যদের নজর এড়ায়নি। তবে ফুয়েন্তে ব্রিগেড নিশ্চয়ই গোলমুখের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠবে। দুরন্ত পাসিং ফুটবলে পাপড়ি মেলে স্পেন। সেই সৌন্দর্য দেখতে প্রহর গুনছে বিশ্ব ফুটবল।