আলো বাধা প্রাপ্ত হয়ে সৃষ্টি হয় ছায়ার। আর সেই ছায়ায় আড়ালে লুকিয়ে থাকে রহস্য। সম্প্রতি শিশির মঞ্চে মহিষাদল শিল্পকৃতির নাটক ‘ছায়ার খেলা’য় দেখা গেল সেই রহস্যের মায়াজাল। সঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই নাটকে তুলে ধরা হয়েছে নারী পাচারের কাহিনি। এই জঘন্য কাজের জন্য সমাজে ছায়ার মতো মিশে থাকে রহস্যময় সব চরিত্র। মঞ্চ জুড়ে ছায়া চরিত্র দিয়ে পরিচালক সমাজের সেই সব চরিত্রকে উপস্থাপন করেছেন। এই ছায়া চরিত্ররা প্রলোভনের জাল নিয়ে সমাজসেবকের পরিচয়ে ঘুরে বেড়ায় প্রান্তিক মানুষদের দোরগোড়ায়। পরিবারের কম বয়সী তরুণীরা তাদের লক্ষ্য। সংসারের অভাবকে হাতিয়ার করে শহরে কাজ দেবার নানা প্রলোভন হাজির করে তারা। বিশ্বাসের জায়গা থেকে সেই প্রলোভনে একবার পা দিলেই ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সে একমাত্র ভবিষ্যতই জানে। গ্রামের অসহায় মানুষ অভাবের জ্বালায় কন্যাকে এগিয়ে দেয় এই ছায়ার হাত ধরে অজানা উদ্দেশ্যে।
এই নাটক সেই ছায়া চরিত্রদের উৎস খুঁজে দেখাবার চেষ্টা করে। আলো এখানে প্রতীকী। আলো অর্থে সমাজের সেই সব মানুষ, যারা নিজেকে সমাজে ভালো মানুষের মুখোশের আড়ালে রেখে ছায়ার মতো অপকর্ম ঘটিয়ে চলে। সেই ভালো মানুষের মুখোশ খুলে ছায়ার আড়ালে থাকা সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টা। নাটকে মুখোশ খুলে দেওয়ার সাহস দেখিয়েছে এক নারী।
অসহায় নারীদের সমর্থনে আর এক নারী রুখে দাঁড়ায়। অনেক প্রতিবন্ধকতা,জীবন মৃত্যুর পরোয়া না করে আইনকে ঢাল করে আইনজীবী তাপসী মিদ্যা (লাবণ্য সরকার)। যার ফেলে আসা অতীত তাকে এই সত্য প্রকাশের সাহস জুগিয়েছে। লাবণ্য তাঁর অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে আদর্শের দৃঢ়তাকে ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে তাঁর প্রতিপক্ষ দুঁদে উকিল বারিন রায় (সুরজিৎ সিনহা) ভালো মানুষের মুখোশ পড়া শয়তানদের পক্ষ নিয়ে অন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ায়। সুরজিৎ সিনহার অভিনয় চমৎকার। সীতাপতি দলুই (প্রবীর আদিত্য) নাটকের ভিলেন। তাঁর অভিনয় ভালো লাগে। পরিচালক সুরজিৎ সিনহার এই প্রচেষ্টা চমৎকার। সুবল হালদারের চরিত্রে কমলেশ দে ভালো। দেবব্রত মাইতির মঞ্চ পরিকল্পনা নজর কাড়ে। সৌমেন চক্রবর্তীর আলো ও দিশারি চক্রবর্তীর আবহ নাটককে জমাট বাঁধতে সাহায্য করেছে।
তাপস কাঁড়ার