


পক্ষে
শুভম দাস
কিছু উৎসবের ব্যাপ্তি হয় বাহ্যিক, আর কিছু উৎসব সামগ্রিকভাবেই অভ্যন্তরীণ, মনের একটু বেশিই কাছের। ভাইফোঁটা সেরকমই। এই উৎসবের ভিতই হল একটা সম্পর্ক, আত্মার টান, মনের যোগাযোগ । ইঁদুর দৌড়ের পৃথিবীতে যদি পাঁচ মিনিট মোবাইলের সামনে বসে একে অপরের মঙ্গল কামনায় একটা পবিত্র সম্পর্ককে বছরের পর বছর আগলে রাখা যায়, তবেই তো একটা উৎসব সার্থক রূপ পায়। এখানে ভৌগোলিক দূরত্ব কখনও বাধা হতে পারে না যদি না মনের সেতুতে মরচে ধরে। তাই দূরত্বকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভার্চুয়াল ভাইফোঁটায় কোনও বিরোধ নেই।
পরিসংখ্যানবিদ
সৈয়দ সাদিক ইকবাল
বিশ্বায়নের যুগে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছেন প্রিয়জন। অনেক সময় ইচ্ছে থাকলেও উৎসব, অনুষ্ঠানে হাজির থাকা সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে ভিডিও কলের মাধ্যমে প্রিয়জনের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব। ভাইফোঁটার দিনে ভাই কিংবা বোন যদি কোনও কারণে একজায়গায় উপস্থিত হতে না পারেন, সেখানে প্রযুক্তির সাহায্যে ভাইফোঁটা পালন করা যেতেই পারে।
সরকারি কর্মচারী
সোনামণি মান্না
‘ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা, যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা, আমি দিই আমার ভাইকে ফোঁটা’— এই মন্ত্র পাঠ করে কপালে চন্দনের ফোঁটা দিয়ে একজন বোন তার ভাইয়ের দীর্ঘায়ু, উন্নতি কামনা করে। কিন্তু যখন কোনও ভাই বা বোন কাজের সূত্রে দেশের বাইরে বা অন্যত্র থাকে তখন তারা এই নিয়ম থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে দু’জনেই কষ্ট পায়। এই কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে যদি মোবাইলে ভাইফোঁটা হয় তাহলে খুব ভালো হয়। ডিজিটাল যুগে মোবাইলের মাধ্যমে ভাইবোনের সম্পর্কে ভালোবাসার মেলবন্ধন ঘটলে ভালোই হয়।
গৃহবধূ
বিপক্ষে
সনৎ ঘোষ
কিছু উৎসব কখনও চিরাচরিত প্রথার বাইরে গিয়ে হতে পারে না। ভাই-বোনের মধ্যে যে গভীর সম্পর্ক সেখানে ভাইয়ের কপালে বোন, দিদির আঙুলের ছোঁয়া যদি না থাকে ভাই বা দাদার হাত থেকে বোন দিদির উপহার প্রাপ্তিটা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে না হয়, ধূপ প্রদীপ জ্বেলে আসন পেতে মিষ্টির থালা সাজিয়ে বোন দিদির অপেক্ষাটাই যদি না থাকে, তাহলে কীসের ভাইফোঁটা! মোবাইলে হলে তা হবে মোবাইল ফোঁটা।
সরকারি কর্মচারী
পৃথা বাছাড়
ডিজিটাল যুগে মোবাইলে ভাইফোঁটা পালনের ধারণাটি নিঃসন্দেহে দূরত্ব ঘুচিয়ে দেওয়ার এক আধুনিক উপায়, কিন্তু ঐতিহ্য ও আবেগের নিরিখে দেখলে এর বিপক্ষে যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে। ভাইফোঁটা কেবল একটি আচার নয়, এটি ভাই-বোনের প্রত্যক্ষ মিলন এবং আন্তরিক সান্নিধ্যের উৎসব। প্রথাগতভাবে, বোনের বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুলে চন্দনের ফোঁটা, মাঙ্গলিক প্রদীপ, ধান-দূর্বা ও শঙ্খধ্বনির মাধ্যমে যে পবিত্র পরিবেশ এবং গভীর মানসিক সংযোগ তৈরি হয়, তা কোনওভাবেই একটি মোবাইল স্ক্রিনের মধ্যে দিয়ে পূর্ণতা পেতে পারে না।
কলেজ পড়ুয়া
শংকর সাহা
যন্ত্রকেন্দ্রিক সভ্যতায় বিজ্ঞান আমাদের জীবনকে যন্ত্রনির্ভর করলেও আজও হয়তো উৎসব-অনুষ্ঠানের পরিধিতে ততটা হাতছানি দিতে পারেনি। ভ্রাতৃদ্বিতীয়ায় এক মেলবন্ধন গড়ে তোলে। বোন-দিদিদের হাতে ফোঁটা নেওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে থাকেন ভাইয়েরা। তাতেই বাঙালির সাবেকিয়ানার পরিচয় মেলে। বিজ্ঞানের আগ্রাসন আমাদের জীবনকে গতিময় করলেও উৎসবের রেখায় এখনও বাঙালি ডিজিটাল কেন্দ্রিক
হয়ে ওঠেনি।
শিক্ষক