Bartaman Logo
২৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মোদি সরকারের দত্তক গ্রাম শিমুলডাঙায় বাংলার বাড়ি, মমতায় মুগ্ধ লোধা-শবররা

লোধা-শবর অধ্যুষিত ঝাড়গ্রামের শিমুলডাঙা গ্রামটিকে দত্তক নিয়েছিল মোদি সরকার। তবে, তাতে বিশেষ লাভ হয়নি। গ্রামের উন্নয়ন কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে।‌

মোদি সরকারের দত্তক গ্রাম শিমুলডাঙায় বাংলার বাড়ি, মমতায় মুগ্ধ লোধা-শবররা
  • ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সমীর মাহাত ,ঝাড়গ্রাম: লোধা-শবর অধ্যুষিত ঝাড়গ্রামের শিমুলডাঙা গ্রামটিকে দত্তক নিয়েছিল মোদি সরকার। তবে, তাতে বিশেষ লাভ হয়নি। গ্রামের উন্নয়ন কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে।‌ বর্তমানে গ্রামবাসীরা বাংলার বাড়ির টাকা পেয়ে খুশি। এখন মমতাময় এই গ্রামের বাসিন্দা লোধা-শবররা।

Advertisement

কুনার হেমব্রম বিজেপির সাংসদ থাকাকালীন তাঁর এমপি ল্যাডের টাকায় ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের শিমুলডাঙা গ্রামটিকে দত্তক নেওয়া হয়। ঢাকঢোল পিটিয়ে লোধা-শবরদের উন্নয়নের কথাও বলা হয়। কিন্তু, বাস্তবে দায়সারা কাজ করে হাত গুটিয়ে নেন সাংসদ। সম্প্রতি এই গ্রামের ৩০টি পরিবার ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলা আবাস যোজনার টাকা পেয়েছে। ঘর তৈরির টাকা পেয়ে খুশি গ্রামের লোধা-শবর সম্প্রদায়ের লোকজন।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এমপি ল্যাডের টাকা নয়ছয় করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে সামান্য রাস্তাঘাট ও পানীয় জলের দু’টি ট্যাংক বসিয়ে তারা কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। গ্রামটি দত্তক নিলেও লোধা-শবররা বাড়ি তৈরির কোনও সাহায্য পাননি। এমনকি, লোধা-শবর সম্প্রদায়ের এক বৃদ্ধা পলিথিনের ঝুপড়িতে থেকে বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও পাঁচ বছরের মধ্যে বাড়ি পাননি বলে অভিযোগ। এব্যাপারে গ্রামের বাসিন্দা টুকারাম মাহাত বলেন, আমাদের গ্রাম দত্তক নিয়ে বিজেপি সরকার অনেক স্বপ্ন দেখিয়েছিল। আশা দিয়েছিল, এই গ্রামে যারা পড়াশোনায় ভাল ফল করবে, তাদের দায়িত্ব নেবে। গুরুতর অসুস্থদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু, সামান্য একটু রাস্তা আর জলের ট্যাংক বসিয়েই ওরা দায় সেরেছে। এমনকি, ট্যাংকে থাকা জলের কল চুরি হয়ে গিয়েছে। আমার ছেলে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়ছিল। ওর পড়াশোনা চালানোর জন্য‌ সাহায্য চেয়েছিলাম। ঩কিন্তু, আমি তৃণমূলের বুথ সভাপতি হওয়ায় ওরা আমাকে কোনও সাহায্য করেনি। এখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলা আবাস যোজনায় লোধা-শবরদের সিংহভাগ মানুষ ঘরের টাকা পেয়েছে। গ্রামে স্বস্তি ফিরেছে।

অপর বাসিন্দা দুর্যোধন মল্লিক বলেন, আমাদের গ্রামটি মোদি সরকার দত্তক নিলেও কোনও উন্নয়নই করেনি। তবে, মুখ্যমন্ত্রীর আবাস যোজনার টাকা পেয়ে আমরা সকলেই খুব খুশি।

বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত রায় বলেন, শিমুলডাঙা গ্রামে যতটা উন্নয়নের কাজ হওয়ার হয়ে গিয়েছে। তৃণমূল সরকারের অসহযোগিতার জন্য বাকি কাজ করা যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দা তথা তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি মহাশিস মাহাত বলেন, বিজেপির মুখে উন্নয়নের কথা খাটে না। ওরা শিমুলডাঙা গ্রামটি দত্তক নিয়েছিল। কী উন্নয়ন করেছে? ওরা ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প, আবাস যোজনার টাকা সব আটকে দিয়েছে। আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় বাংলা আবাস যোজনার হাত ধরে এই গ্রামের লোধা-শবররা ঘর পেয়ে শান্তিতে থাকতে পারবেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ