সিনেমার সমালোচনা: স্পাইডার ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে
সিনেমার সমালোচনা: স্পাইডার ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে
টম হল্যান্ড, জেন্ডায়া, জ্যাকব ব্যাটালন
— তুমি পিটার পার্কার নাকি স্পাইডার ম্যান?
— দু’টোই।
নিজের সত্ত্বাকে খুঁজে পাওয়ার যে লড়াই লড়ছি প্রতিনিয়ত, সেখানে এই জবাবই তো সাহস জোগায়। ঘুরে দাঁড়াতে বলে। ‘স্পাইডার ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ ছবিতে কেবল পিটার নয়, নিজেকে খোঁজার জার্নিতে সওয়ার আমরাও। ‘নো ওয়ে হোম’-এর সূত্র ধরে পিটার পার্কারের কথা সকলেই ভুলে গিয়েছে। স্পাইডি একা। নিজের কাজে ব্যস্ত। বিশ্রামের পরামর্শও কানে তোলে না। বন্ধুর নেডের লাইভ দেখে। এমনকী, এমজেকে অন্য কারও বাহুলগ্নেও দেখে ফেলে সে। এরা কেউ অবশ্য তাকে চেনে না। শত্রুর সঙ্গে লড়াইয়ের পাশাপাশি নিজের পরিচয় খোঁজার লড়াইও চালিয়ে যায় পিটার। নিজের শরীরও অপরিচিত ঠেকে তার। পরিচালক ডেস্টিন ড্যানিয়েল ক্রেটনের ছবির শুরুটা বেশ সাবলীল ও গোছানো। পিটার পার্কার হিসাবে টম হল্যান্ডের অভিনয় দারুণ। নিঃসঙ্গ পিটারের আবেগ প্রতি দৃশ্যে সুন্দর ফুটিয়ে তুলেছেন। এমজে চরিত্রে জেন্ডায়া আর বেস্টফ্রেন্ড নেডের ভূমিকায় জ্যাকব ব্যাটালনের অভিনয়ও প্রশংসনীয়। ফ্রাঙ্ক ক্যাসেল তথা পানিসারের (জন বার্নথাল) সঙ্গে পিটারের দ্বৈরথ দেখে হাসি চাপা কঠিন। হাল্কের (মার্ক রাফালো) স্বল্প উপস্থিতি বাড়তি আকর্ষণ। সেডি সিঙ্কের চরিত্রটি স্পাইডির বন্ধু না শত্রু, সেটাই আসল চমক সিনেমার। ছবির অ্যাকশন দৃশ্যগুলি চোখ জুড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে ‘দ্য হ্যান্ড’-এর বিরুদ্ধে স্পাইডার ম্যানের লড়াই। জ্যাকি চ্যানের স্টান্ট টিমের কোরিওগ্রাফি মুগ্ধ করবে। এত সব ভালোদিকের ভিড়েও ছবির মূল গল্পটি শেষ পর্যন্ত জমাটি হয়নি। তবে মানুষের মধ্যে উন্মাদনা দেখে সেটা বোঝার কোনো উপায় নেই। পোস্ট ক্রেডিট সিনে ‘ডুমস ডে’র ইঙ্গিত নতুন উত্তেজনার জন্ম দেবে।
শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়