নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রতিবছর পুজোর ফ্যাশনে কোনও স্টাইল ‘ইন’ হয়। কোনওটা হয় ‘আউট’। কমবেশি সেটাই চলতে থাকে বছরভর। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, এবছর পুজোর ফ্যাশনে ‘ইন’ কলার দেওয়া পোলো টি-শার্ট। জেন-জি বা তাদের পরের জেনারেশন এবছর সবার মন ঝুঁকেছে প্রিন্টেড পোলো টি-শার্ট এবং কার্গো বা ব্যাগি প্যান্টে।
হাতিবাগান থেকে গড়িয়াহাট, কিংবা নিউ মার্কেট, ফ্লোরাল প্রিন্ট থেকে অ্যাবস্ট্রাক্ট, সবরকম রঙের এবং ডিজাইনের পোলো টি-শার্ট বিক্রি হচ্ছে। সেইসঙ্গে এক কালারের বা চেক শার্টের বদলে প্রিন্টেড শার্টের রমরমা। হাতিবাগানে পুরুষদের রেডিমেড পোশাক বিক্রেতা রঞ্জন রায় বলেন, ‘পোলো টি-শার্ট আগে বিশেষত বয়স্করা পছন্দ করতেন। ইয়ং জেনারেশন কিনত না। কিন্তু এবছর যে কোনও ধরনের পোলো টি-শার্ট, বিশেষ করে যেগুলি প্রিন্টেড, তার চল উঠেছে। ইয়ং জেনারেশন সেটাই বেশি করে পছন্দ করছে। জিন্স খুব কম বিক্রি হচ্ছে। সকলেই কার্গো বা ব্যাগি প্যান্ট বেশি কিনছেন।’ মেয়েরা যে ধরনের লুজ বা ঢোলা ঢোলা প্যান্ট পরে, সেই ধরনের প্যান্টেই এবার ছেলেরা ফ্যাশনদুরস্ত। যদিও এই প্যান্টের বাজার আগামী বছর আরও বাড়বে বলে মত রঞ্জনবাবুর। সেই সঙ্গে পাঞ্জাবি কলারের মত হেলনি নেক বা ম্যান্ডারিন নেকের টি-শার্ট এবং শার্টের চল বেশি। এটি গতবছর খুব উঠেছিল। কিন্তু এবার জনপ্রিয়তা আরও বেশি।’
আগে পুজোর সময় গোল গলা টি-শার্ট বেশি চলত। কিন্তু এবার সেই স্টাইল নেই-বলছেন দোকানদাররা। গতবছর বাজার কাঁপিয়েছে ব্যাগি শার্ট এবং টি-শার্ট। জনপ্রিয় ছিল নিটিং শার্ট বা টি-শার্টও। কিন্তু এবার সেগুলির ডিমান্ড তেমন নেই। সেই সঙ্গে বাজার হারিয়েছে জিন্সও। বাজারের ট্রেন্ড বলছে, এবার জিন্সের বদলে জেন-জি’র মন মজেছে কটন কার্গো প্যান্টে। বাগুইহাটির বাসিন্দা কমলেশ দাস বাজার করতে এসেছিলেন হাতিবাগানে। তাঁর সঙ্গে বছর দশেকের ছেলে কুশল। সেও জিন্সের বদলে দু’টি কার্গো এবং একটি ব্যাগি প্যান্ট কিনেছে। কমলেশবাবুর কথায়, ‘আমাদের সময় তো বাবা-মা যা কিনে দিত সেটাই পরতে হতো। এখন ছেলেমেয়েরা অনেক বেশি কেতাদুরস্ত। হরেক রকমের জামা-প্যান্ট উঠেছে। হরেক রকমের ডিজাইন। তবে আবার এটাও ঠিক বহু পুরনো ডিজাইন নতুন করে ফিরে আসছে। আজকাল ফের লুজ ট্রাউজারের যুগ উঠেছে। তবে একটু অন্য লুকে।’
গড়িয়াহাটের বাজারেও ছবিটা ভিন্ন নয়। রেডিমেড কাপড়ের বিক্রেতা শম্ভুনাথ গায়েন বলেন, ‘এখন প্রিন্টেড কলার দেওয়া টি-শার্ট এবং শার্টের চল বেশি দেখছি। আগে এক কালারের কলার টি-শার্ট চলত। তবে ইয়ং জেনারেশন খুব বেশি কিনত না। তবে এ বছর দেখছি প্রিন্টেড হোক বা এক কালার, সব ধরনের কলার দেওয়া পোলো টি-শার্ট বিক্রি হচ্ছে বেশি।’