সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: মোদি সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রকের পরিসংখ্যান বিভাগ গত কয়েকমাস যাবৎ লাগাতার প্রকাশিত তথ্যে দাবি করছে, মূল্যবৃদ্ধির হার তলানিতে। ওই পরিসংখ্যান দেখে রিজার্ভ ব্যাংকও বলছে, ৮ বছরের মধ্যে মূল্যবৃদ্ধির হার নাকি সর্বনিম্ন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শত চেষ্টাতেও খুচরো পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির হার কমানো যায়নি। বিশেষ করে খাদ্য মূল্যবৃদ্ধিতে রাশ দূরের গ্রহে পৌঁছে গিয়েছে। একের পর এক নীতি নির্ধারণ কমিটির বৈঠকেও স্বীকার করা হয়েছে যে, একমাত্র খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণেই সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধি কমানো যাচ্ছে না। এই চিত্র ছিল সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। হঠাৎ করে অক্টোবরের পর থেকে মূল্যবৃদ্ধি ক্রমাগত নিম্নমুখী হওয়ার দাবি শুরু হয়েছে সরকারের পক্ষে। শেষ যে পরিসংখ্যান পাওয়া গিয়েছে, তাতে নাকি ২ শতাংশের নীচে চলে গিয়েছে মূল্যবৃদ্ধির হার। মানুষ এতে চরম ধন্দে। কারণ, বাজারদরের সঙ্গে সরকারের দাবি মিলছে না! সেটাই স্পষ্ট হয়েছে বছর শুরুর রিজার্ভ ব্যাংকের রিপোর্টে। তাতে সাফ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, সরকারি পরিসংখ্যানের সঙ্গে বাস্তব চিত্রের মিল নেই। আরবিআইয়ের ইনফ্লেশন এক্সপেকটেশন সার্ভের রিপোর্ট সরাসরি বলছে, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। যখন সরকারি খাতায় মূল্যবৃদ্ধির হার ১ শতাংশ, ঠিক সেই সময় সাধারণ মানুষের খাদ্য ও অন্যান্য পণ্য কেনার হার ৬.৬ শতাংশের সমতুল। অর্থাৎ, ধরে নেওয়া যাক, কোনও পণ্যের দাম ছিল ১০০ টাকা। কেন্দ্রের দাবি, তা ১০১ টাকা হয়েছে। কিন্তু মানুষ সেটাই কিনছে প্রায় ১০৭ টাকায়। সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে, আগামী তিন মাস, অর্থাৎ অন্তত এপ্রিল পর্যন্ত এই হার পৌঁছে যাবে ৭ থেকে ৮ শতাংশে। খাদ্যসহ অন্যান্য পণ্যের মূল্য কিন্তু নামমাত্র বৃদ্ধি পাচ্ছে না! লাফিয়ে বাড়ছে। এই তথ্যই বাণিজ্য মন্ত্রকের পরিসংখ্যানের সম্পূর্ণ বিপরীত।



