Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

কেন্দ্রের খাতায় মূল্যবৃদ্ধি ১%, বাস্তবে ৭ গুণ! আগামীতে বাড়বে আরও, রিজার্ভ ব্যাংকের সমীক্ষায় অস্বস্তিতে মোদি সরকার

কেন্দ্রের খাতায় মূল্যবৃদ্ধি ১%, বাস্তবে ৭ গুণ! আগামীতে বাড়বে আরও, রিজার্ভ ব্যাংকের সমীক্ষায় অস্বস্তিতে মোদি সরকার
  • ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০১
Prefer us on Google

সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: মোদি সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রকের পরিসংখ্যান বিভাগ গত কয়েকমাস যাবৎ লাগাতার প্রকাশিত তথ্যে দাবি করছে, মূল্যবৃদ্ধির হার তলানিতে। ওই পরিসংখ্যান দেখে রিজার্ভ ব্যাংকও বলছে, ৮ বছরের মধ্যে মূল্যবৃদ্ধির হার নাকি সর্বনিম্ন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শত চেষ্টাতেও খুচরো পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির হার কমানো যায়নি। বিশেষ করে খাদ্য মূল্যবৃদ্ধিতে রাশ দূরের গ্রহে পৌঁছে গিয়েছে। একের পর এক নীতি নির্ধারণ কমিটির বৈঠকেও স্বীকার করা হয়েছে যে, একমাত্র খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণেই সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধি কমানো যাচ্ছে না। এই চিত্র ছিল সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। হঠাৎ করে অক্টোবরের পর থেকে মূল্যবৃদ্ধি ক্রমাগত নিম্নমুখী হওয়ার দাবি শুরু হয়েছে সরকারের পক্ষে। শেষ যে পরিসংখ্যান পাওয়া গিয়েছে, তাতে নাকি ২ শতাংশের নীচে চলে গিয়েছে মূল্যবৃদ্ধির হার। মানুষ এতে চরম ধন্দে। কারণ, বাজারদরের সঙ্গে সরকারের দাবি মিলছে না! সেটাই স্পষ্ট হয়েছে বছর শুরুর রিজার্ভ ব্যাংকের রিপোর্টে। তাতে সাফ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, সরকারি পরিসংখ্যানের সঙ্গে বাস্তব চিত্রের মিল নেই। আরবিআইয়ের ইনফ্লেশন এক্সপেকটেশন সার্ভের রিপোর্ট সরাসরি বলছে, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। যখন সরকারি খাতায় মূল্যবৃদ্ধির হার ১ শতাংশ, ঠিক সেই সময় সাধারণ মানুষের খাদ্য ও অন্যান্য পণ্য কেনার হার ৬.৬ শতাংশের সমতুল। অর্থাৎ, ধরে নেওয়া যাক, কোনও পণ্যের দাম ছিল ১০০ টাকা। কেন্দ্রের দাবি, তা ১০১ টাকা হয়েছে। কিন্তু মানুষ সেটাই কিনছে প্রায় ১০৭ টাকায়। সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে, আগামী তিন মাস, অর্থাৎ অন্তত এপ্রিল পর্যন্ত এই হার পৌঁছে যাবে ৭ থেকে ৮ শতাংশে। খাদ্যসহ অন্যান্য পণ্যের মূল্য কিন্তু নামমাত্র বৃদ্ধি পাচ্ছে না! লাফিয়ে বাড়ছে। এই তথ্যই বাণিজ্য মন্ত্রকের পরিসংখ্যানের সম্পূর্ণ বিপরীত।

Advertisement

এই বৈপরীত্য ধামাচাপা দিতে কেন্দ্র কী করছে? আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে বদলে দেওয়া হচ্ছে মূল্যবদ্ধির হার নির্ধারণের পদ্ধতি। একটি নির্দিষ্ট বছরকে ভিত্তিবর্ষ হিসাবে ধরে নিয়ে মূল্যবৃদ্ধি নিরূপণ করা হয়। এখন ২০১২ সালকে ধরা হয় ভিত্তিবর্ষ। এবার ১৪ বছর পর সেই প্রক্রিয়া ও ভিত্তিবর্ষ বদলে যাচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ভিত্তিবর্ষ হবে ২০২৪ সাল। অর্থাৎ ২০২৪ সালে যে মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল, তার প্রতিতুলনায় এখন হার কত—সেটাই হবে নতুন হিসাব। স্বাভাবিকভাবেই আগামী দিনে মূল্যবৃদ্ধির হার কমে যাবে। সাধারণ মানুষের ঘরে যতই মূল্যবৃদ্ধির আঁচ লাগুক, মূল্যবৃদ্ধির হারের সরকারি রিপোর্টে তার প্রতিফলন আরও উধাও হয়ে যাবে। কারণ ২০২৪ সালে মূল্যবৃদ্ধি ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ে। স্বাভাবিকভাবেই সেই তুলনায় দাম সামান্য কমলেই যথেষ্ট। কাগজে-কলমে সরকারের সাফল্য। আচ্ছে দিন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ