Bartaman Logo
২৯ জুলাই, ২০২৬
Advertisement
বর্তমান / রাজ্য

গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জেরবার বিজেপি প্রার্থী হতে আবেদন ২০টি, চাঁচলে সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটানোই চ্যালেঞ্জ

আসন এক, দাবিদার অনেক। বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে সব দল ঘর গোছাতে ব্যস্ত। কিন্তু চাঁচল বিধানসভার প্রার্থী ঘিরে দোলাচল বিজেপিতে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রায় ২০ জন আবেদন জমা দিয়েছেন।

গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জেরবার বিজেপি প্রার্থী হতে আবেদন ২০টি, চাঁচলে সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটানোই চ্যালেঞ্জ
  • ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, চাঁচল: আসন এক, দাবিদার অনেক। বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে সব দল ঘর গোছাতে ব্যস্ত। কিন্তু চাঁচল বিধানসভার প্রার্থী ঘিরে দোলাচল বিজেপিতে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রায় ২০ জন আবেদন জমা দিয়েছেন। একে অপরকে টপকাতে যাওয়ায় গোষ্ঠী কোন্দলের ছাপ ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। এর সঙ্গে সাংগঠনিক দুর্বলতা আর জোরালো নেতৃত্বের অভাবে কার্যত দিশাহারা গেরুয়া শিবির।

Advertisement


২০১৬ ও ’২১ সালে টানা দু’বার চাঁচল থেকে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন ব্যবসায়ী দীপঙ্কর রাম। কিন্তু ২০২১ এর পর থেকেই তিনি রাজনীতির ময়দান থেকে অনেকটা দূরে। এখন তিনি পুরোপুরি ব্যবসায় মন দিয়েছেন। গত লোকসভা নির্বাচনেও তাঁকে প্রচারে দেখা যায়নি। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে গিয়েই শুরু হয়েছে টানাপোড়েন। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির যুব রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত উত্তর মালদহ জেলা যুব মোর্চার সভাপতি অয়ন রায়ও প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। তাঁর দাবি, এলাকার মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, ২০২১ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া চাঁচল বিধানসভার কো-কনভেনার সুমিত সরকারও নিজেকে যোগ্য দাবিদার বলে মনে করছেন। তাঁর স্ত্রী বর্তমানে বিজেপির গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য। সুমিতের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের কাজে যুক্ত থাকার সুবাদে তিনি মানুষের মন বুঝতে পারেন। তবে, পুরনো কর্মীরাও পিছিয়ে নেই। শিক্ষক লক্ষণ পাণ্ডে দীর্ঘ দুই দশক বিজেপির পতাকা হাতে এলাকায় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। জেলা কমিটির সদস্য এই নেতাকে প্রার্থী করার দাবি তুলেছেন চাঁচল গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি সদস্য প্রসেনজিৎ শর্মা। তাঁর মতে, বর্ষীয়ান নেতাদেরই সামনে আনা উচিত। আরও একটি নাম ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে, আদর্শ কুমার রাম। তিনি আবার দু’বারের প্রার্থী দীপঙ্কর রামের ভাই ও বর্তমানে বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য। যদিও আদর্শবাবু স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন করেননি। তবে, দল দায়িত্ব দিলে প্রস্তুত।


বারবার কি চাঁচল সদর এলাকা থেকেই প্রার্থী বাছবে বিজেপি? গ্রামাঞ্চলের নেতাকর্মীদের এই নিয়ে চাপা ক্ষোভ রয়েছে। সেই জায়গা থেকেই উঠে আসছে কলিগ্রামের বর্ষীয়ান নেতা রতন দাসের কথা। তিনবার গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য ও একবার প্রধান থাকা এই নেতা বর্তমানে জেলা সহ সভাপতির দায়িত্বে। বিজেপির ৪ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি মৃগাঙ্ক দাসের মতে, সংগঠন মজবুত করতে রতন দাসের মতো অভিজ্ঞ নেতাই যোগ্য। তবে গোষ্ঠী কোন্দল এমন জায়গায় পৌঁছেছে, বহিরাগত প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। যদিও স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের বড় অংশই ভূমিপুত্র প্রার্থীর পক্ষে। গত বিধানসভা নির্বাচনে চাঁচলে বিজেপি পেয়েছিল প্রায় ২৩ শতাংশ ভোট। তৃণমূল প্রার্থীর ধারে কাছেও যেতে পারেনি তারা। অন্যদিকে, উন্নয়নকে সামনে রেখে জয় ছিনিয়ে নেয় তৃণমূল। চাঁচলের তৃণমূল বিধায়ক নীহাররঞ্জন ঘোষ বলেন, চাঁচলের মানুষ উন্নয়নে বিশ্বাস করেন। তাঁরা ফের জোড়াফুলকে বেছে নেবেন। বিজেপি এখানে গোষ্ঠী কোন্দলে জর্জরিত। ওদের না আছে মুখ, না আছে দিশা। বিজেপির উত্তর মালদহ জেলার সাধারণ সম্পাদক অভিষেক সিঙ্ঘানিয়া বলেন, দল যোগ্য প্রার্থীই বেছে নেবে। চাঁচলের বিধায়ক কোনও কাজ করেননি। তাঁকে হারাতে আমরা প্রস্তুত।  প্রতীকী চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ