জামবনীর বেড়াগাড়ী গ্ৰামে ঘরে ঘরে মাটির প্রদীপ তৈরির ব্যস্ততা
  • ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: কালীপুজো আসন্ন। ঘরে ঘরে মাটির প্রদীপ তৈরিতে ব্যস্ত জামবনীর বেড়াগাড়ি গ্রামের কুমোর পরিবার। উঠোনজুড়ে সারি সারি কাঁচা প্রদীপ রোদে শুকোতে দেওয়া হয়েছে। জেলার বিভিন্ন বাজারের সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের চাকুলিয়া ও ধলভূমগড়ের বাজারেও পৌঁছে যাবে এই গ্রামের প্রদীপ। প্রশাসনের আশ্বাস সত্ত্বেও বৈদ্যুতিক চাকা মেলেনি। গড়ে ওঠেনি ক্লাস্টার । পুরনো ঠেলা চাকাতেই তৈরি করতে হচ্ছে মাটির প্রদীপ।

Advertisement

জামবনী ব্লকের কাপগাড়ি পঞ্চায়েতের জঙ্গলঘেরা ছোট্ট গ্রাম বেড়াগাড়ি। গ্রামের প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি পরিবার সারা বছর মাটির হাঁড়ি, কলসি, ভাঁড়, ধুনুচি-সহ নানা সামগ্রীতৈরি করেন।  মকর সংক্রান্তি ও  কালীপুজোর সময় মাটির প্রদীপের চাহিদা বাড়ে। দীপাবলির আগে প্রদীপ তৈরির কাজে গ্ৰামজুড়ে ব্যস্ততা চরমে। গ্ৰামের কুমোরদের অভিযোগ, মাটির সামগ্রী তৈরির খরচও দিনদিন বাড়ছে। ভালো মাটি কিনতে প্রায় দেড়হাজার টাকা খরচ হয়। যাঁরা গাড়িতে করে মাটি পৌঁছে দেন,তাঁদেরও ভাড়া দিতে হয়। অথচ তৈরি সামগ্রীর বিক্রির দাম খুব বেশি নয়।ছোট প্রদীপ বিক্রি হয় দুই থেকে পাঁচটাকায়।বড় প্রদীপের দাম২০ থেকে ৩০টাকা।বেশিসংখ্যায় বরাত পেলে তবেই কিছুটা লাভের মুখ দেখেন তাঁরা। গ্রামের বাসিন্দা জগবন্ধু দাস বলেন, গ্ৰামের ঘরে ঘরে প্রদীপ তৈরির কাজ চলছে। এ বছর প্রায় ১,৫০০টি প্রদীপ তৈরির বরাত পেয়েছি। পুজোর সময় মাটির প্রদীপের চাহিদা থাকে।জেলা হস্তশিল্প দপ্তরের তরফে বৈদ্যুতিক চাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।  দু’বছর পেরিয়ে গেলেও তা মেলেনি। শেষ পর্যন্ত ২২ হাজার টাকা খরচ করে চাকা কিনতে হয়েছে। বিকল্প উপায় ছিলনা। কুম্ভকার নিরঞ্জন দাসের কথায়, “৭৫ বছর বয়সেও ঠেলা চাকায় প্রদীপ তৈরি করতে হচ্ছে। বৈদ্যুতিক চাকা দেওয়ার কথা বলা হলেও এখনও পাইনি। মাটি কেনা থেকে শুরু করে পরিবহন—সব মিলিয়ে খরচ অনেক। বড় বরাত পেলে খরচ কিছুটা পুষিয়ে যায়। মাটির নানা জিনিসপত্র তৈরি করেআমাদের সামান্য রোজগার হয় । বৈদ্যুতিক চাকা পেলে কম সময়ে বেশি সামগ্রী তৈরি করা সম্ভব হবে। তাতে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি পরিশ্রমও কিছুটা কমবে।কিন্তু  প্রশাসনিক সহযোগিতা মিলছেনা। গ্ৰামের গৃহবধূ উষারানি মন্ডল বলেন, প্রদীপ রোদে দেওয়া, রঙ করা মেয়েরাই মূলত করে। প্রদীপ গড়া ঘিরে গ্ৰামে উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। জেলা হস্তশিল্প বিভাগের আধিকারিক প্রসূন ঘোষ বলেন, পাঁচটি ক্লাস্টার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। বরাদ্দের টাকা না আসায় টেন্ডারও প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি। দপ্তরের থেকে বরাদ্দ টাকা যাতে দ্রুত পাওয়া যায় তা দেখা হচ্ছে।বেড়াগাড়ির কুমোর শিল্পীরা শত বাঁধার মধ্যে দিয়ে এই পেশাকে টিকিয়ে রাখার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।-নিজস্ব চিত্র