ঘরোয়া লিগ ঘিরে বাঙালি বরাবরই নস্টালজিক। একটা সময় লিগের ম্যাচে সবুজ ঘাসে স্ফুলিঙ্গ ছুটত। ময়দান জুড়ে উত্থান-পতন, হাসিকান্নার কোলাজ। কলকাতা লিগ বহু তারকার জন্মদাতা। অনেকেরই কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে জলকাদার ফুটবল। তাদের মধ্যে বাছাই করা তারকারা অভিজ্ঞতার ঝাঁপি খুললেন বর্তমানের পাঠকদের জন্য।
১৯৮৪ সালে আইএফএ শিল্ড ফাইনাল। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে সেটাই প্রথম বড় ম্যাচ। সেদিন মোহন বাগানকে ১-০ গোলে হারিয়ে খেতাব ঘরে তুলেছিল ইস্ট বেঙ্গল। ম্যাচের শেষ লগ্নে সুদীপ চ্যাটার্জির বাড়ানো ক্রস থেকে জাল কাঁপিয়েছিল এই অধম। বলতে দ্বিধা নেই, লাল-হলুদ জার্সি আমায় কলকাতা ময়দানে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ইস্ট বেঙ্গলে যোগ দেওয়ার আগে আমি সই করেছিলাম মহমেডান স্পোর্টিংয়ে। সেবার বিদেশ-মানস অটোমেটিক চয়েজ। তখন আমার বয়সও খুব কম। তাই বেঞ্চে বসেই কাটে মরশুম। তবে জুনিয়র বাংলা ক্যাম্পে আমি দুরন্ত ফুটবল খেলায় কোচ প্রদীপদা (পি কে ব্যানার্জি) আমায় ইস্ট বেঙ্গলে সই করায়। আর সুযোগ পেয়েই লাল-হলুদ জার্সিতে নিজেকে মেলে ধরি। সেই সুবাদে খোলে জাতীয় দলের দরজাও।
এখন তো ভারতীয় দলে কোনও বাঙালি ফুটবলার নেই। দেখে সত্যিই খুব কষ্ট হয়, গা নিশপিশ করে। কিন্তু আমরা নিরুপায়। কিছুই করার নেই। আসলে বাংলার ফুটবলের সবচেয়ে বড় সাপ্লাই লাইন কলকাতা লিগটাই তো এখন বিবর্ণ হয়ে পড়েছে। অতীতে এই লিগ খেলেই তাবড় তাবড় ফুটবলার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপিয়েছেন। অথচ এখনকার প্রজন্ম কলকাতা লিগ খেলতে তেমন আগ্রহ দেখায় না।
১৯৭৬ সালে রবার্ট হাডসন ক্লাবের হয়েই আমার ময়দানে পথ চলা শুরু। তার আগে তৃতীয় ডিভিশনের ক্লাব অ্যালবার্টে সই করলেও, সেভাবে সুযোগ পাইনি। তবে রবার্ট হাডসন ক্লাবের জার্সিতে খেলেই জুনিয়র বাংলা দলে ডাক ডাই। সুতরাং, আমাদের সময় ঘরোয়া লিগের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। সাত ও আটের দশকে দ্বিতীয় ডিভিশনের ম্যাচ দেখতেও মাঠে উপচে পড়ত ভিড়। এখন তো কলকাতা লিগের সব ম্যাচই হয় জেলায়। অনেকেই এই নিয়ে আপত্তি তুলছেন। আমি কিন্তু সেই দলে পড়ি না। কলকাতায় ময়দানের তুলনায় অনেক ভালো জেলার মাঠগুলি। আজ অনেকেই বলছেন, ভালো বাঙালি ফুটবলার উঠে আসছে না। অথচ পরিকাঠামো উন্নয়নের দিকে আমরা নজর দিই না। আটের দশকে যেভাবে জলকাদার মাঠে খেলা হতো, এখনও সেই একই অবস্থা রয়েছে। ভুলে গেলে চলবে না, সময়ের সঙ্গে ফুটবলে আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। তাই ভালোমানের ফুটবলার তুলে আনতে হলে পরিকাঠামো দিক থেকেও উন্নতি করতে হবে। তবেই এগবে বাংলার ফুটবল।