


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও কলকাতা: ঝড়বৃষ্টিসহ আবহাওয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন পূর্বাভাস আরও নির্দিষ্টভাবে দিতে ডায়মন্ডহারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের (আইএমডি) উদ্যোগে বসানো হচ্ছে ‘এক্স’ ব্যান্ড ডপলার রেডার। পুজোর আগেই সেটা বসবে। তবে এটি চালু হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। ১৫০ কিমি ব্যাসার্ধ এলাকার পূর্বাভাস দিতে পারবে এই রেডার। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের মালদহে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর এগ্রিকালচারাল রিসার্চের (আইসিএআর) একটি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে ‘সি’ ব্যান্ডের রেডার বসবে। এটি ৩০০ কিমি এলাকা জুড়ে কাজ করবে। আলিপুর আবহাওয়া অফিসের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, দুটি রেডার আগামী বছর চালু হয়ে যাবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
পশ্চিমবঙ্গে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য এখন একটি রেডার আছে—কলকাতায় নিউ সেক্রেটারিয়েট ভবনের মাথায়। এটি ‘এস’ ব্যান্ডের, কাজ করে প্রায় ৫০০ কিমি এলাকা জুড়ে। একটি রেডার দিয়ে গোটা রাজ্যে ঝড়বৃষ্টির মেঘের উপর নজরদারি চালাতে হয়। কিন্তু কলকাতার রেডারটি ২০ বছরের বেশি পুরনো। অনেকসময় বসে যায়। তাই আগামী দিনে এখানেও একটি নতুন রেডার বসানো হবে। আপাতত ডায়মন্ডহারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদে যে রেডারটি বসানো হচ্ছে তাতে কলকাতা ও লাগোয়া এলাকার কাজ চলবে। মালদহে যে রেডারটি বসছে সেটি কার্যকরী হবে গোটা উত্তরবঙ্গ ও লাগোয়া কিছু এলাকায়। কলকাতায় এস ব্যান্ডের বর্তমান রেডারটি উত্তরবঙ্গ পর্যন্ত তেমন কার্যকরী নয়। কম সময়ের মধ্যে (নাউকাস্টিং) পূর্বাভাস প্রদান নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর দেশজুড়ে অনেকগুলি নতুন রেডার বসাচ্ছে। রাঁচি, পূর্ণিয়া, গ্যাংটক প্রভৃতি জায়গায় যেসব রেডার বসবে পশ্চিমবঙ্গ সেগুলিরও সুবিধা পাবে। ডায়মন্ড-হারবারে রেডার বসানো নিয়ে বছর দুই আগে মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আইএমডির মউ স্বাক্ষরিত হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় দশতলা উঁচু। যেহেতু ওই চত্বরে এই উচ্চতার আর কোনও বিল্ডিং নেই, তাই আবহাওয়া দপ্তর এই ভবনটিকে বেছে নিয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই রেডার বসলে সুন্দরবনসহ রাজ্যের উপকূলবর্তী এলাকায় ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য ধরনের ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস দিতে সুবিধা হবে। কারণ নির্ধারিত ব্যাসার্ধের মধ্যে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা পড়বে। বৃষ্টির শক্তিশালী মেঘ বা বজ্রমেঘ তৈরি হলে তার গতিপ্রকৃতি আরও ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং পূর্বাভাস দেওয়া যাবে অনেকটাই নিখুঁতভাবে। ডায়মমন্ড-হারবার স্টেশনের কাছে যে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র আছে, সেটিও স্থানান্তরিত হবে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। এতে আবহাওয়া নিয়ে পড়াশোনা করতে পড়ুয়াদের সুবিধা হবে।