নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: কুরবান শা খুনের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল হাইকোর্ট। ম্যাজিস্ট্রেট থেকে ফরেনসিক এক্সপার্ট, ভিডিওগ্রাফার ও কেমিকেল বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্যগ্রহণের অনুমতি দিল হাইকোর্ট। এর আগে মার্চ মাসে কলকাতা সিটি সেশন কোর্টে মূল মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া প্রায় শেষের পথে এসে স্পেশাল পিপি গণেশ মাইতি তাঁদের সাক্ষ্যগ্রহণের অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু, সিটি সেশন কোর্ট সেই আর্জি খারিজ করে দিয়েছিল। সাক্ষ্যগ্রহণের শেষের পথে তদন্তকারী অফিসার ইন্সপেক্টর অজয় মিশ্র সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। সাধারণত, তদন্তকারী অফিসার সবার শেষে সাক্ষ্য দেন। তারপর নতুন করে আরও আটজনের সাক্ষ্যগ্রহণের অনুমতি আদালত দেয়নি। এনিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কুরবান শা-র পরিবার। সেই মামলায় হাইকোর্টের বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ ১৫মে রায় দিয়েছেন। তাতে স্পেশাল পিপি যে আটজনের সাক্ষ্য নেওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন, সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে হাইকোর্ট। অর্থাৎ, সিটি সেশন কোর্টে কুরবান শা খুনের মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট থেকে ফরেনসিক এক্সপার্ট, ভিডিওগ্রাফার, কেমিকেল এক্সপার্ট সহ আটজনকে সাক্ষ্য দিতে হবে। আগামী ১৬জুন থেকে সিটি সেশন কোর্টে পুনরায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।
২০১৯সালে ৭অক্টোবর পাঁশকুড়ার মাইশোরায় খুন হন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কুরবান শা। সেই খুনের ঘটনায় আনিসুর রহমান সহ মোট আটজন গ্রেপ্তার হন। পাঁচ বছর জেলবন্দি থাকার পর গত জানুয়ারি মাসে তাঁরা ছাড়া পান। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কলকাতা সিটি সেশন কোর্টে মুখ্য বিচারকের এজলাসে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। মামলা চলাকালীন বেশ কয়েকজন সাক্ষী বিরূপ হন। অদ্ভুতভাবে সেই তালিকায় অন্তত ১০জন পুলিশ অফিসার-কর্মীও আছেন। গুরুত্বপূর্ণ ওই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া ছ’মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে বলে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল। সেইমতো বেশ গতিতেই সাক্ষ্যগ্রহণ চলছিল। তদন্তকারী অফিসার সাক্ষ্য দেওয়ার পর মামলার স্পেশাল পিপি গণেশ মাইতি আরও আটজনের সাক্ষ্যগ্রহণের আর্জি জানান। আদালত সেই আর্জি খারিজ করে দেয়। তারপর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় কুরবান শা-র পরিবার। এদিকে, ট্রায়াল কোর্টে এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া থমকে যায়। গত ১এপ্রিল ওই মামলা হাইকোর্টে উঠেছিল। সেদিন রায়দান রিজার্ভে রেখেছিল হাইকোর্ট। ১৫তারিখ ওই মামলার রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। তাতে ওই ঘটনার ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি করা আকাশ দাস, সিআইডি অফিসার তথা ৪১নম্বর সাক্ষী কৌস্তভরতন দাস, ম্যাজিস্ট্রেট অর্ঘ আচার্য, সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার এস হাজরা, সিনিয়র সায়েন্টিস্ট হরেন্দ্রনাথ সিং, কেমিকেল পরীক্ষক পিআর কুমার, ৮৩নম্বর সাক্ষী জলিউল হক প্রমুখ সাক্ষ্য দেবেন। জানা গিয়েছে, সাক্ষী লিস্টে নাম থাকলেও কয়েকজন হাজির হননি। তাই তাঁদের পুনরায় ডেকে পাঠানো হবে। কুরবান শা-র দাদা আফজল শা বলেন, নানা প্রতিবন্ধকতা, ভয়, হুমকি উপেক্ষা করে আমরা ভাইয়ের খুনের বিচারের জন্য লড়াই করছি। অনেক মিথ্যা কেস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, পিছিয়ে আসিনি। আইনের উপর পূর্ণ আস্থা আছে। আমরা জানি, কুরবান শা খুনের মামলায় প্রকৃত অপরাধীরা কেউ ছাড়া পাবে না। হাইকোর্টের এই রায়কে স্বাগত জানাচ্ছি।