নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: সংশোধিত ওয়াকফ আইন চালু হওয়ার পর অশান্ত হয়েছিল মুর্শিদাবাদ। তারপর সেই আইন চালুর উপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। সোমবার সম্পূর্ণ ওয়াকফ অ্যামেন্ডমেন্ট আইন স্থগিত করল না সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের রায় কী হবে এবং তার পরবর্তীতে আন্দোলন ও বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়ে কি না, তা নিয়ে হাই অ্যালার্ট জারি হয়েছিল মুর্শিদাবাদে। পুলিস প্রশাসন সকাল থেকেই তৎপর ছিল। তবে এদিন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জেলার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। কোথাও কোনও আন্দোলন, বিক্ষোভ কিংবা অশান্তি হয়নি।
এদিন বিচারপতি নির্দেশ দেন, ওয়াকফ সম্পত্তি বিতর্ক মেটাতে পারবেন না জেলাশাসক। আসলে ২০২৫ সালের সংশোধিত আইনে কোনও সম্পত্তি ওয়াকফ কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল জেলাশাসক বা সম পদমর্যাদার আধিকারিকদের হাতে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট মনে করছে, ওয়াকফ বিতর্ক মেটাতে পারবে ট্রাইবুনাল। এই রায়ের পর কিছুটা হলেও স্বস্তিতে মুর্শিদাবাদ জেলার ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা। তবে সর্বোচ্চ আদালত ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিম সদস্যদের মনোনয়নের অনুমতি দেওয়ার বিধান স্থগিত করেনি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, যতটা সম্ভব বোর্ডের সদস্যদের মুসলিম হতে হবে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, অমুসলিমরাও ওয়াকফ বোর্ড বা কাউন্সিলের সদস্য হতে পারবেন। তবে বোর্ড বা কাউন্সিলের মাথায় মুসলিম সম্প্রদায়ের কাউকে বসানোর চেষ্টা করতে হবে। আদালতের এই পর্যবেক্ষণে খুশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষরা। অল ইন্ডিয়া ইমাম মুয়াজ্জিন অ্যান্ড সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আদালত যে রায় দিয়েছে তা আমরা বিবেচনা করে দেখছি। আপাতত এই রায়ে কোনও অসন্তোষ প্রকাশ করার জায়গা নেই। সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি আমাদের সম্মান এবং শ্রদ্ধা রয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলার সমস্ত ইমাম এবং মুয়াজ্জিনরা এই রায় কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছে। এই নিয়ে কোথাও কোনও অসন্তোষ বা ক্ষোভ নেই।
এদিন আদালত জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ওয়াকফ কাউন্সিলে চারজনের বেশি অমুসলিম সদস্য থাকা উচিত নয়। আর রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডে তিনজনের বেশি অন্য ধর্মের সদস্য থাকা উচিত নয়। আদালতের এই ঘোষণা বাড়তি সুবিধা দেবে বলেই মনে করেছেন অনেকে।
অল বেঙ্গল ইমাম মুয়াজ্জিন অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড চ্যারিটেবল ট্রাস্টের জেলা সম্পাদক নিজামুদ্দিন বিশ্বাস বলেন, সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে স্বাগত জানাচ্ছি। এটা সম্প্রীতির পক্ষে রায়। সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি আমরা ভরসা রেখেছিলাম। এদিনের রায় কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে।