Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুজোয় ত্রিশূলের আদলে কাল্পনিক মণ্ডপ ‘আরাধ্য’, ‘মোবাইলের আসক্তিতে শৈশব’ থিম আশ্রমপাড়ায়

‘আরাধ্য’ ও ‘মোবাইলের আসক্তিতে শৈশব’। প্রথমটি ত্রিশূলের আদলে কাল্পনিক মণ্ডপ। তাতে থাকবে শিবকথা। দ্বিতীয়টি বাস্তব সমস্যার কাহিনি। তাতে ফুটে উঠবে হারিয়ে যাওয়া গোল্লাছুট, চোর-পুলিশ, ক্রিকেট, ফুটবল খেলার দৃশ্য। সঙ্গে দশভুজার পাঠশাল।

পুজোয় ত্রিশূলের আদলে কাল্পনিক মণ্ডপ ‘আরাধ্য’, ‘মোবাইলের আসক্তিতে শৈশব’ থিম আশ্রমপাড়ায়
  • ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: ‘আরাধ্য’ ও ‘মোবাইলের আসক্তিতে শৈশব’। প্রথমটি ত্রিশূলের আদলে কাল্পনিক মণ্ডপ। তাতে থাকবে শিবকথা। দ্বিতীয়টি বাস্তব সমস্যার কাহিনি। তাতে ফুটে উঠবে হারিয়ে যাওয়া গোল্লাছুট, চোর-পুলিশ, ক্রিকেট, ফুটবল খেলার দৃশ্য। সঙ্গে দশভুজার পাঠশাল। তাতে অসুর বধ নয়, বই পড়িয়ে তাকে মূলস্রোতে ফেরানোর বার্তা দেবেন দেবী দুর্গা। পুজোয় এমন অভিনব থিমে সাজছে শিলিগুড়ি শহরের আশ্রমপাড়া। এমন ভাবনায় পুজো করছে দু’টি ক্লাব-অগ্রগামী সংঘ ও রামকৃষ্ণ ব্যায়াম শিক্ষা সংঘ। তাদের দাবি, এবার পুজোয় জনজোয়ারে ভাসবে আশ্রমপাড়া।

Advertisement

শহরের পাকুড়তলা মোড়ে অগ্রগামী সংঘ। পুজোর ৬৪তম বর্ষে তাদের নিবেদন ‘আরাধ্য’। বাঁশ, কাঠ, প্লাইবোর্ড, প্রোফাইল, কাপড় প্রভৃতি দিয়ে ত্রিশূলের আদলে গড়া হচ্ছে মণ্ডপ। যা ১৬টি পিলারের উপর দাঁড়িয়ে থাকবে। মণ্ডপের ভিতরের ও বাইরের দেওয়ালে, পিলারে থাকবে অসংখ্যা কারুকার্য। তাতেই ফুটে উঠবে শিব, পার্বতী ও গণেশের কাহিনি। সিলিং সেজে উঠবে ত্রিশূল, ঘণ্টা, ডমরু, সাপ প্রভৃতিতে। তাতে থাকবে মানানসই থিম প্রতিমা। আলোর খেলায় মণ্ডপ ও প্রতিমা দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করবে বলে উদ্যোক্তাদের দাবি। রাস্তায় থাকছে আলোর গেট ও অসংখ্য কলকা। তাতে দেখা যাবে পশু, পাখি। পুজো কমিটির যুগ্ম সম্পাদক পলাশ ভৌমিক বলেন, কাল্পনিক ‘আরাধ্য’ থিমে মণ্ডপ সজ্জা করা হচ্ছে। দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে পানিট্যাঙ্কি মোড়ের কাছে রামকৃষ্ণ ব্যায়াম শিক্ষা সংঘ বরাবর থিম পুজো করছে। গতবার তারা সবুজ রক্ষার বার্তা নিয়ে মণ্ডপসজ্জা করে প্রশংসা কুড়িয়েছিল। এবার তাদের ভাবনা- ‘মোবাইলের আসক্তি, শৈশবের উপর প্রভাব’। ফাইবার গ্লাসের শতাধিক মডেল, বিভিন্ন গাছের তিন হাজার ডাল, ফলের তিন হাজার ক্যারেট, চট, মাটি, সিমেন্ট দিয়ে মণ্ডপসজ্জা করছে।
পুজো কমিটির সম্পাদক প্রসেনজিৎ বসু বলেন, নগরায়নের চাপ ও মোবাইল ফোনের আসক্তিতে শৈশব হারিয়ে যাচ্ছে। গোল্লাছুট, চোর-পুলিশ, ঘুড়ি ওড়ানো, ক্রিকেট, ফুটবল প্রভৃতি খেলা দেখা যায় না বললেই চলে। মডেলের মাধ্যমে সেইসব দৃশ্য, ক্যারেটের মাধ্যমে অসংখ্য ঘর ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। এখানে দশভূজাকে দেখা যাবে শিক্ষিকার বেশে। তাঁর পাঠশালায় শিশুদের বই পড়তে দেখা যাবে। থাকবে বইয়ের গাছ। পড়া না করায় দুষ্টু অসুরকে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাবে পাঠশালায়। মোবাইল ফোনের আসক্তি থেকে শিশুদের নিয়ন্ত্রণ করার বার্তা দিতেই এই থিম। পাঁচ মাস ধরে এই থিম গড়ছেন মেদিনীপুর আর্ট কলেজের অধ্যাপক রঙ্গজীব রায় ও তাঁর ছাত্রছাত্রীরা।
সংশ্লিষ্ট দু’টি ক্লাবই আশ্রমপাড়ায়। পুজো উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা, এবার পুজোর চার দিন আশ্রমপাড়ায় দর্শনার্থীদের ভিড় থাকবে। প্রতিমা, মণ্ডপ ও আলোকসজ্জার কাজ দেখে সকলেই প্রশংসা করবেন। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ