


দেবারতি ভট্টাচার্য, মুম্বই: রোমান্টিক চরিত্র কি চ্যালেঞ্জিং ছিল?
খুবই (হাসি)। ‘রহেনা হ্যায় তেরে দিল মে’-এর রোমান্স দিয়ে শুরু করে আজ এখানে এসেছি। রোমান্সের নতুন ভাষা শিখেছি। চরিত্র অনুযায়ী বয়স যথাযথ দেখানোর একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। আমার আর ফতিমার (সানা শেখ) মধ্যে রসায়ন ভালো হওয়ার প্রয়োজন ছিল।
সিনেমার প্রতি আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কেমন?
শুনলে হয়তো অবাক হবেন। আমি সিনেমার ভক্ত নই। বিহারে বড় হয়েছি। ওখানকার পরিবেশ ‘থ্রি ইডিয়টস’ ছবির মতো। ইঞ্জিনিয়ার হতেই হবে, তা না হলে আপনি বিয়ের যোগ্যই নন। ওই আবহে বড় হয়েছি বলে সিনেমার প্রতি আমার কোনও টান ছিল না। আমি সিনেমা সম্পর্কে কিছু জানতামও না। কখনও অভিনেতা হতে চাইনি। কাকতালীয় ভাবে এসেছি ইন্ডাস্ট্রিতে। ছোট পর্দা দিয়ে কেরিয়ার শুরু করেছিলাম। তখন দিনে তিন হাজার টাকা পেতাম। আমি বুঝেছিলাম, আমার সবচেয়ে বড় শক্তি হল, আমার তথাকথিত কোনও প্রশিক্ষণ নেই।
বড়পর্দায় আপনাকে কম দেখা যায় কেন?
খুব তাড়াতাড়ি বুঝেছিলাম, শুধু রোমান্টিক ছবিতে কাজ করলে আমার গায়ে তকমা পড়ে যাবে। তাই আমি ভেবেছিলাম অভিনয় থেকে শুরু করে সিনেমার খুঁটিনাটি বিষয় আমাকে শিখতে হবে। আমার কেরিয়ারের প্রথম তিনটে ছবি ছিল মণি রত্নম, বালা চন্দর আর কমল হাসানের মতো মহারথীদের সঙ্গে। এরপর অন্য পরিচালকরা আমাকে পরিচালনা করতে চাইতেন না। কোথাও আমি নিজেকে যেন খুঁজেও পাচ্ছিলাম না। তাই মাঝে এসব থেকে দূরে ছিলাম। তবে এখন আমি কেরিয়ারের সবচেয়ে ভালো সময়ের মধ্যে যাচ্ছি।
এই ছবিতে আপনাকে কোথাও একাকী বলে মনে হয়েছে। বাস্তবে কি আপনি একাকিত্বে ভোগেন?
আসলে আমি খুবই একা। আমাদের দুনিয়া এখন ডিজিটালে সীমাবদ্ধ। ইমোশনকে আমরা ইমোজি বানিয়ে দিয়েছি! কখনও কখনও মনে হয়, নিজের মূল্যবান সময় নষ্ট করছি না তো? পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাব, এটাই স্বপ্ন। শ্যুটিংয়ে ভালো থাকি। কিন্তু তারপর হোটেল রুমে একাকিত্ব ঘিরে ধরে।
কলকাতায় এই ছবির অনেকটা শ্যুটিং হয়েছে। কেমন অভিজ্ঞতা ছিল?
হাওড়া ব্রিজের নীচে ঘাটে শ্যুটিং করেছিলাম। কলকাতার মানুষ খুবই আন্তরিক। আর কলকাতার খাবার নিয়ে কোনও কথা হবে না। ওখানে সর্ষের তেল ছড়িয়ে ঝালমুড়ির স্বাদ-ই আলাদা। মুম্বইতে ঝালমুড়ি খেয়ে মজা পাই না। কলকাতার রোল দুর্দান্ত। জামশেদপুরেও তিন-চার দিন শ্যুটিং হয়েছিল। ওই শহরে আমার বেড়ে ওঠা। যে বাড়িতে আমার জন্ম হয়েছিল, সেখানে আমি গিয়েছিলাম। ওখানে গিয়ে ছেলেবেলার স্মৃতিগুলো হাতড়ে বেড়িয়েছিলাম। গলি গলি ঘুরে আইসক্রিম খেয়েছিলাম (হাসি)।