নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: একসপ্তাহ ধরে মা নিখোঁজ। উদ্বেগে রয়েছে গোটা পরিবার। থানায় নিখোঁজ ডায়েরিও হয়েছে। হঠাৎ, ছেলের ফোনে অপচিরিত নম্বর থেকে ফোন কল, ‘আমরা লালবাজার মিসিং সেল থেকে বলছি। আপনার মায়ের খোঁজ মিলেছে’! ফোন পেয়েই আনন্দে আত্মহারা সন্তান। কোথায় আছেন মা? উত্তরে বলা হয়, মালদহ জিআরপিতে। তারপরই বলা হয়, আপনারা এসে নিয়ে যেতে পারেন অথবা চাইলে আমরাই একজন পুলিশ কনস্টেবলকে দিয়ে শিয়ালদহ অথবা হাওড়া পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পারি। বৈধ নথিপত্র দেখিয়ে সেখান থেকেই মাকে নিয়ে যাবেন। সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান সন্তান। বিনিময়ে তেমন কিছুই নয়, স্রেফ মায়ের ট্রেনভাড়াটুকু দিলেই হবে। ছেলের মোবাইলে কিউআরকোড পাঠানো হয়। তার দাবিমতো, ভাড়া বাবদ ১,১০০ টাকা তিনি পাঠিয়েও দেন। ব্যস, তারপর থেকেই যোগাযোগ বন্ধ! নিখোঁজ মহিলার ছেলে মালদহ জিআরপিতে ফোন করে বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন!
বিষয়টি নিয়ে ১৯৩০ ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালে তিনি অভিযোগ নথিভুক্ত করেছেন। তবে, এই ধরনের প্রতারণার শিকার যে হতে হবে, তা দুঃস্বপ্নেও ভাবেনি ওই পরিবার। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিখোঁজ নিয়ে পরিবারের অসহায়তার সুযোগে নয়া প্রতারণা শুরু হয়েছে রাজ্যে। ‘অলোক’ নামে এক ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে অনেকের সঙ্গেই নাকি এই প্রতারণা করেছে। নিখোঁজ মহিলার নাম স্মৃতি ভট্টাচার্য। বয়স ৭০-৭২। বাড়ি বারাসত শহরে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২১ মে সকাল থেকেই তিনি নিখোঁজ। আত্মীয়-পরিজনদের বাড়িতে তাঁর জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। কিন্তু তাতে তাঁর হদিশ না-মেলায় পরদিন ২২ মে বিকেলে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয় বারাসত থানায়।
২৮ মে বৃহস্পতিবার স্মৃতিদেবীর ছেলের মোবাইলে একটি ফোন কল আসে। অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, লালবাজারের মিসিং সেল থেকে বলছি। তারপর টিকিটের দাম পাঠাতে বলা হয়। দাবিমতো টাকা পাঠানোর পর মালদহে জিআরপিতে ফোন করেন তিনি। রেল পুলিশ জানতে চায়—কে ফোন করেছিল, ‘অলোক’ তো? প্রশ্নসহ জবাব শুনে স্মৃতিদেবীর ছেলের আকাশ থেকে পড়েন। রেল পুলিশ তাঁকে জানায়, এটি নিখাদ প্রতারণা। ওই নাম নিয়ে লোকটি আরো কয়েকজনকে এভাবে ফোন করেছে! তারপরই সাইবার ক্রাইম বিভাগে তিনি একটি অভিযোগ নভিভুক্ত করেন। কীভাবে প্রতারকদের হাতে যাচ্ছে নিখোঁজ পরিবারের নম্বর? কেউ নিখোঁজ হলে এখন অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি ও মোবাইল নম্বর দিয়ে পোস্ট শেয়ার করেন। তেমন পোস্ট থেকেই ফোন নম্বর হাতিয়ে এই ধরনের প্রতারণা শুরু হয়েছে।