Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬

অবিলম্বে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা দাবি, ‘ককরোচ’ বিক্ষোভে উত্তাল রাজধানী

দিল্লিতে ককরোচদের বিক্ষোভে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা দাবি। ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ, বিস্তারিত পড়ুন।

অবিলম্বে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা দাবি, ‘ককরোচ’ বিক্ষোভে উত্তাল রাজধানী
  • ৭ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: ২০২৬ সালের নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস। সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় মূল্যায়ন পদ্ধতিতে গুরুতর গোলযোগ। সাম্প্রতিক অতীতে একের পর এক পরীক্ষা আয়োজনে গাফিলতির অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছে মোদি সরকার। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা দাবি করে পথে নামল ‘আরশোলা’রা। শনিবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) মোদি সরকার বিরোধী ধরনা-বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজধানী দিল্লি। ‘ককরোচ’দের প্রধান অভিজিৎ দিপকে ছিলেন সেই বিক্ষোভের সামনের সারিতে। অংশ নিয়েছিলেন লাদাখের পরিবেশবিদ বাস্তবের ‘র‌্যাঞ্চো’ সোনম ওয়াংচুক, সিপিআই (এম-এল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্যরা। কংগ্রেস এদিনের ‘ককরোচ’-বিক্ষোভ থেকে দূরত্ব বজায় রাখলেও হাজির ছিল জেএনইউ ও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্র সংগঠন এবং বিভিন্ন বামপন্থী দল। যন্তরমন্তরের সেই সমাবেশ থেকে মোদি সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন অভিজিৎ—‘কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী অবিলম্বে ইস্তফা না দিলে এক সপ্তাহের মধ্যে সারা দেশে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হবে। আগামী শনিবার দিল্লিতে ফের অবস্থান বিক্ষোভ হবে।’ সোনম ওয়াংচুক বলেন, ‘অভিজিৎ দিপকেকে গ্রেপ্তার করা হলে আমি ছ’সপ্তাহের অনশন ধর্মঘটে শামিল হব।’

Advertisement

‘আরশোলা’দের কর্মসূচি উপলক্ষ্যে রাজধানীজুড়ে এদিন কড়া নিরাপত্তা। নেমেছিল র‌্যাফ। অশান্তি ছড়ানোর আশঙ্কায় অবশ্য দিল্লি পুলিশ কর্মসূচির শুরুতেই ‘ককরোচ’দের ছ’জন সমর্থকদের আটক করে। তবে দিল্লির যন্তরমন্তরে বিক্ষোভের অনুমোদন পাওয়া নিয়ে যে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছিল, তা হয়নি। এদিন সকাল ৮টা নাগাদ দিল্লি বিমানবন্দরে নামেন ‘ককরোচ’ প্রধান অভিজিৎ। হাতে ছিল সংবিধান প্রণেতা আম্বেদকরের আত্মজীবনী। সেখান থেকে তাঁকে একপ্রকার ‘এসকর্ট’ করে বাইরে নিয়ে যায় পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভের আবেদনে সবুজ সংকেত দেয় পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানা।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সংগঠনের হাজিরা দেখে অবশ্য এই কর্মসূচি আদৌ অরাজনৈতিক কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন মহল। যদিও বাস্তবে ব্যাঙ্কিং কর্মী থেকে কলেজ পড়ুয়া— আরশোলার মুখোশ পরে এবং পোস্টার গায়ে সেঁটে যন্তরমন্তরে এদিন হাজির হয়েছিলেন হাজার হাজার তরুণ। ব্যাঙ্কিং কর্মী দীপককুমার গুপ্তা বললেন, ‘কোথাও একটা প্রতিবাদ হওয়া জরুরি। কাউকে তা শুরু করতে হবে।’ স্নাতকস্তরের পড়ুয়া প্রিন্সের অভিযোগ, ‘মোদি সরকার ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। একদিকে চাকরি পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে পরীক্ষা আয়োজনেই ত্রুটি থেকে যাচ্ছে।’ 
এদিনের কর্মসূচি শেষে বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে যান অভিজিৎ দিপকে। তাঁর অভিযোগ, ‘ককরোচ’ গঠন হওয়ার পর থেকেই তাঁর বাবা-মা নিয়মিত হুমকি পাচ্ছেন। কমবয়সি ‘ককরোচ’দের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, প্রতিবাদ চলবেই। মন্ত্রীর ইস্তফার দাবি পূরণ হলে ফের অন্য ইস্যুতে প্রতিবাদ হবে। দেশের কার্যত প্রথম এই জেন-জি বিক্ষোভ মনে করিয়ে দিচ্ছে আম আদমি পার্টির সূচনাকালকে। ফলে অস্বস্তি বাড়ছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ