নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশজুড়ে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগে আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়ছে। বিরোধী দল থেকে প্রতিষ্ঠান—মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং খোদ সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটছে। বাদ নেই প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনাররাও। দিন কয়েক আগেই কলকাতায় একটি কনভেনশনে এসে প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসা এসআইআরের বিরোধিতা করেছিলেন। আর এবার এসআইআরকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ‘ভুয়ো-অন্যায্য’ বলে রীতিমতো তুলোধোনা করলেন প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি। তাঁর সাফ কথা, বাংলার ভোট ‘অবৈধ’।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রয়াত প্রাক্তন স্পিকার হাসিম আবদুল হালিম নামাঙ্কিত মেমোরিয়াল লেকচারে বক্তব্য রাখতে কলকাতায় এসেছিলেন কুরেশি। আলোচনার বিষয়—‘প্রতিটি ভারতীয়ের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন কমিশনের প্রয়োজন’। কুরেশি ছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় নেত্রী ঐশী ঘোষ। কুরেশি বলেন, ‘এখন প্রশ্ন হল, বাংলার নির্বাচন কি বৈধ না অবৈধ? আমার মনে হয়, ওই নির্বাচন বৈধ ছিল না। আমি মিডিয়ায়, জনসমক্ষে বলেছি। সুপ্রিম কোর্টের সামনে সবটা আছে। আদালত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।’ তাঁর সংযোজন, ‘জাতীয় নির্বাচন কমিশন মানেই একা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নন। কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কমিশনের বাকি দুই আধিকারিকের সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের মতামত না মিললে কমিশন সেক্ষেত্রে তাঁর সিদ্ধান্ত খারিজ করবে, এটাই নিয়ম।’ কুরেশি বলেন, ‘ভোটার অ্যাপ্লিকেশন ফর্মে ভারতীয় নাগরিক হিসাবে তাঁর নিজের যে স্বীকারোক্তি, সেটাই একমাত্র নাগরিকত্বের প্রমাণ। এই স্বীকারোক্তি কখনো ভুয়ো বলে প্রমাণিত হলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কারাদণ্ড ও জরিমানার আইনি বিধি রয়েছে।’ এই প্রসঙ্গে কুরেশি তাঁর বক্তব্যে ভারতের প্রথম নির্বাচন কমিশনার সুকুমার সেনের কৃতিত্বের কথা উল্লেখ করেন। কমিশনের কাজ সংযোজন, কখনোই বিয়োজন নয়। সেটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। তীব্র সমালোচনা করেছেন ৬ ও ৭ নম্বর ফর্মের ব্যবহার নিয়েও।
এবার এসআইআরে সবথেকে বড়ো বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে ম্যাপিং নিয়ে। তাকে স্রেফ ‘অযৌক্তিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কুরেশি। আর দেশজুড়ে ১৩ কোটি নাম বাদ যাওয়া নিয়ে কুরেশির রসিকতা, ‘ফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ের উদ্যোগ কাজেই আসেনি। অন্তত এভাবে জনসংখ্যার সমস্যা শেষ হয়ে গেল!’ এরপরই এসআইআর প্রক্রিয়াকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি—‘আমাকে অনেকে জিজ্ঞেস করেছেন, এসআইআর-এনআরসি কি পিছনের দরজা দিয়ে হয়েছে? আমি বলি সামনের দরজা দিয়ে হয়েছে। কিন্তু এসআইআর হল এনআরসির বাবা। বাংলাজুড়ে শুনলাম ৪৯টি বিধানসভায় ৭০-৮০ শতাংশ মুসলিমের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বাংলায় বিচারকদের ভোটার তালিকা নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। এটা একেবারেই সুখকর নয়। তবে এখন পুরোটা সামনে চলে এসেছে। এটা একটা ভালো দিক।’



