নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরে কোনো বড়ো নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং কমিটির (এমবিসি) বৈঠক বাধ্যতামূলক। কিন্তু কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, নির্বাচনি আচরণবিধসহ নানা কারণে গত ফেব্রুয়ারি-মার্চ থেকে এমবিসির বৈঠক বন্ধ। ভোটপর্ব মিটলেই এই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পালাবদলের পর পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়া, পরবর্তী সময়ে তারাতলায় গোডাউন বিপর্যয়ের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। তারাতলার বিপর্যয়ের প্রেক্ষিতে শহরের নির্মীয়মাণ ভবনগুলির ‘সেফটি অডিট’ চলে বহুদিন। এমবিসি বৈঠক না করার জন্য পুর কর্তৃপক্ষ এই ‘অজুহাত’ দিচ্ছিল বলে অভিযোগ। বর্তমানে সেই জটিলতাও কেটেছে। কিন্তু তারপরও পুর কর্তৃপক্ষ এমবিসি বৈঠক নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য করছে না বলেই খবর। এমনকি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুর প্রশাসক তথা কমিশনার স্মিতা পান্ডেকে এমবিসি চালুর নির্দেশ দিলেও গড়িমসি চলছে বলে অভিযোগ। জানা যাচ্ছে, এমবিসির বৈঠক না হওয়ার জন্য কয়েকশো বিল্ডিং প্ল্যানের অনুমোদন আটকে রয়েছে। তার মধ্যে অন্তত ৪৫টি ফাইল ‘রেডি’ হয়ে আছে। সেগুলির স্ক্রুটিনিও হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এমবিসি না হওয়ায় প্ল্যান অনুমোদন হচ্ছে না। শুধু এই ৪৫টি বিল্ডিং প্ল্যানের ফি বাবদ প্রায় ১০০ কোটি টাকা রাজস্ব আটকে রয়েছে পুরসভার।
সংশ্লিষ্ট মহল জানাচ্ছে, বড়ো বড়ো নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া যাচ্ছে না। এমন ২৫০টির বেশি ফাইল পড়ে রয়েছে। আগেই পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর এমবিসির বিষয়ে পুরসভাকে সদর্থক ভূমিকা নিতে বলেছিল। সূত্রের খবর, সম্প্রতি এক ভার্চুয়াল বৈঠকের শেষে মুখ্যমন্ত্রী নিজে স্মিতা পাণ্ডেকে বলেন, ‘শুনেছি, এমবিসির ফাইল রেডি হয়ে পড়ে রয়েছে। আপনি বৈঠক কেন ডাকছেন না? বহু মানুষ ধনতেরাসে যেমন সোনা কেনেন বা নতুন গাড়ি কেনেন, তেমন অনেকে ফ্ল্যাট বুক করেন। এমবিসি না হলে ফ্ল্যাট তৈরি হচ্ছে না। মানুষ কিনবে কী করে! রেভিনিউ আসবে না।’ কিন্তু, সেই নির্দেশের পরও পুরসভার কোনো সদর্থক ভূমিকা দেখা যায়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের।
নিয়ম হল, এমবিসির চেয়ারম্যান হিসাবে থাকেন পুর কমিশনার। মূলত সাত কাঠা বা তার বেশি কিংবা ৫০০০ বর্গফুট বা তার বেশি আয়তনের যে কোনো ‘নন-রেসিডেন্সিয়াল’ বিল্ডিংয়ের নকশা অনুমোদনের জন্য এমবিসি করাতে হয়। ‘কমার্শিয়াল’ ক্ষেত্রে সমস্ত ধরনের নির্মাণেই এমবিসি হয়। কমিটি অনুমোদন দেওয়ার পর তাতে স্বাক্ষর করেন মেয়র। তারপর মেয়র পরিষদে সিলমোহর পড়ে। পুরকর্তারা জানাচ্ছেন, বর্তমানে পুরবোর্ড না থাকায় সেই ক্ষমতা আইনিভাবে প্রশাসকের হাতে রয়েছে। গত কয়েক মাস এমবিসির বৈঠক না হওয়ায় পুরসভার বিল্ডিং খাতে আয়ও ধাক্কা খেয়েছে। বিভিন্ন আবাসন নির্মাণকারী সংগঠনের তরফেও এমবিসি বৈঠক দ্রুত করার জন্য পুরসভাকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে খবর। শহরের এক প্রথম সারির আর্কিটেক্ট বলেন, ‘আমার পাঁচটি বড়ো প্রজেক্ট আটকে পড়ে রয়েছে। এগুলি থেকে পুরসভা অন্তত সাড়ে ৫ কোটি থেকে ৬ কোটি টাকা রেভিনিউ পেত।’ এ প্রসঙ্গে পুরসভার এক শীর্ষকর্তা বলেন, ‘কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা থাকায় এমবিসির বৈঠক করা যাচ্ছে না। সমাধানের চেষ্টা চলছে।’



