নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পুলিশ-প্রশাসনের নাকের ডগায় বেআইনি কারবারের রমরমা। মেয়াদ উত্তীর্ণ তিনচাকার পণ্যবাহী টেম্পোকে বেআইনিভাবে ‘কাটিং’ করে তৈরি করা হচ্ছে যাত্রীবাহী অটো। নেই বৈধ নথি, নেই রুট পারমিট, এমনকি, বহু গাড়ির লাইসেন্স পর্যন্ত নেই বলে অভিযোগ। অথচ ট্রাফিক পুলিশের চোখের সামনেই ধূলাগড়, রানিহাটি থেকে হাওড়া গ্রামীণের একাধিক রুটে প্রতিদিন অবাধে যাত্রী বহন করছে কয়েকশো ডিজেলচালিত গাড়ি। এই বেআইনি গাড়ির দাপটে বৈধ রুট পারমিট থাকা অটোচালক ও মালিকদের কার্যত পথে বসার উপক্রম হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রানিহাটি-আন্দুল, রানিহাটি-ফুলেশ্বর, ধূলাগড়-ফটিকগাছি এবং ধূলাগড়-পাঁচলা— এই চারটি রুটে এমন বেআইনি গাড়ির সংখ্যা কয়েকশো। দেখতে অনেকটা অটোর মতো হলেও আদতে বাতিল তিনচাকার পণ্যবাহী টেম্পোকে কাটিং করে তৈরি হয়েছে সেগুলি। অভিযোগ, কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই জাতীয় সড়কের সার্ভিস রোড ধরে দিনের পর দিন ভাড়ায় চলছে গাড়িগুলি। ফলে যাঁরা ইনস্যুরেন্স, রুট পারমিট সহ যাবতীয় নথি নিয়ে বৈধভাবে অটো চালাচ্ছেন, তাঁদের ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন সাঁকরাইল-একব্বরপুর রুটের অটোচালকরা। এক সময় এই রুটে শতাধিক অটো চললেও বেআইনি গাড়ির দাপটে সেই সংখ্যা কমে এখন ৮০টিতে ঠেকেছে বলে দাবি চালকদের। তাঁদের অভিযোগ, ধূলাগড় মোড় ও ফটিকগাছিতে অবৈধ গাড়ির সিন্ডিকেট বৈধ অটোকে যাত্রী তুলতে বাধা দিচ্ছে। সোমবার এ নিয়েই দু’পক্ষের চালকদের মধ্যে তুমুল বচসা হয়। এক অটোচালককে মারধরের অভিযোগও উঠেছে। অটোচালকদের অভিযোগ, পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগই শুধু নয়, এই বেআইনি কারবারে স্থানীয় নেতাদের একাংশের প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতাদের কেউ কেউ অবৈধ গাড়ির ব্যবসায় যুক্ত বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি, কয়েকজন নেতার দু’-তিনটি করে বেআইনি গাড়ি ভাড়ায় চলছে বলেও অভিযোগ। তাঁদের প্রশ্ন, প্রকাশ্য রাস্তায় দিনের পর দিন এইসব বেআইনি গাড়ি চললেও প্রশাসনের নজরে পড়ছে না কেন? দ্রুত অভিযান চালিয়ে অবৈধ গাড়ি বন্ধ না হলে পথে বসতে হবে। হাওড়া সিটি পুলিশের এক কর্তা বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিজস্ব চিত্র