নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: অন্যের জমিতে রমরমিয়ে চলছে অবৈধ পাথর খাদান। ভূমি রাজস্ব দপ্তরের নথিতে জমির চরিত্র ‘বাইদ’ অর্থাৎ চাষযোগ্য। সেখানেই লক্ষ লক্ষ টাকার পাথর কেটে বিক্রি করার অভিযোগ। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি সামনে এসেছে বারাবনি বিধানসভা এলাকায় কল্ল্যা গ্রাম পঞ্চায়েতে। জমির মালিক স্নেহময় পাতর বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন। বিচারপতি নির্দেশ দেন, খাদান বন্ধ করে জমি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে। অভিযোগ, হাইকোর্টের নির্দেশের পর জেলা ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর পদক্ষেপ করেনি। অভিযোগকারী আদালত অবমাননা করার অভিযোগ হাইকোর্টের ফের মামলা রুজু করে। তখনই বিচারক নির্দেশ দিয়েছেন, পূর্ববর্তী নির্দেশ কার্যকর করার রিপোর্ট পরবর্তী শুনানির দিন জমা করতে হবে। না হলে জেলা ভূমি রাজস্ব আধিকারিকের বিরুদ্ধে রুলিং জারি করা হবে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়েছে প্রশাসনিক মহলে।
জেলাশাসক পোন্নমবলম এস বলেন, বিষয়টি আমার নজরে রয়েছে। পাথর খাদানটি অবৈধ। আমরা জরিমানাও করেছিলাম। মাইনর মিনারেল অ্যাক্ট অনুযায়ী, অবৈধ পাথর খাদান নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে বৈধ ভাবে লিজ দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়। হাইকোর্টকে সেই বিষয়টি জানানো হবে। তারপরে কোর্ট যা রায় দেবে তাই কার্যকর করা হবে। বারাবনি, সালানপুর দুই ব্লকজুড়েই অবৈধ পাথর খাদানের রমরমা। অজয় নদ দখল করেও অবৈধ পাথর খাদান করার হয়েছে। ব্লক ভূমি রাজস্ব আধিকারিক জেলাশাসকের নির্দেশে থানায় অভিযোগ করেই দায় সেরেছেন। ‘বর্তমান’ কাগজে খবরটি হওয়ার পর শোরগোল পড়লেও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। প্রশাসন ও শাসকদলের একাংশের মদতে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মাফিয়ারা অন্যের জমিতেও জোর করে খাদান বানিয়ে দিচ্ছে। কোনও বিরোধী দলই এনিয়ে কড়া প্রতিবাদ না করায় সাধারণ মানুষ রীতিমতো অসহায়। পরিস্থিতি কতট ভয়ঙ্কর তা এই ঘটনা থেকে সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, কল্ল্যা গ্রাম পঞ্চায়েতে এই ধরনের একাধিক অবৈধ পাথর খাদান রয়েছে। যারমধ্যে অন্যতম কল্ল্যা মৌজার ১৯৮ নম্বর প্লটের পাথর খাদানটি। ওই প্লট নম্বরেই জমি কিনেছিলেন স্নেহময় পাতর। অভিযোগ, তাঁর সম্মতি না নিয়েই সেখানে অবৈধ পাথর খাদান করে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক স্তরে অভিযোগ করে কাজ না হওয়ায় তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। সেখানেই খাদান বন্ধ করার রায় দেওয়া হয় ২০২৪ সালে। ২০২৫ সালেও জেলা ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর তা কার্যকর করেনি। অভিযোগকারী জেলা ভূমি ও ভূমি রাজস্ব আধিকারিক অরণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে আদালত অবমাননার মামলা রুজু করেন। সেখানেই বিচারপতি সেপ্টেম্বর মাসে পরবর্তী শুনানির দিন কার্য করে রুলিং দেওয়ার কড়া হুশিয়ারি দিয়েছেন। যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই হরমিন্দ্র সিং কাপুর বলেন, ২০১৬ সালে জমিটি আমি কিনি। কিন্তু তার আগেই অবৈধ ভাবে এখানে পাথর খাদান করা হয়ে গিয়েছিল। আমি খাদানটি বৈধ করতে সচেষ্ট হয়েছি। আমাকে ব্ল্যাকমেল করার জন্যই স্নেহময় পাতর এই কাজ করছে। জানা যায়, শিল্পাঞ্চলজুড়ে অবৈধ পাথর খাদানের রমরমা বাড়ছে। তার পাশাপাশি গজিয়ে উঠছে অজস্র অবৈধ ক্র্যাশার। লোকালয়ে সেই ক্র্যাশারগুলি গজিয়ে ওঠায় ধুলোয় মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে।