নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বেআইনি পার্কিংয়ের সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে। বড় রাস্তা তো বটেই অলিগলিতে পর্যন্ত গজিয়ে উঠছে বেআইনি পার্কিং এরিয়া। ফলে প্রতিদিন বাড়ছে যানজট। ভোগান্তি চরমে উঠছে হাওড়ার বাসিন্দাদের। অন্যদিকে বেআইনি পার্কিংয়ের কারণে পুরসভার আয়ও পৌঁছেছে তলানিতে। এবার হাওড়া শহরের যত্রতত্র বাইক ও গাড়ি পার্ক বন্ধ করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে হাওড়া পুরসভা ও হাওড়া সিটি পুলিস। ইতিমধ্যেই ৩৩টি বেআইনি পার্কিং এরিয়া চিহ্নিত করেছে পুলিস। পাকিং ফি খাতে আয় বাড়াতে ১৪টি পার্কিং এরিয়ার জন্য টেন্ডার ডেকে বিভিন্ন সংস্থাকে দায়িত্ব দিয়েছে পুরসভা।
দানেশ শেখ লেন থেকে পদ্মপুকুর, কাঁটাপুকুর লেন, মালিপাঁচঘড়া, সালকিয়ার হরগঞ্জ বাজার এলাকার সর্বত্রই বেআইনি পার্কিং হচ্ছে। শিবপুর, ব্যাটরা এলাকাতে রমরমিয়ে চলছে ছ’টি বাইক ও চারচাকা গাড়ি রাখার বেআইনি কারবার। ১৪টি পার্কিং এরিয়াকে বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দিয়েছে পুরসভা। সেখান থেকে মোটা টাকা রোজগার হবে। তবে জানা গিয়েছে, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ১৯টি পার্কিং এরিয়ার জন্য বিডে কেউ অংশ নেয়নি। এগুলির অধিকাংশ শিবপুর ও দক্ষিণ হাওড়ার। এই ঘটনায় পুর কর্তৃপক্ষের অনুমান, বেআইনি পার্কিংয়ের রমরমা বজায় রাখতে অসাধু চক্র ইচ্ছাকৃতভাবে স্বচ্ছ টেন্ডার প্রক্রিয়া চাইছে না। এবার সেই জায়গাগুলিতে যাতে কোনওভাবেই কেউ পার্কিং ফি বাবদ টাকা আদায় করতে না পারে সে জন্য নজরদারি বাড়াচ্ছে পুলিস। হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘শহরে বেআইনি পার্কিং বন্ধ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আরও বহু বেআইনি পার্কিং এরিয়া চিহ্নিত হবে। সুষ্ঠুভাবে গাড়ি পার্ক করা হলে যানজট কমবে। ফি খাতে পুরসভার আয় বাড়বে।’ পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বাবদ বছরে প্রায় এক লক্ষ টাকা আদায় সম্ভব।
বেআইনি কারবার গজিয়ে ওঠার অন্যতম কারণ পুলিশি নজরদারির অভাব বলে বক্তব্য বাসিন্দাদের। গত কয়েক মাস আগে পর্যন্ত বেলেপোল থেকে প্রায় ইছাপুর পর্যন্ত শৈলেন মান্না সরণির পাশে থাকা সরকারি ফাঁকা জমিতে চারচাকা গাড়ি বেআইনিভাবে পার্ক করে রাখা হতো। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাস্তার নতুন নামকরণ ও সৌন্দর্যায়নের কাজ শুরু হতেই বেআইনি পার্কিং বন্ধ হয়। অন্যদিকে গত বছরের নভেম্বর মাসে কাজিপাড়া ক্রসিং ও ফোরশোর রোড সংযোগকারী জগৎ ব্যানার্জি ঘাট রোডে ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়। এরপরই হাওড়া সিটি পুলিস দু’টি লেনে পরপর নো পার্কিং সাইনবোর্ড বসায়। কিন্তু চার মাসে উধাও হয়ে গিয়েছে বেশিরভাগ সাইনবোর্ড। ফলে গাড়ি ও বাইক পার্কিং বাড়ছে।
হাওড়া সিটি পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, ‘শহরে বেআইনি পার্কিং রুখতে নজরদারি চালানো হচ্ছে। জনবহুল ও ঘিঞ্জি রাস্তাগুলিতে কোনও ধরনের বেআইনি পার্কিং থাকবে না।’