নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার অস্ত্র উদ্ধার হল হাওড়া স্টেশন থেকে। ওইসঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক বেআইনি অস্ত্র ব্যবসায়ীকেও। শুক্রবার সকালের ঘটনা। পুলিস জানিয়েছে, বিহার থেকে আসতেই হাওড়া স্টেশন চত্বরে তাকে পাকড়াও করে কলকাতা পুলিসের এসটিএফ। মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা বাসিন্দা আমজাদ উল শেখের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি সেভেন এমএম পিস্তল ও চারটি সেমি ফিনিশড আর্মস। সে কলকাতায় কাকে আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করত? ধৃতকে জেরা করে জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
গত সপ্তাহে নোনাডাঙা থেকে সেভেন এমএম পিস্তলসহ দু’জন ধরা পড়ে। তার মধ্যে ছিল এক মহিলাও। পুলিস জানিয়েছে, তারা বিহারের পাটনা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে কলকাতায় আসছিল। মার্চেই শিয়ালদহ স্টেশনে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ধরা পড়ে মালদহের বাসিন্দা এক যুবক। এসটিএফের অফিসাররা বুঝতে পারেন, নাইন এবং সেভেন এমএম পিস্তলসহ বিভিন্ন ধরনের বন্দুক আসছে বিহার থেকে। মালদহের কিছু দুষ্কৃতী এই অস্ত্র কারবারে যুক্ত। তারাই বিহার থেকে আর্মস এনে কলকাতায় সাপ্লাই করে যাচ্ছে। তাদের সঙ্গে কলকাতার বিভিন্ন আর্মস ডিলারের যোগাযোগ রয়েছে।
অভিযুক্তদের মোবাইল ঘেঁটে কয়েকজন অস্ত্র ব্যবসায়ীর নাম পান তদন্তকারীরা। ধৃতদের জেরা করে পুলিস জানতে পারে, তারাও অস্ত্র কেনাবেচার কাজ করছে। একাধিক অস্ত্র ব্যবসায়ীর ফোনে আড়ি পাতা শুরু হয়। তাতে জানা যায়, শিয়ালদহ থেকে বারবার আগ্নেয়াস্ত্র ধরা পড়ায় তারা রুট বদল করে এখন হাওড়া স্টেশনে আসছে। সেখান থেকে বাস ধরে চলে যাচ্ছে দূরের জেলায়। এসটিএফের নজরদারি থাকায় খাস কলকাতায় কোনও লেনদেন হচ্ছে না।
ফোনের সূত্রে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, আমজাদ নামে এক ব্যক্তি হাওড়ায় আসছে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে। এখান থেকে সে চেন্নাই যাবে। স্টেশন চত্বরে আর্মসের হাতবদল ঘটবে। সেইমতো এসটিএফের টিম হাওড়া স্টেশনে পৌঁছয়। সকালে ট্রেন থেকে নামামাত্র তাকে ধরেন অফিসাররা। সঙ্গে থাকা ব্যাগে তল্লাশি চালাতেই উদ্ধার হয় একটি সেভেন এমএম পিস্তল ও চারটি সেমি ফিনিশড আর্মস। পাওয়া গিয়েছে কিছু কার্তুজও।
জেরায় ধৃত ব্যক্তি জানিয়েছে, সেমি ফিনিশড আর্মস এখানকার লেদ কারখানায় যেত। বাকি কাজ সারা হতো সেখানেই। এর আগেও সে একাধিকবার কলকাতায় আগ্নেয়াস্ত্র ডেলিভারি করে গিয়েছে। সে এসব কাদের হাতে দিত? জেরা করে তা জেনেছেন তদন্তকারীরা। এবার সেই দুষ্কৃতীদেরও খোঁজে নেমেছে পুলিস।