নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সীমান্তের ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে একটিও অবৈধ নির্মাণ থাকবে না। সব ভেঙে ফেলতে হবে। অবৈধ নির্মাণ কাকে বলে? সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা এবং মালিকানার নথিপত্রহীন জমিতে তৈরি হওয়া যে কোনও কাঠামো। সেটি দোকান, বাড়ি, ব্যবসাকেন্দ্র, যা কিছু হতে পারে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজস্থানে মঙ্গলবার বর্ডার ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। এরপরই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সুতরাং এবার সীমান্তের কাছে বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে শুরু হবে বুলডোজার দিয়ে অবৈধ কাঠামো ভাঙা। তার আগে এলাকার প্রশাসন ও পঞ্চায়েত কোথায় কোন অবৈধ কাঠামো রয়েছে, তার তালিকা তৈরি করবে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তে সবথেকে বেশি প্রভাব পড়তে চলেছে। সাড়ে ৪ কিলোমিটারের বেশি বিস্তৃত বাংলাদেশ সীমান্ত। যার সিংহভাগ পশ্চিমবঙ্গে। উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, দুই দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও দার্জিলিং জেলায় রয়েছে বাংলাদেশ সীমান্ত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক স্থির করেছে, সীমান্তের ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা সব কাঠামো যেমন ভেঙে ফেলা হবে, তেমনি সীমান্তে নজরদারি ও অভিযানে বিএসএফের পাশাপাশি আরও কেন্দ্রীয় এজেন্সি যুক্ত হবে। তালিকায় রয়েছে সিবিডিটি, এনসিবি, এনআইএ। একইসঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের নিরাপত্তা বাহিনী। সীমান্তবর্তী জেলায় থাকা প্রত্যেক বড় ব্যবসা, ব্যাঙ্ক, শিল্প প্রতিষ্ঠানে নজরদারি চালানো হবে। এই কাজ করবেন জেলাশাসক। ওই সীমান্তবর্তী জেলার ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আর্থিক লেনদেন, অর্থের উৎস, ব্যবসায় লগ্নি সবকিছু আসবে জেলাশাসকের নজরদারি ও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায়। যদি তিনি কোনও অসঙ্গতির সন্ধান পান, তাহলে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা এজেন্সিদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। একইসঙ্গে জেলা প্রশাসন নিয়ম করে জাল আধার কার্ড, ভুয়ো ভোটার কার্ড ধরতে অভিযান চালাবে। সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, চোরাচালান, ড্রাগ ও অস্ত্র চালানের কারবার ঠেকাতেই ৩৬০ ডিগ্রি সিকিউরিটি প্ল্যান নেওয়া হয়েছে। এই মর্মে জেলা প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সি সমন্বয় করবে একে অন্যের সঙ্গে। সীমান্তবর্তী এলাকায় সুরক্ষা বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বস্তুত কেন্দ্রীয় সরকার যে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলায় আরও বেশি করে হস্তক্ষেপ করতে চলেছে সেটা স্পষ্ট। সেই কারণেই কয়েক বছর আগে প্রথমে সীমান্তের ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিএসএফকে অভিযানের অধিকার দেওয়া হয়েছিল। এবার আরও বেশি করে রাজ্যের এক্তিয়ারে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ বাড়ল।



