এসআইআর শেষেও রাজ্যে ‘অবৈধ’ নাগরিক! ২০০ জনের হাতে বিদেশি পাসপোর্ট! তদন্তের নির্দেশ ইআরওদের
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এসআইআরের পরেও রাজ্যে অবৈধ নাগরিকের হদিশ! প্রায় ২০০ জনের কাছে ভিন দেশের পাসপোর্ট রয়েছে বলে উঠে এসেছে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের (এফআরআরও) অভ্যন্তরীণ তদন্তে। সেই রিপোর্ট রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরে জমা পড়ায়, তা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলেই সূত্রের খবর। যার জেরে সংশ্লিষ্টদের নাগরিকত্ব ও নথিপত্র যাচাই করে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (ইআরও)। তাঁদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলে প্রশাসনিক মহল সূত্রে জানা গিয়েছে। 

Advertisement

এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধন ও যাচাইয়ের পরেও কীভাবে এই ধরনের ব্যক্তিদের অস্তিত্ব সামনে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সরগরম হয়েছে রাজনৈতিক মহলও। এফআরআরও’র তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০০ জনের হাতে রয়েছে ভিন দেশের পাসপোর্ট। তাঁদের মধ্যে কেউ ভারতীয় নাগরিক হিসেবে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করে রেখেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখাই এখন অন্যতম লক্ষ্য বলেই জানাচ্ছেন অভিজ্ঞ আমলারা। 
ইতিমধ্যেই হাওড়ার শিবপুরের এক ব্যক্তিকে ঘিরে সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিজেকে ভারতীয় নাগরিক বলে দাবি করলেও, তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ভারতীয় ও বাংলাদেশের দু’টি পাসপোর্ট। কীভাবে একই ব্যক্তির কাছে দুই দেশের পাসপোর্ট এল? তাঁর নাগরিকত্বের প্রকৃত পরিচয় কী? তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এসআইআরের নামে বৈধ ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে রবিবার কেঁপে উঠেছিল দিল্লির রামলীলা ময়দান। বিজেপি বিরোধী মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’র জনসমাবেশ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের পাশাপাশি মোদি-শাহের বিরুদ্ধে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ায় আইন এবং জনতার দরবারেই বিচারের কথা বলেছেন রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে বিরোধী নেতৃত্ব। আবার এই ইস্যুতেই সোমবার হায়দরাবাদ থেকেই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ নিয়ে কড়া মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহকে। এই প্রেক্ষাপটে এসআইআর পরবর্তী পরিস্থিতিতে এফআরআরও’র রিপোর্টে যথেষ্ট চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক থেকে শুরু করে প্রশাসনিক মহল পর্যন্ত। এফআরআরও’র রিপোর্টের ভিত্তিতে এবার সংশ্লিষ্ট ইআরওদের তথ্য যাচাই করে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। নথিপত্র পরীক্ষা, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য যাচাই এবং ভোটার তালিকায় নামের বৈধতা খতিয়ে দেখার পরেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসআইআর পর্বে নাগরিকত্ব ও ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। তার পরেও এ ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় প্রশাসনিক মহলে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। তবে রিপোর্টে যাঁদের নাম উঠে এসেছে, তাঁদের প্রত্যেকেই যে অবৈধ নাগরিক, তা তদন্তের আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। নথি যাচাই ও তদন্তের পরেই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।