Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিদেশে কাজ দেওয়ার নামে অবৈধ কারবার পাসপোর্ট আটকে রেখে প্রতারণা

সৌদি থেকে দুবাই। কাতার থেকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ। সবখানেতে মোটা মাইনের চাকরি ছড়াছড়ি।

বিদেশে কাজ দেওয়ার নামে অবৈধ কারবার পাসপোর্ট আটকে রেখে প্রতারণা
  • ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: সৌদি থেকে দুবাই। কাতার থেকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ। সবখানেতে মোটা মাইনের চাকরি ছড়াছড়ি। পাসপোর্ট ফেললেই হাতে গরম ভিসা। সঙ্গে কাজের নিয়োগপত্র। এমন ‘অফার’-এর ফাঁদে পা দিয়েই লেজেগোবরে অবস্থা একাধিক আবেদনকারীর। আর্থিক প্রতারণার পাশাপশি পাসপোর্ট আটকে রেখে জুটছে লাগাতার হুমকি। রীতিমতো অফিস সাজিয়ে এমন প্রতারণা চক্র চালানোর অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে ধানতলা থানায়।

Advertisement

 
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধানতলা থানার দত্তপুলিয়া এলাকায় অফিস খুলে এই প্রতারণা চক্র চালাচ্ছিল জামালউদ্দিন মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি। কখনও সৌদি তো কখনও দুবাই, মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে কখনও নির্মাণকর্মী থেকে রংয়ের মিস্ত্রি হিসেবে কাজের জন্য নিয়োগপত্র দিত সে। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে ধানতলা থানা এবং রানাঘাট মহকুমা আদালতে অভিযোগ কমবেশি ১৭টি অভিযোগ জমা পড়েছে। সবাই প্রতারণার শিকার। তাঁদের দাবি, দুবাইয়ে কাজ দেওয়ার নাম করে পাসপোর্ট নেওয়ার পরও কাজ দিতে পারেনি জামাল। জোগাড় করতে পারেনি ভিসাও। তাই বাধ্য হয়েই নিজেদের পাসপোর্ট ফেরত চাইতে গিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন। অভিযোগ, পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া তো দূরের কথা, পাল্টা হুমকি দিতে থাকে অভিযুক্ত। জানা গিয়েছে, জামালের ভাই কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল। ভাইকে সামনে রেখে সেই হুমকি দিত বলে অভিযোগ। প্রায় ন’ মাস ধরে পাসপোর্টের আশায় ঘুরপাক খাওয়ার পর প্রতারিতরা দ্বারস্থ হন থানা অথবা আদালতে।  


জমা পড়া সব অভিযোগকে একত্রিত করে তদন্তে নেমেছে ধানতলা থানা। এদিন, বিষয়টি জানতে অভিযুক্ত জামালের অফিসে গিয়ে দেখা যায় রীতিমতো রেটচার্ট টাঙিয়ে চলছে ব্যবসা। অফিস ঘরের টেবিলের উপর থরে থরে সাজানো পাসপোর্ট। সেইসঙ্গে বান্ডিল বান্ডিল টাকা। কোথা থেকে আসে এই টাকা? প্রশ্ন করা হলে ঘাবড়ে যান জামাল। আমতা আমতা করে সে  বলে, ‘এই টাকা পাশের একটি জমি বিক্রি করে পাওয়া গিয়েছে।’ একই সঙ্গে জানায়,  ট্রাভেল এজেন্সি অথবা বিদেশে কাজ দেওয়ার জন্য কোনও লাইসেন্স নেই তার। পার্শ্ববর্তী একটি নির্মাণ সামগ্রী ব্যবসার জিএসটি ব্যবহার করে এই ব্যবসা চলছিল। যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে জামালের বক্তব্য, সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। যাঁরা অভিযোগ তুলেছেন তাঁদেরকে সে চেনেই না। 


প্রতারিতদের তালিকায় কেবলমাত্র নদীয়ার বাসিন্দারাই নন, রয়েছেন মুর্শিদাবাদ, উত্তর চব্বিশ পরগনা, কৃষ্ণনগর সহ একাধিক জায়গার লোকজন। যেমন, উত্তর ২৪ পরগনার নওদা থানার বাসিন্দা মিরন শেখ বলেন, ‘আমাকে চাকরি দেওয়ার নাম করে মোটা টাকা দাবি করা হয়েছিল। দুবাইতে কাজ দেওয়ার কথা ছিল। তারপর আমার থেকে পাসপোর্ট নিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু কাজ মেলেনি। পাসপোর্ট চাইতে গেলে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা যথেষ্ট আতঙ্কে রয়েছি।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতারিত এক ব্যক্তি বলেন, ‘জামালের ভাই কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল পদে কর্মরত। ভাইয়ের চাকরির দোহাই দিয়ে সে আমাদের লাগাতার হুমকি দেয়। আর নিজে প্রতারণার ব্যবসা চালায়। দত্তপুলিয়া এলাকায় প্রকাশ্য রাস্তার ধারে অফিস খুলে তার রমরমা ব্যবসা চলে। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের পাসপোর্ট আটকে রাখা হয়েছে। সেটি ফেরত চাই। তাই, বাধ্য হয়েই আমরা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছি।’


বিষয়টি নিয়ে রানাঘাট জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘আমরা প্রায় তিন-চারটি অভিযোগ পেয়েছি। সেইসব অভিযোগের ভিত্তিতে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ