Bartaman Logo
১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অবৈধ বিল্ডিং: প্রতি সপ্তাহেই রিভিউ মিটিং, বেআইনি নির্মাণে রাশ কলকাতা পুরসভার

এবার অবৈধ নির্মাণকে জরিমানা নিয়ে ছাড়ের ক্ষেত্রে (রেগুলারাইজেশন) রাশ টানতে চাইছে পুর কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডে বিল্ডিং বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন, প্রতি সপ্তাহে অবৈধ নির্মাণ নিয়ে রিভিউ বৈঠক হবে।

অবৈধ বিল্ডিং: প্রতি সপ্তাহেই রিভিউ মিটিং, বেআইনি নির্মাণে রাশ কলকাতা পুরসভার
  • ১৫ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার অবৈধ নির্মাণকে জরিমানা নিয়ে ছাড়ের ক্ষেত্রে (রেগুলারাইজেশন) রাশ টানতে চাইছে পুর কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডে বিল্ডিং বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন, প্রতি সপ্তাহে অবৈধ নির্মাণ নিয়ে রিভিউ বৈঠক হবে। বিভিন্ন জায়গা থেকে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে বেআইনি নির্মাণের তালিকা।

Advertisement

তিলজলায় অগ্নিকাণ্ডের জেরে কলকাতায় অবৈধ নির্মাণ নিয়ে ফের চর্চা শুরু হয়েছে। তিলজলার জি জে খান রোডে, যে বাড়িতে আগুন লেগেছিল, সেই অবৈধ বিল্ডিং ইতিমধ্যেই ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। তার পাশের একটি নির্মাণও ভেঙে ফেলার নির্দেশ জারি হয়েছে। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার শহরে আরও বেশ কয়েকটি অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজে হাত লাগিয়েছে পুরসভা। সেগুলি আদালতের নির্দেশেই ভাঙা হচ্ছে। তার মধ্যে অন্যতম হল ১১১ নম্বর ওয়ার্ডে মিতালি সংঘের মাঠে তৈরি ক্লক টাওয়ার। 
জানা গিয়েছে, হাইকোর্টের অর্ডার সত্ত্বেও এই বেআইনি ক্লক টাওয়ার এতদিন ভাঙা হয়নি। রাজ্যে পালাবদলের পর এই এটি ভাঙার কাজে হাত দিয়েছে প্রশাসন। অন্যদিকে নারকেলভাঙা অঞ্চলেও এদিন একটি বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু হয়। পুরসভা সূত্রে খবর, এতদিন মোটা টাকা জরিমানা করে বহু বেআইনি নির্মাণ বৈধকরণ বা রেগুলারাইজড করা হয়েছে। কিন্তু, বর্তমান বিজেপি সরকারের বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত জিরো টলারেন্স নীতির পরিপ্রেক্ষিতে পুর কমিশনারও কড়া বার্তা দিয়েছেন। রেগুলারাইজেশনে রাশ টানতে চাইছেন তিনি। পাশাপাশি, শহরের বিভিন্ন বেআইনি নির্মাণের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন কমিশনার। কয়েক দফায় সেই তালিকা নিয়ে বৈঠক হয়েছে। ঠিক হয়েছে, প্রতি সপ্তাহে শনিবার করে কিংবা অন্য কোনো দিনে সাপ্তাহিক রিভিউ মিটিং হবে। মূলত বেআইনি নির্মাণের হাল-হকিকত নিয়ে সাপ্তাহিক পর্যালোচনা করবেন পুর কমিশনার। কোন কোন বেআইনি নির্মাণ নিয়ে মামলা চলছে, সেগুলি সম্পর্কে আদালতের নির্দেশ কী, সেই নির্দেশ কতটা কার্যকর হয়েছে, এর বাইরে আর কয়টি বেআইনি নির্মাণ নিয়ে অভিযোগ এসেছে, সবই খতিয়ে দেখতে চায় পুরসভা। তবে, বেআইনি নির্মাণ ভাঙার বিষয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে পুরসভার কর্তাদের একাংশ সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, কোনো বেআইনি নির্মাণ নিয়ে অভিযোগ উঠলে তদন্তের প্রয়োজন হয়। সেখানে সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিকপক্ষকে সাতদিনের জন্য নোটিস দিতে হয়। তারপরেই ভাঙার সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা। কিন্তু, এক্ষেত্রে এই নিয়ম কতটা মানা হচ্ছে বা আগামী দিনে কতটা মানা হবে, তা নিয়ে সন্দিহান পুর অধিকারিকদের একাংশ। পাশাপাশি, আইন অনুযায়ী রেগুলারাইজেশন কীভাবে আটকানো যায়, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পুর-কর্তাদের একাংশ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ