নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: অনুপ্রবেশ নিয়ে সুর চড়াচ্ছেন বিজেপি নেতারা। অথচ দলেরই একাংশর দাবি, বর্ধমান সাংগঠনিক জেলায় সদ্য প্রকাশ হওয়া মণ্ডল সভাপতির তালিকাতে রয়েছেন এক বাংলাদেশি। তিনি বর্ধমান শহরে থাকলেও তাঁর বাবা-মা নাকি এখনও বাংলাদেশে রয়েছেন। তিনি ভারতীয় নাগরিক নন। বিষয়টি জানিয়ে একাংশর নেতারা রাজ্য নেতৃত্বর কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। কেশব কোনার নামে বিজেপির এক প্রবীণ নেতা চিঠিতে লিখেছেন, দলে অনেক যোগ্য লোক ছিলেন। তাঁদের গুরুত্ব দেওয়া হল না। অথচ এক বাংলাদেশিকে পদে বসানো হয়েছে। ওই মণ্ডল সভাপতির জন্ম বাংলাদেশে। এখনও তাঁর পরিবারের লোকজন সে দেশে রয়েছেন। তিনি নিজের এলাকাতেও কোনও দিনই সক্রিয়ভাবে পার্টি করেননি। অথচ তাঁকে মণ্ডল সভাপতি করে দেওয়া হল।
বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস বলেন, এরাজ্যের কেউ বিজেপি করতে চায় না। সেই কারণে বাংলাদেশের লোকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই নেতা নাকি রথতলা এলাকায় থাকে শুনলাম। কিন্তু ওঁকে কোনও দল করতে দেখেনি।
বিজেপি নেতা কেশব কোনার বলেন, ‘বাংলাদেশি’কে পদে বসানো নিয়ে দলে সমালোচনার ঝড় বইছে। অনেক পুরনো নেতা এবং কর্মী বসে রয়েছেন। তাঁদের পদে বসানো যেতে পারত। অথচ ওই ‘বাংলাদেশি’কে পদ দিয়ে দেওয়া হল। বিষয়টি রাজ্য নেতৃত্বকে জানিয়েছি। ওরা পদক্ষেপ না নিলে আমরা অন্য পদক্ষেপ নেব। প্রয়োজনে আন্দোলনে নামা হবে। আমরা চাই না দলের ক্ষতি হোক।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, সদ্য ঘোষিত একাধিক মণ্ডল সভাপতিকে নিয়ে দলের অন্দরমহলে সমালোচনার ঝড় বইছে। গলসির এক মণ্ডল সভাপতিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে তোপ দাগা হচ্ছে। অনেক জায়গায় দক্ষ নেতারা সংগঠনের দায়িত্ব নিতে চাইছেন না। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অনেকে ময়দানে নেমে বিপদে পড়েছিলেন। দল সেই সময় পাশে ছিল না। তাঁরা এখন আর নতুন করে দায়িত্ব নিতে রাজি নয়। সেই কারণে অনক মণ্ডলে ‘অযোগ্য’দের পদে বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ। দলের এক নেতা বলেন, গোষ্ঠীকোন্দল মেটানোর জন্য রাজ্য থেকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক নেতাকে আলাদা আলাদা দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু তারপরও কোন্দল মিটছে না।
বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া শ্যামল রায় বলেন, ওদের মধ্যে কোনও শৃঙ্খলা নেই। নিজের পছন্দের লোকজনের পদে বসায়। দক্ষ নেতাদের গুরুত্ব নেই। সেই কারণে বিজেপি ছেড়েছিলাম। যে মণ্ডল সভাপতির নাম নিয়ে বিতর্ক চলতে তাঁর নাম কোনও দিন শুনিনি। পরে জানতে পারি, উনি বাংলাদেশি। ওই নেতা অবশ্য এনিয়ে কিছু বলতে রাজি নন। তিনি বলেন, আমার কী নথি আছে কি নেই, তা পরে দেখাব। বিজেপি নেতা রাজু পাত্র বলেন, উনি বহুদিন ধরেই দল করছেন। ওঁর কাছে ভারতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে। তবুও নেতৃত্ব বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবে।