সোমনাথ বসু, কলকাতা: সোমবার শক্তি আরাধনায় ব্রতী হবে বাঙালি। তার আগে রবিবার ভূত চতুর্দশীতে চৌদ্দ শাক থাকবে পাতে, আর চৌদ্দ প্রদীপ জ্বলবে রাতে। তবে শহরে উৎসব শুরু হয়ে গেল শুক্রবারই। বেশ কিছু মণ্ডপ খুলে দেওয়া হয়েছে প্যান্ডেল হপারদের জন্য। নুঙ্গি-চম্পাহাটিতে আতশবাজি কেনার দেদার ভিড়। বাড়ি বা আবাসন সেজে উঠেছে চাইনিজ রাইস টুনিতে। জ্বলছে-নিভছে। তবে কোথাও হারিয়ে গিয়েছে সেই আকাশপ্রদীপ। অনেকটা কলকাতা ফুটবলের গরিমার মতো। অতীতে আইএফএ শিল্ড ফাইনালে মোহন বাগান-ইস্ট বেঙ্গল মুখোমুখি মানেই তিরতিরে উত্তেজনা। টেনশন কাটাতে বিভিন্ন সংস্কারের আশ্রয় নেওয়া। দু’দিন আগে থেকে টিকিটের হাহাকার। কিন্তু শনিবার শিল্ড ফাইনালে ৬৭ হাজারের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন হাউসফুল হওয়ার সম্ভাবনা কম। এর অন্যতম কারণ, মোহন বাগান সমর্থকদের ক্ষোভ। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-টু খেলতে ইরানে না যাওয়ার ক্ষোভ এখনও তাঁদের মধ্যে রয়েছে। শিল্ডের প্রথম দু’টি ম্যাচে সমর্থকদের উপস্থিতির হার তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁবুতে সমর্থকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন ক্লাব সভাপতি দেবাশিস দত্ত ও সচিব সৃঞ্জয় বসু। এটাই দেখার যে, এই বৈঠকের পর মোহন অনুরাগীরা যাবতীয় ক্ষোভ মনের সিন্দুকে রেখে মাঠ ভরান কি না।
লিখতে কোনও দ্বিধা নেই, দলগত শক্তির নিরিখে ইস্ট বেঙ্গলের থেকে এগিয়ে মোহন বাগান। কিন্তু চলতি মরশুমে হোসে মোলিনার দল বেশ বিবর্ণ। ডুরান্ড কাপের ডার্বিতে হারের পর ঘরে-বাইরে প্রবল সমালোচিত হতে হয়েছে লিস্টন-ম্যাকলারেনদের। এরপর ইরানে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত ক্লাব অন্ত প্রাণ সমর্থকদের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালে। তাই শনিবার মর্যাদার ম্যাচে নামার আগে বেশ চাপে মোহন বাগান। তবে পেশাদার কামিংস-রবসনরা জানেন, শিল্ড চ্যাম্পিয়ন হলে এই অনুরাগীরাই তাঁদের মাথায় তুলে নাচবেন। তাই ফাইনাল জেতার তাগিদ ইস্ট বেঙ্গলের তুলনায় মোহন বাগানের বেশি। পক্ষান্তরে, ইস্ট বেঙ্গল শিবির অনেক চনমনে। কোনও চাপই নেই তাদের উপর। জাপানি হিরোশি কোচ অস্কারের তুরুপের তাস। এছাড়া রয়েছেন মিগুয়েল, হামিদ, রশিদরা। ডুরান্ড কাপে ডার্বি জয় নিঃসন্দেহে লাল-ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। খেলার ফল যাই হোক না কেন, প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে লড়ার ক্ষমতা রয়েছে এই ইস্ট বেঙ্গলের।
মোহন বাগানে ম্যাচ উইনার বেশি। ম্যাকলারেন, কামিংস, লিস্টনরা ছন্দে থাকলে ইস্ট বেঙ্গল ডিফেন্ডারদের কপালে দুঃখ রয়েছে। কিন্তু সবুজ-মেরুন রক্ষণও গতবারের ফর্মে নেই। ইস্ট বেঙ্গল চাইবে, মাঝমাঠ সংগঠিত রেখে দ্রুতগতির প্রতি-আক্রমণে গোল তুলে নিতে। আর মোহন বাগান অ্যাটাকের প্রধান উৎস দুই উইং। তবে মনে হচ্ছে, শিল্ড ফাইনালের ভাগ্য নির্ভর করছে ফ্রি-কিক এবং কর্নার কাজে লাগানোর উপর।
আইএফএ শিল্ডের সফলতম দল ইস্ট বেঙ্গল। ২৯বার তারা এই ট্রফি ঘরে তুলেছে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহন বাগান জিতেছে ২০ বার। শেষ খেতাব সেই ২০০৩ সালে। এবার সেই খরা কাটাতে মরিয়া মোলিনার দল। কিন্তু তারজন্য প্রয়োজন অস্কার-ব্রিগেডের চ্যালেঞ্জ টপকানো। শনিবার রাতে যুবভারতীর আকাশ প্রদীপের রং কী হবে তার জন্য অপেক্ষা আর কয়েক ঘণ্টার। তবে এটা ঠিক, আতশবাজি নিয়ে তৈরি দুই দলের সমর্থকরাই। কারণ তাঁরা জানেন, ফেডারেশনের দৌলতে ভারতীয় ফুটবল এখন দিশাহীন যাত্রী। কিন্তু একমাত্র এই ম্যাচই পারে দূর অজানার পারে আকুল আশার খেয়া বাইতে।