নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এককাট্টা বিরোধীরা। আর সেই চাপে রীতিমতো অসহায় দশা মোদি-শাহের। হাল ছাড়লেন স্পিকার ওম বিড়লাও। সরকার রাজি থাকলেও দাবিতে অনড় বিরোধীদের বিক্ষোভের জেরে হল না নিট ইস্যুতে ছাত্র আন্দোলন নিয়ে আলোচনা। বিরোধীদের স্পষ্ট তিন দাবি—ছাত্র বিক্ষোভে পেলেট গান ও একে-৪৭ থেকে গুলি চালানোর অর্ডার কে দিয়েছিল, তা বলতে হবে অমিত শাহকে। আলোচনা করতে হবে অযোধ্যার রাম মন্দিরের প্রণামি চুরি নিয়ে। ক্ষমা চাইতে হবে প্রধানমন্ত্রীকে। কিন্তু কেন্দ্র শুধু ছাত্র আন্দোলন নিয়ে আলোচনায় রাজি। ফলে বিরোধীদের সম্মিলিত অবস্থানের সামনে স্নায়ুযুদ্ধে পর্যুদস্ত মোদি সরকার। বুধবার সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, ‘আমি হতাশ। আলোচনায় অংশ নিয়ে জবাব দিতে তৈরি অমিত শাহজি। তাই স্পিকারকে চিঠি লিখে তাঁর অনুরোধ, বিরোধীদের রাজি করান। তাও হচ্ছে না। এই প্রথম দেখলাম, সরকার আলোচনায় রাজি। বিরোধীরা নারাজ।’
পালটা জবাব দিয়েছেন রাহুল গান্ধীও। সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়ে সাফ জানালেন, ‘অমিত শাহজির কোনো লেকচার আমরা শুনতে চাই না। একটাই প্রশ্ন, ছাত্র-যুব আন্দোলনে কার নির্দেশে পেলেট গান, গুলি চলল? জবাব দিন, নাহলে অমিত শাহ ইস্তফা দিন। সাহস থাকলে সভার অন্দরে আসুন। কেন সংসদ ভবনে এসে নিজের অফিসে বসে আছেন?’ রাহুলের সুরে সুর মেলান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, ‘কেন জবাবদিহি থেকে পালাচ্ছেন অমিত শাহ? আসলে তিনি নার্ভাস। ভালো করেই জানেন যে, তাঁর পরিকল্পনা মোতাবেক ছাত্র-যুবর উপর পুলিশি হামলা হয়েছে। দল ভাঙানোর পরেও সংখ্যাগরিষ্ঠার জোর দেখাতে পারছেন না অমিত শাহ?’ আজ অধিবেশনের শেষদিনে কী হয় দেখে কলকাতা ফিরবেন অভিষেক। ২৮ আগস্ট, তৃণমূলের ছাত্র পরিষদের কর্মসূচি সেরেই চোখের চেকআপে আমেরিকা যাবেন।
এদিনও সংসদ চত্বর থেকে লোকসভার অন্দরে চলল বিরোধী বিক্ষোভ। প্ল্যাকার্ডকে ভেঁপুর মতো করে উঠল স্লোগান, ‘অমিত শাহ সদন মে আও। চোর চোর, চান্দা চোর গদ্দি ছোড়।’ সরাসরি অমিত শাহর নাম না করেও সংসদ চত্বরে অভিনব বিক্ষোভ দেখালেন তৃণমূলের কীর্তি আজাদ এবং সামিরুল ইসলাম। সাদা টিশার্টে লেখা ‘মিসিং কৌন?’ কংগ্রেস-জেএমএম শাসিত ঝাড়খণ্ডে ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে মকর দ্বারের সামনে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপিও। সেখানে সরকার ও বিরোধী পক্ষের বচসা আটকাতে কার্যত পাঁচিল হয়ে দাঁড়ান সিআইএসএফ কর্মীরা।
এদিকে, লোকসভায় প্রবল হট্টগোলের মধ্যে মাত্র চার মিনিটেই ‘এমএমআরডি’ বিল পাস করল সরকার। ‘এফসিআরএ’ বিল পাঠানো হল যৌথ সংসদীয় কমিটিতে। যদিও বিরোধীদের দাবি, প্রত্যাহার করতে হবে এই বিল। প্রতিবাদে আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়াতে দেখা গেল বিদ্রোহী তৃণমূলের আবু তাহের খানকেও। এনডিএ শরিক হলেও সংখ্যালঘুর উপর আঘাত আসতে পারে, এমন বিলের বিরোধিতাই যে তাঁর অবস্থান।