


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: টোল প্লাজায় লম্বা লাইন! শুধু ফাস্ট্যাগেও কাটছে না দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রহর। সমস্যা মেটাতে মাত্র ছ’মাস আগে কেন্দ্রীয় সরকার চালু করেছে ‘ফ্যাস্ট্যাগ অ্যানুয়াল পাস’। ইতিমধ্যে ৫০ লক্ষেরও বেশি গ্রাহক তা ব্যবহার করেছেন। এহেন জনপ্রিয়তাই কাল হল। সাইবার জালিয়াতদের নতুন অস্ত্র এখন জাতীয় সড়কে টোলের এই বার্ষিক পাস। সুলভে পাস করানোর টোপ দিয়েই টাকা হাতানোর জন্য নতুন ফাঁদ পাতা হচ্ছে অনলাইন দুনিয়ায়। গুগলে এব্যাপারে সার্চ করলেই খোঁজ মিলছে ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অব ইন্ডিয়ার নামে খোলা ভূরি ভূরি ভুয়ো ওয়েবসাইটের। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য হাতে আসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের। তারপরই রাজ্যগুলির কাছে এব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে নির্দেশিকা। ভুয়ো ওয়েবসাইটগুলি বন্ধ করার জন্য গুগলের কাছেও চিঠি যাচ্ছে বলে খবর।
জাতীয় সড়কে টোল ট্যাক্স মেটানোর জন্য সমস্ত ধরনের গাড়িতে ফাস্ট্যাগ থাকা কার্যত বাধ্যতামূলক। অনেকেই সেই অ্যাকাউন্টে মোটা অঙ্কের টাকা ভরে রাখেন। নিয়মিত যারা টোল দিয়ে যাতায়তে করেন তাদের সুবিধার জন্য গত বছর স্বাধীনতা দিবসে ফ্যাস্ট্যাগের নতুন এই বার্ষিক পাস চালু করে পরিবহণ মন্ত্রক। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের দাবি, বিগত ২-৩ মাস ধরেই ফাস্ট্যাগের এই বার্ষিক পাস করানোর জন্য বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন তাদের নজরে এসেছে। সেখানে এও উল্লেখ থাকছে, এই পাস টোলপ্লাজার গেটে পাঞ্চ করালে গাড়ি অনায়াসে বেরিয়ে যাবে। অত্যন্ত কম টাকার বিনিময়ে করানো যাবে পাস। অর্থাৎ, ৩০০০ টাকা লাগবে না। এমন কোনো পাসের অস্তিত্ব নেই। কিন্তু লোভে পড়ে সেই ফাঁদেই পা দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
কীভাবে চলছে এই জালিয়াতি? ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অব ইন্ডিয়ার নামে একাধিক ভুয়ো ওয়েবসাইট খুলেছে সাইবার প্রতারকরা। সেগুলির ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং, লোগো সবই হুবহু সরকারি পোর্টালগুলির মতো। কেউ ফাস্ট্যাগ অ্যানুয়াল পাস নিয়ে গুগলে সার্চ দিলেই একবারে উপরে থাকছে ওই ভুয়ো ওয়েবসাইটগুলি। সৌজন্যে ‘পেইড অ্যাড’ এবং ‘সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন’। প্রতারকদের বিজ্ঞাপনের টোপ গিলে এই জাল ওয়েবসাইটগুলিতে ক্লিক করে বসেছেন অনেকেই। সেখানে প্রথমেই জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে গ্রাহকের ফোননম্বর, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ডিটেইলস এবং পেমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য। পেমেন্ট গেটওয়েও একেবারে আসলের মতো দেখতে। কিন্তু গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কোনো সরকারি এজেন্সির কাছে যাচ্ছে না। তা চলে যাচ্ছে প্রতারকদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কোনো অ্যকাউন্টে। এভাবে বার্ষিক পাসের লোভে অনেকেই টাকা খুইয়েছেন। সাইবার জালিয়াতির এহেন নয়া কৌশল নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে অভিযোগ জানায় জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। ভুয়ো ওয়েবসাইটগুলি চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, গাড়ি মালিকদের থেকে হাতানো টাকা বিভিন্ন মিউল অ্যাকাউন্টে গিয়েছে। সেগুলির ব্যাপারে বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে তথ্য চেয়ে পাঠানো হয়েছে। অ্যাকাউন্টগুলির মালিকদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেবে বিভিন্ন এজেন্সি।