সোনি লিভ-এর ‘কোর্ট কাছেরি’ সিরিজে সম্প্রতি আশিস ভার্মার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। সাক্ষাৎকারে অভিনয় জগৎ নিয়ে নানা কথা ভাগ করে নিলেন তিনি।
সোনি লিভ-এর ‘কোর্ট কাছেরি’ সিরিজে সম্প্রতি আশিস ভার্মার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। সাক্ষাৎকারে অভিনয় জগৎ নিয়ে নানা কথা ভাগ করে নিলেন তিনি।
‘কোর্ট কাছেরি’ সিরিজে আপনার চরিত্র ‘পরম’-এর সঙ্গে বাস্তবের মিল রয়েছে?
অবশ্যই। কোনও না কোনও বাড়িতে এই পরমকে আপনি খুঁজে পাবেন। কিন্তু আমার সঙ্গে ‘পরম’-এর মিল নেই। সিরিজে ‘পরম’-এর বাবা চায় যে তার ছেলে তারই মতো আইনজীবী হোক। কিন্তু আমার মা নিজে আইনজীবী হয়েও চায়নি, আমি আইন নিয়ে পড়াশোনা করি। অভিনয়ের ক্ষেত্রে সবসময় বাবা-মা সাপোর্ট করেছেন।
পর্দায় আইনজীবী হয়ে উঠতে মায়ের থেকে সাহায্য নিয়েছেন?
ছোটবেলা থেকে অনেক আইনজীবীকে আমি দেখেছি। তাঁদের হাবভাব, শারীরিক ভাষা সম্পর্কে আমার ধারণা ছিল। এই সিরিজের রিসার্চ দারুণ হয়েছিল। মায়ের থেকে আইনের নিয়ম সম্পর্কে জেনেছিলাম।
ছোট থেকেই কি অভিনেতা হতে চেয়েছিলেন?
স্কুল-কলেজে পড়াকালীন আমি প্রচুর নাটকে অভিনয় করেছি। এরপর এফটিআইআই-তে স্নাতকোত্তর করার সুযোগ পাই। তারপর থেকে অভিনয় নিয়ে আরও সিরিয়াস হই।
কেরিয়ারের শুরু থেকে এখন— স্ট্রাগল কতটা বদলেছে?
আমি মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হয়েছি। একটা পর্যায় পর্যন্ত পরিবার সাপোর্ট করেছে। কিন্তু পরের লড়াইটা আমাকেই লড়তে হয়েছে। এখন যাতে ক্রমাগত কাজ পেতে পারি, সেটা স্ট্রাগল। নিজের কাজ দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়া, প্রতিষ্ঠিত করা আবার অন্য এক স্ট্রাগল।
এই সিরিজে ‘নেপোটিজম’-এর গল্প রয়েছে। এ বিষয়ে আপনার কী মত?
‘নেপোটিজম’ সব ক্ষেত্রেই আছে। এর মধ্যে আমি কোনও অন্যায় দেখি না। কিন্তু যখন জোর করে কাউকে অভিনয়ে নিয়ে আসা হয়, তখন সমস্যা তৈরি হয়। নেপো-কিড হওয়ার ফলে শুরুটা অনেক সহজ হয়ে যায়। আমার মতো যারা ইন্ডাস্ট্রির বাইরে থেকে আসে তাদের অনেক লড়াই করতে হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রতিভাই সবকিছু। প্রতিভা না থাকলে দর্শক ছুড়ে ফেলে দেবে। তারকা সন্তান না হয়েও সফল হওয়ার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলেন শাহরুখ খান।
অনিশ্চিত পেশার জগতে নিরাপত্তার অভাব অনুভব করেন?
সবাই কমবেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। আমি ছোট থেকেই অভিনেতা হতে চেয়েছিলাম। এখন যখন এই দুনিয়ায় এসে গিয়েছি, এটাকে মেনে নিতেই হবে।
ইন্ডাস্ট্রিতে খাঁটি বন্ধুত্ব হয়?
অনেকেই বলেন যে, এখানে শুধু স্বার্থের কারণে বন্ধুত্ব হয়। এটা ঠিক নয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অমল পরাশর— আমার ভালো বন্ধু। নিমরত কাউরের সঙ্গে আমার ভীষণই ভালো সম্পর্ক। ডিম্পল (কাপাডিয়া) ম্যামকে আমি যখন খুশি ফোন করতে পারি। অক্ষয় (কুমার) স্যার, পবন স্যার (মালহোত্রা), ধনুষ এদের প্রত্যেকের সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক। প্রত্যেকে আমার শুভাকাঙ্ক্ষী।
স্ত্রী রঞ্জিনী (চক্রবর্তী) আপনাকে কতটা বাঙালি করে তুলেছে?
আমি এখন বাংলা বুঝতে পারি, অল্প বলতেও পারি। বিয়ের পর বাড়ির হেঁশেলে বাঙালি পদ বেশি রান্না হয়। আজও বাড়িতে রুই মাছের কালিয়া হয়েছে (হাসি)।
রঞ্জিনী নিজেও অভিনেত্রী, আপনাদের মধ্যে কে বড় সমালোচক?
আমি কাজের সমালোচনা বেশি করি।
দেবারতি ভট্টাচার্য • মুম্বই