


নিজস্ব প্রতিনিধি, চাকদহ ও বনগাঁ: মঙ্গলবার ‘মতুয়াগড়ে’ দলীয় প্রার্থীদের প্রচারে গিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে সুর সপ্তমে তুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন পরপর তিনটি জনসভা করেন তিনি। প্রতিটি সভায় মতুয়া সমাজের মানুষজনের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। সভা থেকে তিনি মতুয়াদের নাগরিকত্বের প্রশ্নে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ করেন। সেই সঙ্গে এসআইআরে নাম বাদ পড়ার ফলে তৈরি হওয়া অনিশ্চিয়তা নিয়েও সরব হন মমতা। তৃণমূল সুপ্রিমো বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, ‘মতুয়াদের অধিকার কাড়ার চেষ্টা করবেন না। সেই চেষ্টা করলে আমার চেয়ে ভয়ংকর আর কেউ হবে না।’ সেই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘যারা ২০২৪ সালে এখানে এসেছে, ওরা (কেন্দ্রীয় সরকার) তাদের নাগরিকত্ব দিল। অথচ যারা যুগ যুগ ধরে এখানে বসবাস করছে, তাদের নাম কেটে বাদ দিচ্ছে।’
বাগদা, হরিণঘাটা, গাইঘাটা এবং চাকদহে বহু মতুয়া ভোটারের নাম কাটা পড়েছে। দেখা দিয়েছে ‘বেনাগরিক’ হয়ে পড়ার আশঙ্কা। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন মমতা। জানিয়েছেন, ‘অন্যান্য সব বাদ পড়া ভোটারদের মতোই মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোটাধিকারের জন্য ট্রাইবুনালে লড়াই করব। কিন্তু আমার প্রশ্ন, কেন এই বৈষম্য করা হচ্ছে? কেন মতুয়াদের টার্গেট করা হচ্ছে?’
ঠাকুরনগরের ঠাকুর পরিবারে বিভেদ সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার অভিযোগও তুলেছেন মমতা। এদিন তিনি বলেন, ‘যারা আজ ঠাকুর পরিবারে বিভেদ করে ভাবছে ভোটের রাজনীতি করবে, আমি বলছি, বেশি কথা বলো না। অনিল আম্বানির কেসে কার কার নাম আছে জানি। শুধু বিজেপি করো বলে তোমাদের ঘরে ইডি-সিবিআই আসে না। তৃণমূল করলে কিছু না করলেও ইডি-সিবিআই আসে। বেশি কথা বললে মুখোশ খুলে দেব।’
এদিনের তিন সভায় ডঙ্কা, কাঁসর বাজিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভ্যর্থনা জানান মতুয়ারা। বনগাঁর সভায় এসেছিলেন দেবগড়ের বাসিন্দা কৃষ্ণ সেন। ২০০২ সালে তাঁর মায়ের নাম ভোটার তালিকায় থাকলেও এবার তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। এদিন কৃষ্ণ বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মতুয়াদের পাশে থাকেন। প্রথম থেকেই তিনি আমাদের জন্য লড়াই করছেন।’ এদিন শুভঙ্কর সিংহ (যিশু), অতীন্দ্রনাথ মন্ডল এবং রাজীব বিশ্বাসের সমর্থনে চাকদহে জনসভা সেরে বনগাঁ স্টেডিয়ামে পৌছান মমতা। সেখানে দলীয় প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস, ঋতুপর্ণা আঢ্য, মধুপর্ণা ঠাকুর ও নরোত্তম বিশ্বাসকে ভোট দেওয়ার আরজি জানান তিনি। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং নারায়ণ গোস্বামীর সমর্থনে দিনের তৃতীয় সভা করেন হাবড়ায়। টানা আড়াই সপ্তাহ ধরে জেলায় জেলায় ঘুরে প্রচার চালাচ্ছেন মমতা। মঙ্গলবার হাবড়া থেকে কলকাতায় ফেরেন
তিনি। বুধবার মনোনয়ন পেশের পরেই আরামবাগের উদ্দেশে রওনা হবেন মমতা।