নিজস্ব প্রতিনিধি কৃষ্ণনগর ও সংবাদদাতা তেহট্ট: জেলাশাসক অফিসের পরিবর্তে এবার প্রতিটি ব্লক অফিসেই জমা নেওয়া হবে ফর্ম-৬ আবেদন। অর্থাৎ, ভোটার তালিকায় নতুন করে নাম তোলার জন্য ছুটে আসতে হবে না কৃষ্ণনগর জেলাশাসকের অফিসে। এবার থেকে বিডিও অফিসে সেই নথি জমা নেওয়া হবে। শুক্রবার এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। মূলত জেলাশাসক অফিসে ভিড়ের চাপ সামলাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনলাইনে আবেদন করার জন্য ভোটারদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।
নদীয়ার জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনি আধিকারিক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, এখন থেকে সংশ্লিষ্ট বিডিও অফিসেই আবেদন জমা নেওয়া হবে। কাউকে আর কষ্ট করে জেলাশাসক অফিসে আসতে হবে না।
বৈধ ভোটার হয়েও ভোটার তালিকা থেকে নাম পড়েছে বহু ভোটারের। নদীয়া জেলায় প্রায় ৬২ হাজার নাম বাদ পড়েছে। তার মধ্যে অনেকেই বৈধ ভোটার। দেখা যাচ্ছে, পরিবারের বাকি সকলের নাম থাকলেও কোনো এক বা একাধিক সদস্যকে ভোটার তালিকায় ডিলিট দেখানো হয়েছে। যার ফলে বিগত কয়েকদিন ধরেই জেলাশাসক অফিসে ফর্ম-৬ এর মাধ্যমে নতুন করে নাম তুলতে ভিড় উপচে পড়ছে। করিমপুর, কল্যাণীর মতো দূর দূরান্ত থেকে কৃষ্ণনগরের আবেদন জমা করতে আসছিলেন ভোটাররা। যার ফলে জেলাশাসক অফিসের বাইরে দীর্ঘ লাইন পড়ছিল। গত বুধবার একদিনেই প্রায় তিন হাজার আবেদন জমা পড়েছে। সোমবার থেকে সেই আবেদন পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে।
এই ব্যবস্থা নেওয়ায় খুশি তেহট্টের বাদ যাওয়া ভোটাররা। ২৮ তারিখ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বের হয়েছে। তেহট্ট-১ ব্লকে ২২৫৬ জন ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছেন। যাঁদের নথি ঠিক রয়েছে তাঁদের আবেদন করতে জেলা নির্বাচনি আধিকারিকের কাছে কৃষ্ণনগর যেতে হত। তেহট্ট থেকে যার দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। আবার করিমপুর থেকে কৃষ্ণনগরের দূরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটার। এতে চূড়ান্ত হয়রান হওয়ার আশঙ্কা করছিলেন। বিডিও অফিসে সেই আবেদন জমা নেওয়ার জেরে হয়রানি অনেকটাই কমবে। নাম বাদ যাওয়া এক ভোটার সুনজিত সাহা বলেন, আমরা দিনমজুর। কৃষ্ণনগর যাওয়া আমাদের পক্ষে সমস্যা ছিল। সময় ও অর্থ দুই বেশি লাগত। বিডিও অফিসে জমা দেওয়া গেলে সুবিধা হবে।