Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

ছবি ভালো হলে নির্দিষ্ট সময়ে রিলিজের জন্য লড়ব না

শুধু প্রযোজক মানসিকতার যাঁরা, তেমন লোকজন আমাকে সামলাচ্ছেন।

ছবি ভালো হলে নির্দিষ্ট সময়ে রিলিজের জন্য লড়ব না
  • ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নতুন প্রযোজক হিসেবে অঙ্কুশ কেমন কাজ করলেন ঐন্দ্রিলা?

Advertisement

ঐন্দ্রিলা: (অঙ্কুশের দিকে তাকিয়ে) প্রযোজনার দায়িত্ব এত বেশি সামলাচ্ছে যে ওকে সামলাতে আরও চার, পাঁচজন লোক লাগছে। এই ছবিতে প্রযোজক যেহেতু শিল্পী, কোথায় গিয়ে থামতে হবে বুঝতে একটু সমস্যা হয়ে যায়। অঙ্কুশের মাথার উপর কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা সামলে রাখেন। 
অঙ্কুশ: শুধু প্রযোজক মানসিকতার যাঁরা, তেমন লোকজন আমাকে সামলাচ্ছেন। 
ঐন্দ্রিলা: শ্যুটিংয়ে বেরনোর আগে টাকা বাঁচানোর প্রবণতা থাকে। আমাকেই জ্ঞান দেয়, তুমি কিন্তু ওখানে গিয়ে বলো না, এটা খাব, ওটা খাব। কিন্তু লোকেশনে পৌঁছে অঙ্কুশের মধ্যে আর প্রযোজক মানসিকতা কাজ করে না। আমি মনে করিয়ে দিই, তুমিই প্রযোজক, ভুলে যেও না। তোমার পকেট থেকেই যাচ্ছে কিন্তু। 
‌অভিনয় এবং প্রযোজনা, দুটো দায়িত্ব একসঙ্গে সামলানো কতটা কঠিন?
অঙ্কুশ: ‘মির্জা’র সময় খুব অসুবিধে হয়েছিল। আমার তো টিম নেই। এমনও হয়েছে, সংলাপ পড়ছি, একইসঙ্গে চেকে সই করছি। এবার আমার সহ প্রযোজকরা আগলে রেখেছিল। ফলে অভিনেতা হিসেবে অনেক মন দিতে পেরেছি।
এই ছবির ‘নারী চরিত্র’রা কতটা জটিল?
ঐন্দ্রিলা: আইডিয়াটা অঙ্কুশের। খুব সরল ভাবেই একদিন আমাকে বলেছিল, মেয়েদের নিয়ে একটা কনসেপ্ট ভেবেছি। নারী চরিত্র বেজায় জটিল। আমি বলেছিলাম, কেন? ও বলল, এত বছর ধরে তুমি আমার জীবনে রয়েছ। আর কী কনসেপ্ট মাথায় আসবে? সেটা শুনে খুব রাগ হয়েছিল। তারপর ভেবে দেখেছি, কিছু বিষয়ে নারীরা সত্যিই জটিল। কিছু বিষয়ে সেটা কাজে লাগে, কিছু ক্ষেত্রে কাজে লাগে না। কীভাবে তার সমাধান করছে অঙ্কুশ, সেটা নিয়েই ছবির গল্প। 
অঙ্কুশ: ছবির নামটা খুব রিলেটেবল। এটা চারদিকে দেখেই বলছি। আর এটা চিরকাল আমার মনের কথাই থাকবে (হাসি)।
ছবির বাকি চরিত্ররাও তাহলে গুরুত্বপূর্ণ?
ঐন্দ্রিলা: ছবিটা নায়ক, নায়িকাকেন্দ্রিক নয়। প্রতিটা চরিত্র গুরুত্বপূর্ণ। সোহাগ সেন, সোহিনী দাশগুপ্ত, ঈপ্সিতা, নবনীতা, আভেরি, দেবরাজ— প্রত্যেককে দেখলে ভালো না বেসে থাকতে পারবেন না। 
অঙ্কুশ: এই সিনেমার পার্শ্বচরিত্র আমি (হাসি)। কারণ গল্পটাই মেয়েদের।
স্ক্রিনিং কমিটি টলিউডের জন্য কতটা জরুরি?
অঙ্কুশ: সময় এর উত্তর দেবে। আমাদের যা কাজ, সেখানে দর্শকই শেষ কথা বলে। আসলে এখন খুব নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে গোটা ইন্ডাস্ট্রি চলছে। আমার ছবি পুজোয় না এলে, ক্রিসমাসে না এলে চলবে না। এই নিরাপত্তাহীনতার জন্য সকলেই বছরের নির্দিষ্ট সময়ে ছবি রিলিজ করাতে চাইছেন। নিজেদের মধ্যেই মারপিট, কথাকাটাকাটি হচ্ছে। সেজন্যই কমিটি তৈরি করা হয়েছে। দর্শকদেরও বলব, ছবি দেখার ইচ্ছে হলে সিনেমা হলে গিয়ে দেখুন, ওটিটিতে নয়। 
নিরাপত্তাহীনতায় আপনি কতটা ভোগেন?
অঙ্কুশ: এই ছবিটা ২৩ জানুয়ারি রিলিজ করব ভেবেছিলাম। সকলের আগে আমি ঘোষণা করেছিলাম। আমাকেই রিলিজের দিন পরিবর্তন করতে হল!
খারাপ লেগেছিল?
অঙ্কুশ: একেবারেই যে খারাপ লাগেনি, তা নয়। আমার কোনও ব্যক্তির উপর রাগ নেই। পরিস্থিতির উপর আমি বিরক্ত। যখন ডেট চেঞ্জ করলাম, তখন নিজেকে বোঝালাম, এই নিরাপত্তাহীনতায় কতদিন বাঁচব? যদি সত্যিই ছবি ভালো হয়, কোনও নির্দিষ্ট সময় ছবি রিলিজ করানোর জন্য লড়াই করব না। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা, যেন সেই ক্ষমতা যেন আমাকে দেন।
বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে কর্পোরেট বুকিং হয়?
অঙ্কুশ: অবশ্যই হয়। এটা তো ওপেন সিক্রেট। ধীরে ধীরে ইন্ডাস্ট্রির ৮০ শতাংশ কর্পোরেট বুকিংয়ের উপর নির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছে। 
আপনি করেন কর্পোরেট বুকিং?
অঙ্কুশ: আমার অত পয়সা কোথায়? একটা সময় কিছু মানুষকে বোকা বানানো গিয়েছিল। অনেকে মনে করেন, এখনও দর্শককে বোকা বানানো যাবে। এখন টিকিট কাটার ধরন দেখে দর্শক বুঝে যান কর্পোরেট বুকিং হয়েছে কি না। কিন্তু এটা ভবিষ্যৎ নয়। 
স্বরলিপি ভট্টাচার্য

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ