


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আগামী কাল, ৯ এপ্রিল কেরলে বিধানসভা নির্বাচন। এবারের ভোটে দক্ষিণের এই রাজ্য হাতছাড়া হলে দেশে কার্যত অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বে বামেরা। নির্বাচনের প্রাক্কালে এবিষয়ে তাই প্রবল সংশয় দানা বাঁধছে সিপিএমের অন্দরে। পাশাপাশি সিপিএমের কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াদিল্লির এ কে গোপালন ভবন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে কেরলে ‘হ্যাটট্রিকে’র সম্ভাবনা খুব বেশি জোরালো নয়। দলীয় মূল্যায়নেই এব্যাপারে আভাস মিলেছে।
কেরলে সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সরকার পালটে যাওয়াই দস্তুর। বিগত ১০ বছরে সেই ‘প্রবণতা’য় পরিবর্তন এসেছে। পরপর দু’বার ক্ষমতায় এসেছে সিপিএম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ জোট। তাই এবছর জয়ের ‘হ্যাটট্রিক’ করে কেরলে রেকর্ড ভাঙতে চাইছে সিপিএম তথা বাম দলগুলি। কিন্তু দলীয় মূল্যায়নের আভাস, আসন্ন নির্বাচন বামেদের জন্য কিছুটা হলেও বিপদসংকেত নিয়ে আসছে। এমনিতেই সারা দেশে সিপিএম তথা বামেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই চলছে। পশ্চিমবঙ্গ এবং ত্রিপুরার মতো এককালের বাম দুর্গ হিসাবে পরিচিত রাজ্যগুলিতে এই মুহূর্তে আর হালে পানি পাচ্ছেন না সিপিএম নেতারা। এই পরিস্থিতিতে বাম দলগুলির একমাত্র ভরসা কেরল। এ কে গোপালন ভবন সূত্রে ব্যাখ্যা, সারা দেশে বামেরা ফের শক্তিশালী হয়ে উঠে দাঁড়াতে পারবে কি না, তা অনেকাংশেই নির্ভর করছে কেরলে বিধানসভা ভোটের ফলাফলের উপর।
লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে ২০০৯ সাল থেকেই সিপিএম তথা বামেদের পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে বাম দলগুলির আশঙ্কা, কেরলে যদি ফল খারাপ হয়, তাহলে তিন বছরের মাথায় লোকসভা নির্বাচনে সারা দেশে জয়ী আসনের সংখ্যা লক্ষণীয়ভাবে কমে যাবে। সেক্ষেত্রে সঙ্গত কারণেই দলের সংগঠন সারা দেশে আরও তলানিতে এসে ঠেকবে। ক্রমে আশঙ্কা বাড়ছে সিপিএম তথা বাম শিবিরে।