নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: আবাস যোজনার সমীক্ষার সময়সীমা বাড়াল কেন্দ্র। নির্ধারিত সময় ছিল ১৫ আগস্ট। এর মধ্যে উপভোক্তা যাচাইয়ের কাজ শেষ সম্ভব নয়। তাই আরও বাড়তি ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরের সৃজনীতে পঞ্চায়েত দপ্তরের রিভিউ মিটিংয়ে এসে জানান পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘১৫ আগস্ট আবাস সার্ভে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কেন্দ্র আরও ১৫ দিন সময় বাড়িয়েছে। আমাদের টিম প্রতিটি বাড়িতে গিয়েই সার্ভে করবে। কেউ যদি বাদ পড়ে যান আমাদের জানালে দ্রুত সার্ভের টিম পাঠানো হবে।’
তৃণমূল জমনায় দীর্ঘদিন প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ আবাস যোজনায় টাকা পায়নি বাংলা। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর টাকা পেতে শুরু করেছে। উপভোক্তা খুঁজতে সার্ভের কাজ চলছে। কিন্তু, এখনও পর্যাপ্ত উপভোক্তা পাওয়া যাচ্ছে না। অগত্যা বিজেপি বিধায়করা নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়ার পেজে গরিব মানুষকে আবাসের জন্য আবেদন করার আর্জি জানাতে থাকেন। বুধবার দিলীপবাবুও সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই আর্জি করেন। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, ১৫ আগস্ট সার্ভের শেষ দিন। তার আগে নিজেরাও আবাস যোজনার সার্ভেতে অংশ নিতে পারবেন। তাঁর আশঙ্কা, এই সার্ভে শেষ হয়ে গেলে আবার কবে আবাস যোজনার সার্ভে হবে তাঁর কোনো নিশ্চয়তা নেই।
এদিন পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলাকে নিয়ে নিজের দপ্তরের রিভিউ বৈঠক শুরু করেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। জিআরজি প্রকল্পের রাজ্য কমিশনার সিয়াদ এন, পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক পোন্নমবলম এস, পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়াল সহ পঞ্চায়েত দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। মহকুমা শাসক থেকে বিডিওরাও ছিলেন। বৈঠকে ডাক পেয়েছিলেন দুই জেলার সব পঞ্চায়েতের সচিবরা। পঞ্চায়েত দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা কয়েকটি ব্লকের কাজ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সেই সব ব্লকের বিডিওদের মিটিংয়ে দাঁড় করিয়ে প্রশ্ন করা হয়, কেন তাঁর এলাকায় কাজের গতি কম। অনেকেই নতুন পোস্টিং হয়েছি বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। বহু ক্ষেত্রেই যে পরিমাণ টার্গেট দেওয়া হয়েছিল কিছু ব্লকের তাঁর ৫০ শতাংশ কাজ হয়েছে। এনিয়ে আধিকারিকরা বলেন, প্রতি ব্লকে ও পঞ্চায়েতে যে টার্গেট দেওয়া হয়েছে, তা ২০১১ সালের সার্ভের পরিপ্রেক্ষিতে। তারপর ১৫ বছর বহু পরিবার ভেঙেছে। তাই আরও বেশি সংখ্যায় উপভোক্তা খুঁজে পাওয়া উচিত ছিল। অথচ, মাত্র ৫০ শতাংশ টার্গেট সম্পূর্ণ করা গিয়েছে।
যদিও মন্ত্রী বলেন, পঞ্চায়েত দপ্তরের ১১ হাজার শূণ্যপদ রয়েছে। ব্যাপক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তার মধ্যে অন্য কাজ করতে হচ্ছে বলে হয়তো কিছু জায়গায় কাজের গতি কম। জেলাশাসকরা বলেছেন, কাজের গতি বৃদ্ধি পাবে।
কেন্দ্র টাকা বন্ধ করার পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার বাড়ি প্রকল্প শুরু করেন। ৩০ লক্ষ উপভোক্তাকে প্রথম কিস্তি টাকা দিয়েছিল তাঁর সরকার। তারপর বিজেপির জমানায় সার্ভে করতে গিয়ে যোগ্য উপভোক্তা পেতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রশাসনিক কর্তারা। যদিও দিলীপবাবু বলেন, দুর্নীতি করার জন্যই কেন্দ্র টাকা বন্ধ রেখেছিল। বাংলার বাড়ি প্রকল্পের সাড়ে বারো হাজার অযোগ্য নাম ছিল। তাঁদের প্রকল্পে টাকা ফেরাতে নোটিস দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও তৎকালীন একশো দিনের প্রকল্প, আবাস প্রকল্পে বেনিয়ম খতিয়ে দেখতে ১০ শতাংশ পঞ্চায়েতে অডিট করানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পুরনো জব কার্ডের বদলে জি রাম জি প্রকল্পের জন্য নতুন কার্ড ইস্যু করা হবে।