হেমতাবাদ থানার শতাব্দী প্রাচীন কালীপুজোয় অংশ নেন আইসি
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কালিয়াগঞ্জ: উত্তর দিনাজপুর জেলার শতাব্দী প্রাচীন কালীপুজোগুলির মধ্যে অন্যতম হল হেমতাবাদ থানাকালীর পুজো। দেশ স্বাধীনের আগে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয় এই পুজো। তেমন জাঁকজমক বা চাকচিক্য না থাকলেও এই পুজো ঘিরে এলাকাবাসীর আবেগ জড়িয়ে রয়েছে।

Advertisement

ঠিক কবে এই পুজো শুরু হয়েছিল তা স্থানীয় বাসিন্দারাও বলতে পারেন না। তবে ১০০ বছরের বেশী সময় ধরে হেমতাবাদ থানা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের যৌথ উদ্যোগে প্রাচীন বট গাছের নিচের মন্দিরে ঘটা করে দেবীর পুজো হয়ে আসছে। থানার পুলিশ আধিকারিক উপোস থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পুজোয় অংশ নেন। পুজোর দিন পুলিশ ও ব্লক ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা এই পুজোয় উপস্থিত থাকেন। 
পুজো ও দেবীকে নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন গল্প প্রচলিত রয়েছে। দেবী মায়ের কৃপা লাভে  এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশপাশের বহু এলাকার সব সম্প্রদায়ের মানুষ ছুটে আসেন। হেমতাবাদ থানার পুলিশের পাশাপাশি এলাকার বাসিন্দা সকলের সহযোগিতায় এই পুজোর আয়োজন করা হয়। বর্তমানে দেবীর মন্দির সাজানো, আলোকসজ্জা সহ মন্দির এলাকা সুসজ্জিত করার কাজ চলছে। 
মন্দিরের পুরোহিত কৌশিক চক্রবর্তী বলেন, প্রতি বছর কালী পুজোর রাতে ঘটা করে দেবীর আরাধনা করা হয়। পুজোর রাতে দেবীকে লুচি, পায়েস, মিষ্টি সহ অন্ন ভোগ দেওয়া হয়। প্রতি বছর থানার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারা মানত করে মন্দিরে পাঠা বলি দেন। 
স্থানীয় ইতিহাস গবেষক বৃন্দাবন ঘোষ বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে এই পুজো শুরু হয়েছিল। পুজোতে পাঠা বলি দেওয়া হয়। পুলিশ ও এলাকার বাসিন্দাদের মিলন মেলায় পরিণত হয় মন্দির প্রাঙ্গণ। 
স্থানীয়রা জানান, হেমতাবাদ থানা মাঠের এক প্রান্তে প্রথম মায়ের পুজো  শুরু হয়েছিল। পরে টিনের চালার ঘরে মাটির প্রতিমায় দেবীর পুজো করা হত। ক্রমে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ মিলে পাথরের মূর্তি ও দেবীর স্থায়ী মন্দির নির্মাণ করেন। এখন এখানেই দেবীর পুজো হয়। হেমতাবাদ থানার আইসি সমর রায় বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে পুজো কমিটি গড়ে পুজোর আয়োজন করা হয়। পুলিশ ও তাঁদের পরিবার এই পুজোয় শামিল হন। পুজোতে পুলিশ আধিকারিকরা উপস্থিত থাকেন। পুজোকে কেন্দ্র করে সাজানো হচ্ছে স্থায়ী মন্দির ‌ও সংলগ্ন এলাকা। • নিজস্ব চিত্র।