নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শনিবার ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ১০টা। টালিগঞ্জ গণধর্ষণকাণ্ডের তদন্তে অকুস্থলে গিয়ে পৌঁছেছে হরিদেবপুর থানার বিশাল বাহিনী। ২৯/৩, রিজেন্ট কলোনি। তিনতলা বাড়ির একতলায় ভাড়া থাকত দেবাংশু। কলিং বেল বাজাতে শুরু করেন উর্দিধারীরা। বেরিয়ে আসেন বছর পঞ্চাশের এক মহিলা। ‘দেবাংশু কোথায়?’ পুলিশের প্রশ্নের জবাবে মহিলা বলে দেন— ‘ছেলে কোথায় আমি জানি না।’ ‘আপনার ফোনে নম্বর তো আছে, সেটা দিন’। তদন্তকারীদের এই দাবি শুনেই হাতে থাকা মোবাইল ফোন মাটিতে আছাড় দিলেন মহিলা! বলে উঠলেন— ‘কিছুতেই দেব না...।’
চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ততক্ষণে রিজেন্ট কলোনিতে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন প্রতিবেশীরা। আর পুলিশের সঙ্গে তদন্তে চরম অসহযোগিতা ক্রমশ বাড়ছে গণধর্ষণকাণ্ডের অভিযুক্ত দেবাংশু বিশ্বাস ওরফে দীপের মায়ের। রাত পর্যন্ত রীতিমতো নাটক চলল অভিযুক্তের ভাড়াবাড়িতে। তদন্তকারী সূত্রের খবর, প্রথমে দরজা খুলতেই রাজি ছিলেন না মহিলা। কোনওক্রমে তা খোলানো হলেও, পুলিশকে তাড়াতে শুধু বাকি রেখেছিলেন তিনি। তারই মাঝে দেবাংশুর মা পুলিসকে জানান, বছর পাঁচেক আগে তাঁর স্বামী মারা যান। তিনি রাজ্য সরকারি কর্মী ছিলেন। চাকরিজীবনে মৃত্যুর ফলে বাবার চাকরি পায় ছেলে দেবাংশু। ন’মাসের জন্য রিজেন্ট কলোনির এই বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন তাঁরা।
প্রতিবেশীরা জানান, উর্দিধারীরা গলার স্বর তুলতেই পাল্টা হুমকি দেন অভিযুক্তের মা। বলেন, এই ব্যবহারের জন্য পুলিশের শীর্ষমহলে লিখিত অভিযোগ জানাবেন তিনি। ছেলেকে পুলিশের হাত থেকে বাঁচাতে গভীর রাত পর্যন্ত ‘লড়াই’ চালিয়ে যান তিনি। সূত্রের খবর, প্রাথমিকভাবে দেবাংশুর মা বলেন, ছেলের নম্বর ফোনে নেই। পরে জেরার সামনে বলেন, নম্বর আছে, কিন্তু ফোন থেকে কীভাবে তা বের করে, তা জানা নেই। তদন্তকারীরা বলেন— ‘আপনি ফোনটা মহিলা পুলিশকে দিন। ওরা নম্বর নিয়ে আবার আপনাকে ফেরত দেবে।’ পাশের ফ্ল্যাটের এক প্রতিবেশী বলেন, মহিলা পুলিশ তাঁর দিকে এগতেই মাটিতে ছুড়ে মোবাইল ভেঙে ফেলেন মহিলা। দেবাংশুর বাড়িওয়ালা স্মিতা সরকার বলেন, ‘সাত মাস আগে ভাড়া নেয় দেবাংশু। রাত পর্যন্ত মাঝেমধ্যেই পার্টি চলত। বন্ধু-বান্ধবীদের আনাগোনা ছিল। মদ্যপানের গন্ধ পাওয়া যেত। বাড়িতে মা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে দেদার ফূর্তি চলত? বুঝতে পারছি না।’ - নিজস্ব চিত্র