নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উদয় যাদব। গার্ডেনরিচের বাসিন্দা। শুক্রবার ধর্মতলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনা মঞ্চে তিনি হাজির হন অভিনব সাজে। পরণে সাদা জামা। মাথা ন্যাড়া। সেখানে লেখা, এসআইআর-ইসিআই। তাঁর গলায়, হাতে, পায়ে লোহার শিকল বাঁধা। বুকে ঝুলছে প্ল্যাকার্ড—‘আমি নাগরিক’। প্রতিবাদের এই এক খণ্ডচিত্রই বুঝিয়ে দিয়েছে, এসআইআর নিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ঠিক কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এদিন ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনা কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় দুপুর ২টো থেকে। মমতা অবশ্য তার বেশ কিছুক্ষণ আগেই ধরনা মঞ্চে চলে আসেন। বেলা ১২টা থেকেই জমায়েত শুরু হয়ে যায় মঞ্চের সামনে। মতুয়া, রাজবংশী, তফসিলি জাতি-উপজাতি, আদিবাসী হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে বহু মানুষ হাজির হয়েছিলেন। অপরিকল্পিত এসআইআর-এর বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইয়ের পাশে দাঁড়াতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ এসেছিলেন। দীর্ঘদিন পর মমতার মঞ্চে এদিন দেখা যায় প্রখ্যাত গায়ক কবীর সুমনকে। গানের ছন্দেই তিনি তাঁর প্রতিবাদ ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘এসআইআরের বিরুদ্ধে যে লড়াই শুরু হয়েছে, তাতে বাংলা জিতবেই।’ এদিন ধরনা মঞ্চে এসেছিলেন বিশিষ্ট কবি জয় গোস্বামী। সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় তিনি মমতার পাশে ছিলেন। সেই স্মৃতি রোমন্থন করেন জয়। তারপর ঘোষণা করেন, ‘আমৃত্যু আমি মমতার পাশেই থাকব।’ মমতার এদিনের ধরনা কর্মসূচিতে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি শামিল হয়েছিলেন আরও কবি-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী ও সমাজের বিশিষ্টজন। সমকামী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম মুখ মানেকা গুরুস্বামীকে রাজ্যসভায় পাঠাচ্ছে তৃণমূল। এদিন তিনি প্রথমবার তৃণমূলের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এসে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। এই মঞ্চেই প্রথমবার দেখা গিয়েছে প্রাক্তন পুলিশকর্তা, বর্তমানে রাজ্যসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী রাজীব কুমারকেও।