


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২১ জুলাইয়ের সভা থেকে বিজেপিকে চড়া সুরে আক্রমণ করলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও অরূপ বিশ্বাস। তাঁরা জানিয়ে দিলেন, বাংলার বিরুদ্ধে যে চক্রান্ত বিজেপি শুরু করেছে, তার জবাব ওরা ভোট বাক্সেই পাবে। বাংলার মানুষ বিজেপিকে জবাব দেওয়ার জন্য তৈরি। সোমবার ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে শহিদ দিবসের সমাবেশ করে তৃণমূল। এই সভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অভিমুখ ঠিক করে দিয়েছেন জোড়াফুল শিবিরের নেতারা। তাঁরা রীতিমতো তথ্য তুলে ধরে গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, মহারাষ্ট্র, অসম, ওড়িশা সহ বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলা ভাষাভাষীদের উপর আক্রমণের কাহিনি জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফিরহাদ হাকিম স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলামের মতো মানুষের গৌরবজনক ইতিহাস উল্লেখ করেন। সেই সঙ্গে বাংলা ভাষাভাষীদের যেভাবে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে হেনস্তা করা হচ্ছে বিজেপি শাসিত রাজ্যে, তার জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ফিরহাদের চ্যালেঞ্জ, ‘আমি বাংলা ভাষায় কথা বলব। দেখি কে আমার কলার ধরে! বাংলা ভাষাকে যারা আক্রমণ করছে, তাদের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার এখনই সময়। বাংলার অসম্মান করেছিল বলে বিজেপিকে বাংলার মাটিতে পরাজিত করা হয়েছে। সংসদ থেকেও নরেন্দ্র মোদির দলকে তুলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে তৃণমূল।’ একই প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন আরেক মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘বাংলা ভাষাকে যারা আক্রমণ করছে, তাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই যোগ্য জবাব দিতে হবে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে ২৬ আসনে নামিয়ে আনব, এটাই আমাদের শপথ।’
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপি ৭৭টি আসনে জয়ী হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে উপ নির্বাচনে হার এবং একাধিক বিধায়কের দল বদলের পর এখন বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ৬৫’র নীচে নেমে গিয়েছে। তাদের আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কেন ২৬ আসনে নামিয়ে আনতে হবে, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন অরূপবাবু। তাঁর বক্তব্য, ‘একাধিক প্রকল্পে টাকা বন্ধ করে দিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বাংলাকে ভাতে মারার চেষ্টা করছে। বাংলার বিরুদ্ধে নানাভাবে চক্রান্ত করছে বিজেপি। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছে। আর এখন বাংলা ভাষায় কথা বললেই আটক বা গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এর জবাব দিতে হবে।’