


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গোটা এসআইআর প্রক্রিয়ায় টার্গেট করা হয়েছে সমাজের একটি সম্প্রদায়ের মানুষকেই। বিজেপির কথামতো ভোটার তালিকা থেকে বেছে বেছে সংখ্যালঘুদের নাম বাদের চক্রান্ত করছে নির্বাচন কমিশন। বিধানসভা ভোটের মুখে তৃণমূলের তরফে বারবার তোলা হয়েছে এই অভিযোগ। শনিবার রেড রোডে ইদের জমায়েতে সেই ইস্যুতেই প্রধানমন্ত্রীকে চড়া সুরে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রত্যয়ী গলায় শপথ নিলেন—‘আমাদের অধিকার নরেন্দ্র মোদিকে কেড়ে নিতে দেব না! কিছুতেই প্রকৃত নাগরিকের ভোটাধিকার কাড়তে দেব না।’ জমায়েতে হাজির তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও নিশানায় ছিল গেরুয়া শিবির। সাফ বললেন, ‘কেউ কেউ মনে করছেন, ভোটার তালিকায় মানুষের নাম মুছে দিয়ে ভাইয়ে ভাইয়ে লড়াই লাগাবেন। সাধারণ মানুষকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেবেন। তাঁদের মনে রাখা উচিত, মানুষ জীবন দিতে প্রস্তুত, কিন্তু মাথা নত করতে নয়।’ পরে অভিষেককে সঙ্গে নিয়ে ইদের নামাজের অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
মোদি জমানায় দেশের মানুষ কতটা দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, সেটাই এদিন খোলসা করেছেন মমতা এবং অভিষেক। বাংলার আপামর মানুষের কাছে তাঁদের আবেদন, ২৬’এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের সমস্ত মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোট বাক্সে বিজেপিকে জবাব দিন। মুসলিম দেশ সফরের সময়কার ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেশে থাকাকালীন নরেন্দ্র মোদির যে কোনো মিলই নেই, এদিন সেকথাও উল্লেখ করেন মমতা। বলেন, ‘মোদিজি সৌদি আরবে যান এবং সেখানে গিয়ে সবার সঙ্গে হাত মেলান, একাত্ম হয়ে যান। কিন্তু দেশে ফিরেই সেই হিন্দু-মুসলিমের কাহিনি শুরু হয়ে যায়। এরপর ওঁরা নাম বাদ দেওয়ার ডাক দেন, মানুষকে অনুপ্রবেশকারী বলে তকমা দেন। আমি বলব, আপনারাই সবথেকে বড় অনুপ্রবেশকারী।’
এসআইআর প্রক্রিয়ায় ইনিউমারেশন ফর্ম বিলি শুরুর দিন থেকে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে সরব তৃণমূলনেত্রী। এমনকি সাধারণ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত সওয়াল করেছে। সম্প্রতি ভোটঘোষণার দিন রাত থেকে রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকদের ক্রমাগত বদলি এবং বিভিন্ন ঘটনায় সেই ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে। সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন, ‘এ যেন রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়েছে!’ সেই সূত্রেই এদিন মমতা বলেন, ‘ওরা সবাইকে সরিয়ে দিয়েছে এবং সেই জায়গাগুলোতে বিজেপি নেতাদের বসানোর পরিকল্পনা করছে। এমন কিছু বিশ্বাসঘাতকও আছে, যারা ভোট ভাগ করার জন্য বিজেপির কাছ থেকে টাকা নিতে শুরু করেছে। যারা বাংলার ক্ষতি করতে চায়, তাদের কৃতকর্মের ফল ভোগ করতে হবে।’
এদিন ইদের জমায়েতে বিজেপিকে নিশানা করেছেন অভিষেকও। তাঁর কথায়, ‘কেউ কেউ বলেন, হিন্দুরা বিপদে আছে। আবার অন্য কয়েকজন বলেন, মুসলমানরা বিপদে আছে। আমি ওই বিজেপি নেতাদের বলব, ধর্মের চশমা খুলে দেখুন... দেশ আজ বিপদে।’ শান্তি, সম্প্রীতি, সংহতি— এটাই বাংলার চিরন্তন ঐক্য। সেই ঐক্য অটুট রাখার রাখার বার্তাও দিয়েছেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন-কমান্ড। বলেছেন, ‘মনে রাখবেন, রমজানে আছে ‘রাম’। দিওয়ালিতে আছে ‘আলি’। চাঁদ দেখেই আমরা ইদ এবং কারওয়া চৌথ দুটোই উদযাপন করি। ভারতে মন্দিরের ঘণ্টার আওয়াজ এবং মসজিদের আজান সমানভাবেই ধ্বনিত হয়।’