Bartaman Logo
৩১ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রাস্তার লোক, রাস্তায় ছিলাম, আমি রাস্তাতেই থাকব: মমতা

ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও মমতার দাবি, গণনা কেন্দ্রে লুট করা হয়েছে।

রাস্তার লোক, রাস্তায় ছিলাম,  আমি রাস্তাতেই থাকব: মমতা
  • ৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও মমতার দাবি, গণনা কেন্দ্রে লুট করা হয়েছে। এই আবহে তাঁর আগামী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মমতা বলেন, আমি রাস্তার লোক, রাস্তায় ছিলাম, রাস্তাতেই থাকব। 

Advertisement

অর্থাৎ রাজনৈতিক মহল মনে করছে ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ক্ষমতায় আসার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যেভাবে বিরোধী নেত্রীর ভূমিকায় দেখা যেত, হয়তো আগামী দিনে সেইভাবেই তাঁকে পাওয়া যাবে। মঙ্গলবার কালীঘাটে নিজের বাসভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা বলেন, আমি এখন মুক্ত পাখি। যেখানে ইচ্ছা যেতে পারি।
সোমবার বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হয়েছে। বিজেপির কাছে পরাজিত হয়েছে তৃণমূল। ভোটের ফলাফল সম্পর্কে মঙ্গলবার ব্যাখ্যা দেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর বক্তব্য, এবারের নির্বাচনে ভিলেন হল নির্বাচন কমিশন। বিজেপির সঙ্গে নির্বাচন কমিশন হাত মিলিয়েছিল। কমিশন ও বিজেপি মিলে যোগসাজশ করেছিল আর গুন্ডামি করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ফলে বিজেপিকে জেতানোর জন্য সব সংস্থার গট আপ ছিল। আর গণনার দিনে শতাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে লুট করা হয়েছে। ৪ মে গণতন্ত্রের ইতিহাসে কালো দিন। মমতার সংযোজন, বিভিন্ন সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপির এবারের সন্ত্রাস সমস্ত সন্ত্রাসকে ছাপিয়ে গিয়েছে। ভবানীপুরের গণনা কেন্দ্রে আমাকেও মারা হয়েছে। আমাদের কাউন্টিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে বিজেপি গুন্ডামি চালিয়েছে গণনাকেন্দ্রে।
মমতার দাবি, গণনার দিনে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি লুট না করলে, তৃণমূল দুশোর বেশি আসনে জিতত। ফলে আমরা হারিনি। তৃণমূল তথ্য পেয়েছে, একাধিক ইভিএমে ৮০-৯০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যাটারি চার্জ ছিল। যে ইভিএমে ভোট হল, স্ট্রংরুমে পড়ে থাকল, তারপর ওই মেশিনগুলিতে ৮০ শতাংশের উপরে ব্যাটারি চার্জ থাকে কী করে?
বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি বিরোধী দলগুলির একাধিক নেতা তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁরাও মনে করেন, গোটা ভোট প্রক্রিয়ায় বিজেপি-কমিশনের ষড়যন্ত্র আছে। সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজিওয়াল, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, হেমন্ত সোরেন, উদ্ধব ঠাকরের মতো নেতারা মমতাকে ফোন করেন। বুধবার অখিলেশ কলকাতায় আসছেন। মমতার সঙ্গে দেখা করবেন তাঁরা। মমতাও জানিয়েছেন, মহাজোট ইন্ডিয়াকে আরো শক্তিশালী করা হবে। তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটের দিনে কেন্দ্রীয় বাহিনী গুন্ডামি চালিয়েছে, আর গণনা মিটতেই শুরু হয়েছে বিজেপির সন্ত্রাস। তৃণমূল নেত্রী জানান, তাঁর দলের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে, ভাঙচুর করা হয়েছে বাড়ি ও পার্টি অফিস। মৃত্যুর ঘটনাও সামনে এসেছে। মমতার দাবি, কিন্তু ২০১১ সালে আমরা ক্ষমতায় আসার সময় স্লোগান দিয়েছিলাম, ‘বদলা নয়, বদল চাই’। দলের কর্মীরা নিজের সুরক্ষার জন্য যদি অন্য দলে যান, আমার কিছু বলার নেই। আমি বিশ্বাস করি, তাঁরা মনে-প্রাণে তৃণমূলই থাকবেন। আর তৃণমূল প্রার্থীরা কোথাও সাবোতাজ করেননি। 
মানুষের স্বার্থে লড়াই করেই তৃণমূল ২০১১ সালে বাংলায় ক্ষমতায় এসেছে, লড়াই করে আবারও বাংলার মসনদে ফের জোড়াফুলই আসবে। স্থির বিশ্বাস তৃণমূল নেত্রীর। তাঁর বক্তব্য, আমরা বাঘের মতোই লড়াই করেছি। লড়াই করেই আবার ফিরে আসব।  সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার অতূণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা ছবি।  

সম্পর্কিত সংবাদ