Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘দুর্নীতি নিয়ে সতর্ক করেছিলাম’, রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিয়ে মন্তব্য সুখেন্দুশেখরের

‘দুর্নীতি নিয়ে সতর্ক করেছিলাম’, রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিয়ে মন্তব্য সুখেন্দুশেখরের
  • ৯ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: বারবার বলা সত্ত্বেও না শুধরানোয় বিবেকের তাড়নায় সোমবার পদত্যাগ করলেন সুখেন্দুশেখর রায়। রাজ্যসভা তো বটেই, ছাড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য পদও। রাজ্যসভার সচিবলায় তাঁর ইস্তফা গ্রহণের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েও দিয়েছে। এদিন সকালে চার্চ রোডে দেশের উপরাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণানের বাড়ি গিয়ে ইস্তফা দেন সুখেন্দুবাবু। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তাঁর কাছে জানতে চান, কারো কোনো চাপে ইস্তফা দিচ্ছেন না তো? সজ্ঞানে ইস্তফা দিচ্ছেন? জবাবে সুখেন্দুবাবু জানান, সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় সজ্ঞানে ইস্তফার চিঠিতে আপনার সামনে বসে সই করছি। 

Advertisement

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সুখেন্দুবাবুর পথ ধরে আগামী দিনে রাজ্যসভাতেও তৃণমূলে ভাঙন হতে চলেছে। মূলত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপথ্য অন্ধ স্নেহ আর রাজ্যসভায় দলের নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনের ছড়ি ঘোরানোর অভিযোগেই তৃণমূল সাংসদদের একাংশ বিরক্ত ব঩লেই দলীয় সূত্রে খবর। সেই মতো আগামী দিনে কোয়েল মল্লিকের মতো কয়েকজন ইস্তফা দিতে পারেন। দলের রাজ্যসভার এক তৃণমূল সাংসদ তথা প্রাক্তন মন্ত্রীও বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। 
ইস্তফা দেওয়ার পর এদিন সুখেন্দুবাবু বলেন, ‘চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনি। তৃণমূলের দুর্নীতি নিয়ে বহুবার দলের অন্দরে সতর্ক করেছি। আর জি কর কাণ্ডের পরেও মানুষের মন কোন দিকে যাচ্ছে তা জানিয়েছিলাম। মানুষের সমর্থন কমছে বলেও সতর্ক করেছিলাম। কিন্তু শোনেনি। তাই আর থাকতে না পেরে ইস্তফা দিলাম। তৃণমূল থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়ে দিয়েছি। 
এদিকে সুখেন্দুশেখর ইস্তফা দেওয়ায় রাজ্যসভায় তৃণমূলের একটি আসন খালি হল। ওই আসনে উপনির্বাচনে হলে তৃণমূলের জেতা অসম্ভব। কারণ-সংখ্যাতত্ত্বের হিসাবে বিজেপি অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। তথ্য বলছে, রাজ্যের বিধানসভা আসন ২৯৪টি। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী ও হুমায়ুন কবীর দুটি করে বিধানসভা আসনে নির্বাচিত হন। তারপর শপথগ্রহণ পর্বে তাঁরা একটি করে আসন থেকে ইস্তফা দেন। ফলে এখন রাজ্যে বিধায়ক সংখ্যা ২৯২ জন। রাজ্যসভার যদি একটি আসনে নির্বাচন হয়, তাহলে একাধিক প্রার্থী থাকতে পারেন। এই  (১+১) ফর্মুলায় মোট বিধায়ক সংখ্যা ভাগ করা হবে। তারসঙ্গে এক যুক্ত হবে। অর্থাৎ এখন যদি একটি রাজ্যসভার আসনে নির্বাচন হয় তাহলে ১৪৭ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন হবে। কিন্তু তা তৃণমূলের হাতে নেই। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ৮০ জন তৃণমূল বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তা ভেঙেও যায়। ফলে বিধায়ক সংখ্যার নিরিখে একটি রাজ্যসভার আসনের নির্বাচনে তৃণমূলের জেতা সম্ভব নয়। যদি পরবর্তীকালে দুই বা অধিক রাজ্যসভার আসনে নির্বাচন হয়, তাহলে অঙ্ক আবার বদলে যাবে। সুখেন্দুশেখর রায়ের রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে মেয়াদ ছিল ২০২৯ সালের ১৮ আগস্ট পর্যন্ত। ফলে তিন বছর দুই মাস বাকি থাকতেই সুখেন্দুবাবু পদ ছেড়ে দিয়েছেন। এখন এই সময়কালের জন্য অন্য একজন সাংসদ নির্বাচিত হবেন।

সম্পর্কিত সংবাদ