নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় মোট বিধানসভা আসন ৩৩টি। রাজনৈতিক মহল মনে করে, বিধানসভা ভোটের সার্বিক ফলাফল এই জেলার উপর অনেকটা নির্ভরশীল। তাই এখানে সংগঠনে কোনও খামতি রাখতে চায় না তৃণমূল। দলের বৈঠকে জানিয়ে দেওয়া হল, তৃণমূলের ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার। সেই কথা মাথায় রেখে দলের দমদম-বারাকপুর সাংগঠনিক জেলার ১৪টি বিধানসভা সহ সবক’টি আসনেই জয়ের লক্ষ্য নিয়ে ঝাঁপাতে হবে। সংগঠন শক্তিশালী আছে বলে কোনও বিধানসভা কেন্দ্রকে হাল্কাভাবে নেওয়া চলবে না।
সোমবার দমদম-বারাকপুর এবং বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভা ভিত্তিক সংগঠন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সূত্রের খবর, ব্লক ও টাউন সভাপতিদের নাম দিন কয়েকের মধ্যে ঘোষণা করবে তৃণমূল। তার আগে এদিন বৈঠকে বিধায়কদের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হয়েছে।
দমদম-বারাকপুর সাংগঠনিক জেলার ১৪টি বিধানসভার মধ্যে বর্তমানে ১৩টি রয়েছে তৃণমূলের দখলে। একমাত্র ভাটপাড়া কেন্দ্রটি রয়েছে বিজেপির হাতে। ছাব্বিশের ভোটে এই বিধানসভা আসনেও জোড়াফুল ফোটানোর ‘টার্গেট’ নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, বৈঠকে অভিষেক বলেছেন, শুধুমাত্র ভাটপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কেন পিছিয়ে থাকবে? এই কেন্দ্রেও যাতে আগামী দিনে জোড়াফুল ফোটে, সেই চেষ্টা সবাই মিলে করতে হবে। দলীয় সূত্রে খবর, ভাটপাড়া সহ কয়েকটি জায়গায় স্থানীয় স্তরে সাংগঠনিক রদবদল হতে চলেছে।
বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে মতুয়া ভোটের প্রসঙ্গ আসে। প্রশ্ন উঠেছে, কেন ভোটের সময় মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষজন তৃণমূল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন? ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বনগাঁ কেন্দ্রে তৃণমূল ভালো লড়াই করেও কেন হেরে গেল, অভিষেকের এই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে জেলার নেতাদের। বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে এখন তৃণমূলের বিধায়ক রয়েছেন স্বরূপনগর ও বাগদায়। বনগাঁ উত্তর, বনগাঁ দক্ষিণ, গাইঘাটা বিধানসভা বিজেপির দখলে রয়েছে। তবে বাগদা বিধানসভা এলাকায় তৃণমূলের সংগঠন ততটা শক্তিশালী নয়। তাই এই চারটি বিধানসভার দিকে আরও নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অভিষেক। সেই সঙ্গে তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, ‘জেলার সব ক’টি আসনেই জিততে হবে। নিজেদের মধ্যে কোনও মতপার্থক্য রাখা যাবে না। যাঁরা দলের স্বার্থে দায়িত্বপালন করছেন না, তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।’