যে পথে যান উমা, সে পথেই আসেন শ্যামা...। সোমবার শক্তি আরাধনায় শামিল হবে গোটা বাংলা। বারাসত, নৈহাটিতে উপচে পড়বে উৎসবপ্রিয় বাঙালি। তার ঠিক আগে শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে দুই প্রধানের মর্যাদার লড়াই। অতীতেও কালীপুজো এবং দীপাবলির আবহে মুখোমুখি হয়েছে মোহন বাগান-ইস্ট বেঙ্গল। তেমনই ম্যাচের স্মৃতিচারণায় ইমানুয়েল ওপোকু
‘মোহন বাগানকে হারাতেই হবে। ওদের কিন্তু চিমা আছে...।’ ইস্ট বেঙ্গল তাঁবুতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছিল আবদার। শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হওয়ার জোগাড়। একদিন ট্যাক্সি চড়ে প্র্যাকটিসে যাচ্ছি। কাতর স্বরে চালক বলে উঠলেন, ‘যে করে হোক, ডার্বি জিতিয়ে দিন।’ ইস্ট বেঙ্গল তাঁবুর সামনে নামার পর ভাড়াও নিতে চাননি তিনি। এই ঘটনা মনে দাগ কেটেছিল। প্রতিজ্ঞা করি, লাল-হলুদ সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতেই হবে। পরবর্তীতে তিন ঘানাইয়ান মুসা, জ্যাকসন ও ওপোকুর পারফরম্যান্সের বিচারের ভার সমর্থকদের। তবে এটুকু বলতে পারি, ফুটবল কেরিয়ারে সোনালি দিন কেটেছে কলকাতায়।
১৯৯৮ সাল। ঘানা লিগে এক ম্যাচের পর আমায় ইস্ট বেঙ্গলে খেলার প্রস্তাব দেন স্বপন বল। শুনলাম, শুধুমাত্র ফুটবলার বেছে নিতে ভারত থেকে উড়ে এসেছেন তিনি। কলকাতায় খেলার বিষয়ে মানসিক দ্বিধা ছিলই। স্বপনের কাছে কিছুটা সময় চেয়ে নিয়েছিলাম। আমার মনের ভাব বোধহয় পড়তে পেরেছিলেন ইস্ট বেঙ্গল প্রতিনিধি। পরের কয়েকটা দিন ছায়ার মতো ঘুরলেন আমার সঙ্গে। পারলে বেডরুমেও বোধহয় ঢুকে পড়েন! শেষ পর্যন্ত সম্মতি আদায় করে তবে ছুটি। আমার কেরিয়ারে সেরা ফুটবল ম্যানেজার স্বপন বলই।
লাল-হলুদ জার্সিতে প্রচুর ঘটনার সাক্ষী। তবে ডুরান্ড কাপের সেমি-ফাইনাল কখনও ভোলার নয়। পুরনো খবরের কাগজের কাটিংও রয়েছে সংগ্রহে। ২৯ অক্টোবর, ১৯৯৮। দিল্লির আম্বেদকর স্টেডিয়ামে ধুন্ধুমার লড়াই। শেষ পর্যন্ত মোহনবাগানকে ২-০ গোলে পরাস্ত করে ফাইনালে পৌঁছই আমরা। তার এক সপ্তাহ আগেই ছিল আপনাদের দীপাবলি। ফেস্টিভ সিজনে এই জয় জীবনে কোনওদিন ভুলব না। শনিবার আরও একটা ডার্বি। আশা করব, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে বশ মানিয়ে শিল্ড জিতবে আমার প্রিয় ক্লাব। সুদূর ঘানায় থাকলেও আমি যে ইস্ট বেঙ্গলেরই ছেলে।