Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

দলের স্বার্থে দুটো ইঞ্জেকশন নিয়েও খেলেছিলাম: ভাস্কর

দলের স্বার্থে দুটো ইঞ্জেকশন নিয়েও খেলেছিলাম: ভাস্কর
  • ৭ জুলাই, ২০২৫ ১৬:০৭
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যের বড় চোট। হাঁটু ফুলে ঢোল ভাস্কর গাঙ্গুলির। লিগে মহমেডান ম্যাচের আগে প্রবল চিন্তায় ইস্ট বেঙ্গল। ১৯৮৫-র ঘরোয়া লিগে প্রবল দাপট দেখাচ্ছিল মহমেডান স্পোর্টিং। প্রতিপক্ষের বক্সে ত্রাস ছড়াচ্ছেন গনগনে চিমা ওকেরি। এমন একটা ম্যাচে ইস্ট বেঙ্গল কোচ পিকে ব্যানার্জির মাথায় হাত। মনা নেই। ভাস্করেরও একই হাল। দাঁড়ানোর ক্ষমতাটুকুও নেই। ওদিকে ড্রেসিং-রুমে টেনশনে কাবু ভাস্করের বদলি। দুর্গরক্ষা করবেন কে? বেগতিক দেখে ইঞ্জেকশন নিয়ে মাঠে নামলেন ভাস্করই। বাকিটা ইতিহাস। এত বছর পরেও লাল-হলুদ সমর্থকদের মনে সেই ম্যাচের স্মৃতি টাটকা। ভাস্করের স্মৃতিচারণ, ‘একটা নয়, সেদিন দুটো ইঞ্জেকশন নিয়ে মাঠে নেমেছিলাম। পইপই করে মানা করেছিলেন ডাক্তার এমএস ঘোষ। কোনও কথা শুনিনি। ম্যাচের পর জড়িয়ে ধরেছিলেন প্রদীপদা। আজ সেই লিগের এমন করুণ অবস্থা দেখে খারাপ লাগে।’ জাতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়কের আক্ষেপ স্বাভাবিক। ঘরোয়া লিগের সেই উত্তেজনা, উন্মাদনা স্রেফ গল্পকথা। ভাস্করের ব্যাখ্যা, ‘ঘেরা মাঠে খেলার মজাটাই আলাদা। এটাই কেউ বুঝলেন না।’

Advertisement

ভাস্কর মানেই রূপকথার প্রত্যাবর্তন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে নজর কাড়ার পরেই সরাসরি মোহন বাগান। ১৯৭৫ সালে আইএফএ শিল্ড ফাইনালে সবুজ-মেরুন জার্সিতে দুর্গরক্ষার দায়িত্বে তিনি। কেরিয়ারের অভিশপ্ত ম্যাচ। ৫ গোলের মধ্যে চারটি হজম করে মাঠেই ডুকরে কেঁদে উঠেছিলেন তরুণ ভাস্কর। অনেকেই ভেবেছিলেন কেরিয়ারের ইতি। ছেঁটে ফেলতে সময় নেয়নি গঙ্গাপাড়ের ক্লাব। সেই ভাস্করই লাল-হলুদ জার্সিতে হয়ে ওঠেন দুর্ভেদ্য। এমনকী ১৯৮২’র এশিয়ান গেমেসে ভারতের অধিনায়কও তিনি। বর্তমানে জাতীয় দলে বঙ্গসন্তান খুঁজে পাওয়া যায় না। ভাস্করের আপশোস, ‘সাপ্লাই লাইনই বন্ধ। ঘরোয়া লিগকে গুরুত্ব না দেওয়া আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। সিনিয়রদের খেলানো হয় না। কোনওরকমে টুর্নামেন্ট শেষ করাই লক্ষ্য। যা হওয়ার তাই হচ্ছে।’ 
ডাকাবুকো প্রাক্তন গোলরক্ষক বরাবর স্পষ্টবাদী। তাঁর যুক্তি, ঘরোয়া লিগ শক্তিশালী না হলে সাফল্য আসবে না। বলছেন, ‘খেয়াল করে দেখুন, ঠাসা শিডিউলের মধ্যেই ফিফা কিন্তু ক্লাব বিশ্বকাপ চালু করেছে। অথচ আমাদের দেশে টুর্নামেন্ট বন্ধ করাই নিয়ম। এভাবে চললে ফুটবলই উঠে যাবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ